ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্র সংস্কার হয়নি, শুধু চেয়ার বদলেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ জয়ের দুয়ার থেকে ফিরল বাংলাদেশ, অবিশ্বাস্য ড্র আফগানিস্তানের বিদ্যালয়ের ৫০ শতক জমির হিসাব ২৯ বছরেও মেলেনি, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাইজ দখলের পথে হুথিরা, তীব্র লড়াইয়ে ইয়েমেন ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৮ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ইয়েমেনের রাজধানীতে সৌদির হামলা, বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা মাদক অভিযোগে ৪ শ্রমিক গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে ৬ ঘণ্টা জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ পীরগঞ্জে পৌর ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত, আহত ৪ মুকসুদপুর ফারুক খান উচ্চবিদ্যালয়ের এডহক কমিটির আহ্বায়ক তারেকুল ইসলাম রাজুকে ফুলেল শুভেচ্ছা

জয়ের দুয়ার থেকে ফিরল বাংলাদেশ, অবিশ্বাস্য ড্র আফগানিস্তানের

জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। আপাতদৃষ্টিতে জয়ের পাল্লা ভারী ছিল বাংলাদেশের দিকেই। বিরতি দিয়ে আফগানিস্তানের উইকেট তুলে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। তবে প্রতিবারই এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন তিনি। তখন মনে হচ্ছিল, জয় বাংলাদেশের হাতেই ধরা দিচ্ছে। কিন্তু একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করায় সেই জয় অধরাই থেকে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। অন্যদিকে, ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র করে আফগানিস্তান।

৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। সামনে বড় লক্ষ্য থাকায় শুরু থেকেই ড্রয়ের দিকে মনোযোগ দেয় দলটি। সকালের সময়টুকু দেখে-শুনে পার করেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি।

একাধিকবার বোলিং পরিবর্তন করেও সাফল্যের দেখা পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশেষ করে স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাচ্ছিলেন না। শেষ দিনে উইকেটে বেশ কিছু ফাটল দেখা গেলেও সেগুলো কাজে লাগিয়ে বাড়তি টার্ন আদায় করতে পারেননি বাংলাদেশের স্পিনাররা। ফলে আবু ধাবির উইকেটে তাইজুল, মিরাজ ও নাঈমের বোলিং খুব একটা কার্যকর হয়ে ওঠেনি।

আবু ধাবির উইকেট ব্যাটারদের অনুকূলে থাকলেও প্রচণ্ড গরমে টানা ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। প্রথম সেশনেই ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় শহীদিকে। ৩৩ বলে ২০ রান করেন তিনি।

লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৭৮তম ওভারের প্রথম বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে খাটো লেংথে করেন এবাদত হোসেন। বলটি পুল করতে গিয়ে ভুল করেন ইকরাম আলিখিল। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সেখানে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন দাস। সাজঘরে ফেরার আগে ইকরামের ব্যাট থেকে আসে ৬৯ বলে ৩৩ রান।

পঞ্চম উইকেটে দেখে-শুনে খেলতে থাকেন আতাল ও ইসমত আলম। দুজন মিলে গড়েন ৪০ রানের জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ইসমত। ৬০ বল খেলে ৪ রান করেন এই ব্যাটার।

এরপর ব্যাট করতে আসেন প্রথম সেশনে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া হাশমতউল্লাহ শহীদি। এবারও জুটি ভাঙেন মিরাজ। তাঁর বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শহীদি। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।

এদিকে আপনতালে খেলতে থাকা আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে দিনের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি তিনি। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করেন আতাল। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা।

আতালের বিদায়ের পরও দিনের খেলা বাকি ছিল ২৩.২ ওভার। শেষ দিনের শেষ বিকেলে টেলএন্ডারদের পক্ষে এতক্ষণ উইকেটে টিকে থাকা কঠিন বলেই মনে হচ্ছিল। তাই সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অষ্টম উইকেটে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদ। কয়েকটি সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।

শেষ মুহূর্তে ৮৫ বলে ১৯ রান করে ফেরেন আহমাদজাই। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ফল নির্ধারণের সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেন কায়েস আহমেদ। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্য প্রান্তে শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন জিয়াউর।

বাংলাদেশের পক্ষে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট নেন। এ ছাড়া হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান একটি করে উইকেট পান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র সংস্কার হয়নি, শুধু চেয়ার বদলেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

জয়ের দুয়ার থেকে ফিরল বাংলাদেশ, অবিশ্বাস্য ড্র আফগানিস্তানের

আপডেট সময় ০৯:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। আপাতদৃষ্টিতে জয়ের পাল্লা ভারী ছিল বাংলাদেশের দিকেই। বিরতি দিয়ে আফগানিস্তানের উইকেট তুলে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। তবে প্রতিবারই এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন তিনি। তখন মনে হচ্ছিল, জয় বাংলাদেশের হাতেই ধরা দিচ্ছে। কিন্তু একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করায় সেই জয় অধরাই থেকে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। অন্যদিকে, ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র করে আফগানিস্তান।

৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। সামনে বড় লক্ষ্য থাকায় শুরু থেকেই ড্রয়ের দিকে মনোযোগ দেয় দলটি। সকালের সময়টুকু দেখে-শুনে পার করেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি।

একাধিকবার বোলিং পরিবর্তন করেও সাফল্যের দেখা পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশেষ করে স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাচ্ছিলেন না। শেষ দিনে উইকেটে বেশ কিছু ফাটল দেখা গেলেও সেগুলো কাজে লাগিয়ে বাড়তি টার্ন আদায় করতে পারেননি বাংলাদেশের স্পিনাররা। ফলে আবু ধাবির উইকেটে তাইজুল, মিরাজ ও নাঈমের বোলিং খুব একটা কার্যকর হয়ে ওঠেনি।

আবু ধাবির উইকেট ব্যাটারদের অনুকূলে থাকলেও প্রচণ্ড গরমে টানা ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। প্রথম সেশনেই ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় শহীদিকে। ৩৩ বলে ২০ রান করেন তিনি।

লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৭৮তম ওভারের প্রথম বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে খাটো লেংথে করেন এবাদত হোসেন। বলটি পুল করতে গিয়ে ভুল করেন ইকরাম আলিখিল। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সেখানে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন দাস। সাজঘরে ফেরার আগে ইকরামের ব্যাট থেকে আসে ৬৯ বলে ৩৩ রান।

পঞ্চম উইকেটে দেখে-শুনে খেলতে থাকেন আতাল ও ইসমত আলম। দুজন মিলে গড়েন ৪০ রানের জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ইসমত। ৬০ বল খেলে ৪ রান করেন এই ব্যাটার।

এরপর ব্যাট করতে আসেন প্রথম সেশনে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া হাশমতউল্লাহ শহীদি। এবারও জুটি ভাঙেন মিরাজ। তাঁর বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শহীদি। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।

এদিকে আপনতালে খেলতে থাকা আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে দিনের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি তিনি। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করেন আতাল। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা।

আতালের বিদায়ের পরও দিনের খেলা বাকি ছিল ২৩.২ ওভার। শেষ দিনের শেষ বিকেলে টেলএন্ডারদের পক্ষে এতক্ষণ উইকেটে টিকে থাকা কঠিন বলেই মনে হচ্ছিল। তাই সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অষ্টম উইকেটে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদ। কয়েকটি সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।

শেষ মুহূর্তে ৮৫ বলে ১৯ রান করে ফেরেন আহমাদজাই। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ফল নির্ধারণের সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেন কায়েস আহমেদ। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্য প্রান্তে শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন জিয়াউর।

বাংলাদেশের পক্ষে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট নেন। এ ছাড়া হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান একটি করে উইকেট পান।