ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোরে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে কানাই বলাই বিগ্রহ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ রংপুরে ১৯ পিস ইয়াবাসহ দুই পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস : এনবিআরের ২ কর্মী বরখাস্ত ২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্কুলে পরপর দুইবার চুরি কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রধান শিক্ষক কসবায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবার মৃত্যু, স্ত্রী ও মেয়ে আটক কুমিল্লায় যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ভোলাহাটে চামুশা সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ ইসকাপ জব্দ!! আত্রাইয়ে মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায়  ১৫০টি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ

রাজৈরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দরজার সামনে দেয়াল, অবরুদ্ধ বিধবা পরিবার

মাদারীপুরের রাজৈরে বসতবাড়ি বিক্রি না করায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘরের দরজার সামনে দেয়াল নির্মাণ করে মা-মেয়ের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ফলে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী মা-মেয়ে। সরেজমিনে গিয়ে ঘরের দরজার সামনে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি দেখা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার কুঠিবাড়ি এলাকায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী নারগিস বেগম কুঠিবাড়ি এলাকার মৃত আলী আকবর বেপারীর স্ত্রী। অভিযুক্ত আজাদ রহমান লিটু আমগ্রাম মঠবাড়ী এলাকার মৃত মোবারক আলী মাতুব্বরের ছেলে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, রাজৈর মৌজার বিআরএস ১৩৫ নম্বর খতিয়ানের বিআরএস ৮৪৪৬ ও ৮৪৪৯ দাগে মোট সাড়ে ১০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন নারগিস বেগমের শাশুড়ি। এর মধ্যে নারগিসের স্বামী আলী আকবরের নামে এক শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার পর বাকি জমি বিক্রি করে দেন তিনি। ওই জমি ক্রয় করেন আমগ্রাম মঠবাড়ী এলাকার মৃত মোবারক আলী মাতুব্বরের ছেলে আজাদ রহমান লিটু।

এদিকে, স্বামী আলী আকবরের মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া এক শতাংশ জমির ওপর ছোট একটি টিনশেড ঘর তুলে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন বিধবা নারগিস। অভিযোগ উঠেছে, ওই জমিটি হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চালান পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আজাদ রহমান লিটু। জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় চলাচলের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ করে নারগিস বেগমকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।

গত ১১ আগস্ট নারগিস আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে সকল কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে লিটু তাঁর লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক নারগিসের ঘরের দরজার সামনে পাকা দেয়াল নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ। এরপর থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নারগিস ও তাঁর পরিবার।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নারগিসের চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করাসহ তাঁর সুষ্ঠুভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী নারগিস বেগম বলেন, “আমার মাত্র এক শতাংশ জায়গা। পাশের আমার চাচা শ্বশুরের জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই সুযোগে আমার জায়গা তাঁর কাছে বিক্রি করে দিতে বলেন। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় আমার দরজার সামনে দেয়াল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন আমি বের হব কীভাবে? আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেয়াল নির্মাণের কারণ জানতে লিটুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেছি। স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা মীমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।”

রাজৈর পৌরসভার প্রশাসক রোকসানা খাইরুন নেছা বলেন, “যেকোনো ব্যক্তিরই চলাচলের রাস্তা দিতে হবে। বাসা থেকে বের হওয়ার রাস্তা তাঁকে দিতে হবে। নাগরিক হিসেবে অবশ্যই রাস্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।” বিষয়টি আমলে নিয়ে তিনি সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ

রাজৈরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দরজার সামনে দেয়াল, অবরুদ্ধ বিধবা পরিবার

আপডেট সময় ০৩:৫৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদারীপুরের রাজৈরে বসতবাড়ি বিক্রি না করায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘরের দরজার সামনে দেয়াল নির্মাণ করে মা-মেয়ের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ফলে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী মা-মেয়ে। সরেজমিনে গিয়ে ঘরের দরজার সামনে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি দেখা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার কুঠিবাড়ি এলাকায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী নারগিস বেগম কুঠিবাড়ি এলাকার মৃত আলী আকবর বেপারীর স্ত্রী। অভিযুক্ত আজাদ রহমান লিটু আমগ্রাম মঠবাড়ী এলাকার মৃত মোবারক আলী মাতুব্বরের ছেলে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, রাজৈর মৌজার বিআরএস ১৩৫ নম্বর খতিয়ানের বিআরএস ৮৪৪৬ ও ৮৪৪৯ দাগে মোট সাড়ে ১০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন নারগিস বেগমের শাশুড়ি। এর মধ্যে নারগিসের স্বামী আলী আকবরের নামে এক শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার পর বাকি জমি বিক্রি করে দেন তিনি। ওই জমি ক্রয় করেন আমগ্রাম মঠবাড়ী এলাকার মৃত মোবারক আলী মাতুব্বরের ছেলে আজাদ রহমান লিটু।

এদিকে, স্বামী আলী আকবরের মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া এক শতাংশ জমির ওপর ছোট একটি টিনশেড ঘর তুলে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন বিধবা নারগিস। অভিযোগ উঠেছে, ওই জমিটি হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চালান পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আজাদ রহমান লিটু। জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় চলাচলের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ করে নারগিস বেগমকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।

গত ১১ আগস্ট নারগিস আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে সকল কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে লিটু তাঁর লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক নারগিসের ঘরের দরজার সামনে পাকা দেয়াল নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ। এরপর থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নারগিস ও তাঁর পরিবার।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নারগিসের চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করাসহ তাঁর সুষ্ঠুভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী নারগিস বেগম বলেন, “আমার মাত্র এক শতাংশ জায়গা। পাশের আমার চাচা শ্বশুরের জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই সুযোগে আমার জায়গা তাঁর কাছে বিক্রি করে দিতে বলেন। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় আমার দরজার সামনে দেয়াল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন আমি বের হব কীভাবে? আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেয়াল নির্মাণের কারণ জানতে লিটুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেছি। স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা মীমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।”

রাজৈর পৌরসভার প্রশাসক রোকসানা খাইরুন নেছা বলেন, “যেকোনো ব্যক্তিরই চলাচলের রাস্তা দিতে হবে। বাসা থেকে বের হওয়ার রাস্তা তাঁকে দিতে হবে। নাগরিক হিসেবে অবশ্যই রাস্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।” বিষয়টি আমলে নিয়ে তিনি সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন।