অনলাইনে এনআইডি বা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করে দীর্ঘদিন বায়োমেট্রিক তথ্য না দেওয়া আবেদনকারীদের ঝুলে থাকা আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিসের তথ্য দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে সেই আবেদন আর বহাল থাকবে না।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের আলোকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।
ইসি জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো নাগরিক নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার পর মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে কিংবা নির্ধারিত বুথে গিয়ে সময়মতো বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আবেদনটি সার্ভার বা সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
এর ফলে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে অপ্রয়োজনীয় আবেদনের চাপ কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে আবেদন ঝুলিয়ে রাখার সুযোগও বন্ধ হবে।
এদিকে সার্ভার ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে জমে থাকা পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র নিষ্পত্তির বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি। ২০১২ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষিত স্ক্যান করা ও আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) এবং কার্যালয়ের গুদামে রাখা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মাঠপর্যায়ের সব কার্যালয়কে এসব নথিপত্র সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
তবে পুরোনো সব নথির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম আগের মতোই গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে শুধু ২০১২ সালের পর থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে সংরক্ষিত ফরমগুলোর কাগজ অপসারণ করা হবে।
সংরক্ষিত কাগজপত্র নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় পরিবেশ সুরক্ষা ও তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, বাতিলের জন্য নির্ধারিত ফরম ও নথিপত্র কোনোভাবেই খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না। সেগুলো সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সিদ্ধান্তটি দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালককে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 























