চমকপ্রদ অফার আর অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজারো মানুষের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে ‘হলিস্টিক গ্রুপ’। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে দুইশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতারণামূলক চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন হলিস্টিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রভাবশালী ফ্যাসিস্ট নেতা শিশির আহমেদ। তাঁর এই অর্থ আত্মসাতের শিকার হয়ে এখন নিঃস্ব হাজারো পরিবার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশির আহমেদের নেতৃত্বে এই প্রতারণা সিন্ডিকেটে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাঁর তৈরি ম্যানেজমেন্টের অন্যতম সহযোগী হায়দার কবির মিথুন ও হাবিবউল্লাহ বাহার। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা আত্মসাৎ করে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে ‘গ্রাহক কমিটি’র নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গ্রাহকদের রক্তঘামে অর্জিত বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা আইনি লড়াই থেকে পিছু হটবেন না। প্রতারক শিশির, মিথুন ও বাহারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, “আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু যতদিন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া না হবে, ততদিন পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলাসমূহ কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না; বড়জোর তা স্থগিত থাকতে পারে।
তারা আরও জানান, কোনো রকম জমিতে যৌথ মালিকানা দেওয়ার নাম করে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত আপাতত মেনে নেওয়া হবে না। যেদিন সকল গ্রাহক তাঁদের বিনিয়োগকৃত টাকা বুঝে পাবেন, কেবল সেদিনই এই প্রতারক চক্রকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে।
বিনিয়োগের টাকা ফেরত না দিলে এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলায় মাসের ৩০ দিনই নতুন নতুন প্রতারণার মামলা দায়ের করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গ্রাহক কমিটি। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার আদায়ে সকল ভুক্তভোগী গ্রাহককে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির নেতারা।
শহিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি 





















