রাতের আঁধারে ফসলি জমিতে ঢুকে এক অসহায় কৃষকের অপরিপক্ক ধান কেটে জমিতেই ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের চলতি মৌসুমের ফসল নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক রুস্তম মন্ডল।
সরেজমিনে গিয়ে ওই জমিতে কাঁচা ধান কেটে ফেলে রাখার চিত্র দেখা যায়। জমির বিভিন্ন স্থানে কাটা ধানের গোছা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী রুস্তম মন্ডলের দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তার মা। তিনি মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ওই জমিতে ধান চাষ করেন।
রুস্তমের অভিযোগ, জমির পূর্ব পাশে বদরুল ইসলাম নয়া নামে এক প্রভাষকের পুকুর রয়েছে। জমিটি নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তার দাবি, বিভিন্ন সময় একটি ভাটা থেকে গাড়ি গাড়ি কংকর ও রাবিশ এনে ওই জমিতে ফেলার মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
রুস্তম বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করার পর ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না—এমন শর্তে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে লোকজন দিয়ে জমি থেকে কংকর ও রাবিশ পরিষ্কার করে সেখানে আবার ধান রোপণ করেন তিনি।
কিন্তু সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা তার জমিতে ঢুকে কাঁচা ধান কেটে জমিতেই ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ করেন রুস্তম। এ ঘটনার জন্য তিনি প্রভাষক বদরুল ইসলাম নয়ার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুস্তম মন্ডল বলেন,আমি গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে এই জমিতে ধান লাগিয়েছি। এই ধান দিয়েই আমার সংসার চলবে। আমার বৃদ্ধ বাবা, বউ আর সন্তানকে কী খাওয়াবো? রাতের আঁধারে আমার জমির সব কাঁচা ধান কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন,আমি কোনো ঝামেলা চাই না। আমি আইনের আশ্রয় নিতে চাই। যারা আমার ফসল নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের বিষয়ে রুস্তম মন্ডল বলেন, তিনি অভিযোগ দেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানায় যাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুঠোফোনে অভিযোগটি শুনেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে কৃষকের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বদরুল ইসলাম নয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
স্থানীয়দের দাবি, কৃষকের ফসল নষ্টের মতো ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে আইনি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
শফিউল মন্ডল (রংপুর) প্রতিনিধি 





















