ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজীপুরে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ যুবলীগ নেতা ‘রাধুনী হাবিবের’ বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে ওএসডি, এবার মিটফোর্ডের উপপরিচালক ডা. শায়লা পাহাড়সম অভিযোগ মাথায় নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শীর্ষ পদে ওয়াহিদা বেগম জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রাশেদ-রেজাউল-শাহজাহান সিণ্ডিকেটে চলছে আরপিসিএলে লুটপাট চারদিনের মাথায় ঢাকায় বদলি গণপূর্তের দুই প্রকৌশলী রায়হান-আনিসুজ্জামান রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি হওয়ার দৌড়ে গোলাম মরতুজা গণপূর্ত প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ডেমরা সাব রেজিস্ট্রার রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ ডিএসসিসির ট্রেড সেন্টারের ছাদে ৩ হাজারের বেশি অবৈধ দোকান, নিয়ন্ত্রণে মজু সিন্ডিকেট

ডিএসসিসির ট্রেড সেন্টারের ছাদে ৩ হাজারের বেশি অবৈধ দোকান, নিয়ন্ত্রণে মজু সিন্ডিকেট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মূল নকশা ভেঙে ট্রেড সেন্টার উত্তর ও দক্ষিণের ছাদে টিন দিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত দোকান ও গোডাউন। নকশাবহির্ভূত এসব স্থাপনা থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র, যার ফলে একদিকে যেমন মারাত্মক অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে পড়েছে মার্কেট দুটি, অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সিটি করপোরেশন।

নকশা ভেঙে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ:
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মোজাম্মেল হক মজুর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ডিএসসিসিকে ফাঁকি দিয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের সহায়তায় মজু ও তার সঙ্গীরা মার্কেট দুটির নকশা পরিবর্তন করে এক হাজারের বেশি অবৈধ দোকান ও গোডাউন নির্মাণ করেন। সাবেক এমপি জেলে থাকলেও এবং জহিরুল ইসলাম ও নাজমুল হুদার মতো সহযোগীরা পলাতক থাকলেও মজু বহাল তবিয়তেই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

মার্কেটের পরিসংখ্যান ও দখলের চিত্র:
ডিএসসিসি স্বীকৃত দোকান: ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণে ১,১৬১টি (৯৫১টি স্থায়ী, ২১০টি অস্থায়ী) এবং ট্রেড সেন্টার উত্তরে ১,১০৮টি (৯৭১টি স্থায়ী, ২৩৭টি অস্থায়ী) নিবন্ধিত দোকান রয়েছে।

অবৈধ দখল: নিবন্ধিত দোকানের বাইরেও ছাদে ও বিভিন্ন স্থানে ৩ হাজারের বেশি অবৈধ দোকান গড়ে তোলা হয়েছে।

বঙ্গবাজার কেলেঙ্কারি: ২০১২-১৩ সালে ২৩৭০ জন ক্ষতিগ্রস্তের বাইরে ৫৯১ জনকে ভুয়া ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আফজাল-মজু চক্রের বিরুদ্ধে।

অন্যান্য সহযোগী: মীর আল মামুন, বাসেত মাস্টার, আখতার হোসেন রানা, জসিম ও জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা এই চক্রের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।

ফায়ার ঝুঁকি ও জিম্মি ব্যবসায়ীরা:
টিন ও কাঠ দিয়ে ছাদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ গোডাউন ও দোকান করায় পুরো মার্কেটেই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। সিন্ডিকেটের কাছে তারা একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ যুবলীগ নেতা ‘রাধুনী হাবিবের’ বিরুদ্ধে

ডিএসসিসির ট্রেড সেন্টারের ছাদে ৩ হাজারের বেশি অবৈধ দোকান, নিয়ন্ত্রণে মজু সিন্ডিকেট

আপডেট সময় ০২:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মূল নকশা ভেঙে ট্রেড সেন্টার উত্তর ও দক্ষিণের ছাদে টিন দিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত দোকান ও গোডাউন। নকশাবহির্ভূত এসব স্থাপনা থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র, যার ফলে একদিকে যেমন মারাত্মক অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে পড়েছে মার্কেট দুটি, অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সিটি করপোরেশন।

নকশা ভেঙে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ:
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মোজাম্মেল হক মজুর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ডিএসসিসিকে ফাঁকি দিয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের সহায়তায় মজু ও তার সঙ্গীরা মার্কেট দুটির নকশা পরিবর্তন করে এক হাজারের বেশি অবৈধ দোকান ও গোডাউন নির্মাণ করেন। সাবেক এমপি জেলে থাকলেও এবং জহিরুল ইসলাম ও নাজমুল হুদার মতো সহযোগীরা পলাতক থাকলেও মজু বহাল তবিয়তেই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

মার্কেটের পরিসংখ্যান ও দখলের চিত্র:
ডিএসসিসি স্বীকৃত দোকান: ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণে ১,১৬১টি (৯৫১টি স্থায়ী, ২১০টি অস্থায়ী) এবং ট্রেড সেন্টার উত্তরে ১,১০৮টি (৯৭১টি স্থায়ী, ২৩৭টি অস্থায়ী) নিবন্ধিত দোকান রয়েছে।

অবৈধ দখল: নিবন্ধিত দোকানের বাইরেও ছাদে ও বিভিন্ন স্থানে ৩ হাজারের বেশি অবৈধ দোকান গড়ে তোলা হয়েছে।

বঙ্গবাজার কেলেঙ্কারি: ২০১২-১৩ সালে ২৩৭০ জন ক্ষতিগ্রস্তের বাইরে ৫৯১ জনকে ভুয়া ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আফজাল-মজু চক্রের বিরুদ্ধে।

অন্যান্য সহযোগী: মীর আল মামুন, বাসেত মাস্টার, আখতার হোসেন রানা, জসিম ও জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা এই চক্রের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।

ফায়ার ঝুঁকি ও জিম্মি ব্যবসায়ীরা:
টিন ও কাঠ দিয়ে ছাদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ গোডাউন ও দোকান করায় পুরো মার্কেটেই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। সিন্ডিকেটের কাছে তারা একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে জানান।