ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারে কারসাজির অভিযোগ, নেপথ্যে শওকত আলীর বেনামি শেয়ার সাম্রাজ্য ব্রাহ্মণপাড়ায় অভিযানে ২৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার, পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭ পীরগঞ্জে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর নিয়ে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন বেগমগঞ্জ পাইলট স্কুলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের অন্যতম ইভেন্ট মার্শাল আর্ট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত ৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে: ইসি সানাউল্লাহ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিবগঞ্জে বাড়ি বাড়ি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ফরিদপুরে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ইডেন মহিলা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের পরিচ্ছন্নতা অভিযান আত্রাইয়ে প্রথম ধাপে কৃষক কার্ড পাচ্ছেন ১ হাজার ৭৮৫ জন

বড়লেখায় মাধব ছড়ায় বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ, ভেসে উঠছে মরা মাছ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মাধব ছড়ায় (গাঙ্গের) ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এতে পুঁটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ, পোনা, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার পাশাপাশি ছড়ার পানির প্রবাহের সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ হাওর হাকালুকির জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি মাধব ছড়ায় গিয়ে পানিতে বেশ কিছু মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টির প্রতিকার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাধব ছড়ার (গাঙ্গের) পানিতে ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষ প্রয়োগের পর পুঁটি, টেংরা, বোয়ালসহ ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়। পরে ছড়ার পানিতে মরা মাছ ভেসে যেতে দেখা যায় বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন আহমদ, হামিদ আহমদ, মাসুক আহমদ ও রুবেল আহমদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, ছড়ায় বিষ প্রয়োগের পর মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তাঁদের ভাষ্য, মাধব গাঙ্গ (ছড়া) এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজের পাশাপাশি প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। গাঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ফলে শুধু মাছই ধ্বংস হচ্ছে না, ব্যাঙ, সাপ, কাঁকড়া, বিভিন্ন ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী ও পানির স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিষাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, মাধব ছড়ার পানি প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরের পানিতে গিয়ে মিশেছে। ফলে ছড়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পানির সঙ্গে হাওরের জলাভূমিতে পৌঁছালে সেখানে থাকা মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাঁদের মতে, একটি ছড়ায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ঘটনা শুধু স্থানীয় জলজ সম্পদ ধ্বংসের বিষয় নয়; পানির স্বাভাবিক প্রবাহের কারণে এর প্রভাব বৃহত্তর জলাভূমি ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্যের ওপরও পড়তে পারে।

এ ঘটনায় সরেজমিনে তদন্ত করে বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগপত্রে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রসিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ফাত্তাহ, হাজী মনির উদ্দিন ও হামিদ আহমদসহ স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, ‘আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। কর্মস্থলে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বড়লেখায় মাধব ছড়ায় বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ, ভেসে উঠছে মরা মাছ

আপডেট সময় ০১:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মাধব ছড়ায় (গাঙ্গের) ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এতে পুঁটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ, পোনা, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার পাশাপাশি ছড়ার পানির প্রবাহের সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ হাওর হাকালুকির জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি মাধব ছড়ায় গিয়ে পানিতে বেশ কিছু মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টির প্রতিকার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাধব ছড়ার (গাঙ্গের) পানিতে ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষ প্রয়োগের পর পুঁটি, টেংরা, বোয়ালসহ ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়। পরে ছড়ার পানিতে মরা মাছ ভেসে যেতে দেখা যায় বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন আহমদ, হামিদ আহমদ, মাসুক আহমদ ও রুবেল আহমদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, ছড়ায় বিষ প্রয়োগের পর মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তাঁদের ভাষ্য, মাধব গাঙ্গ (ছড়া) এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজের পাশাপাশি প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। গাঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ফলে শুধু মাছই ধ্বংস হচ্ছে না, ব্যাঙ, সাপ, কাঁকড়া, বিভিন্ন ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী ও পানির স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিষাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, মাধব ছড়ার পানি প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরের পানিতে গিয়ে মিশেছে। ফলে ছড়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পানির সঙ্গে হাওরের জলাভূমিতে পৌঁছালে সেখানে থাকা মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাঁদের মতে, একটি ছড়ায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ঘটনা শুধু স্থানীয় জলজ সম্পদ ধ্বংসের বিষয় নয়; পানির স্বাভাবিক প্রবাহের কারণে এর প্রভাব বৃহত্তর জলাভূমি ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্যের ওপরও পড়তে পারে।

এ ঘটনায় সরেজমিনে তদন্ত করে বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগপত্রে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রসিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ফাত্তাহ, হাজী মনির উদ্দিন ও হামিদ আহমদসহ স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, ‘আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। কর্মস্থলে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।