ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাশিয়া-ইউক্রেনে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা, প্রাণ গেল ২২ জনের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন হচ্ছে ৫ আগস্ট গ্যাসের স্বল্পচাপে উৎপাদন ব্যাহত, রান্নার চুলা নিভু নিভু শিক্ষা ক্যাডার সহিদুল ইসলামকে ঘিরে আবাসন ব্যবসার অভিযোগ ‘লেক আইল্যান্ড ঢাকা’র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা নিয়ে প্লট না দেওয়ার অভিযোগ বনানী প্রেসক্লাবের বিজয় ও লিমনসহ চার গণমাধ্যমকর্মীর প্রয়াণ: মঙ্গলবার বাদ মাগরিব খিলক্ষেত প্রেসক্লাবে বিশেষ দোয়া জিপিএইচ ইস্পাতের কাছে বন্দি সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপল্লী কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তবুও বহাল অগ্রণী ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে উপ-পরিচালক ইয়াসমিন সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ সার্জেন্ট আরিফের বিরুদ্ধে

শিক্ষা ক্যাডার সহিদুল ইসলামকে ঘিরে আবাসন ব্যবসার অভিযোগ

অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সদ্য ওএসডি হওয়া পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলামকে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (চট্টগ্রাম) পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়েছে। এই শিক্ষা ক্যাডার ও তার আত্মীয়ের নামে ঢাকা ও ফরিদপুরে অন্তত অর্ধশত ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগ আছে। ১০ দিনের ব্যবধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন প্রাইজ পোস্টিংয়ের ঘটনা শিক্ষা ভবনে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষা ক্যাডারের সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে
ওএসডি হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে প্রাইজ পোস্টিং নামে-বেনামে
অর্ধশতাধিক ফ্ল্যাট
ছয় কোটি টাকার ফুড ভিলেজের কাজ চলছে
হাতে অধ্যাপক সহিদুলের একাধিক ভবনের ছবি ও ভিডিও রয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা একাধিক ভবনে সহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের নামে অসংখ্য ফ্ল্যাট রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি শিক্ষা ক্যাডার না আবাসন ব্যবসায়ী তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

শিক্ষা ক্যাডার সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন অবৈধভাবে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ফরিদপুরের আলীপুর, ডিআইবি বটতলা, কাঠপট্টি, উদয়ন ক্লাব, ঝিলটুলি, টেপাখোলা, গোয়ালচামট এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক ফ্ল্যাট আছে। এ ছাড়া অন্তত পাঁচটি প্লটেরও মালিক তিনি। ঢাকার ধানমন্ডি, পল্লবী ও কালশীতে দুটি ভবনের কাজ চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অডিটের নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দপ্তরটির পরিদর্শন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৩ জুলাই ডিআইএর পরিচালক সহিদুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়। তিনি মাউশিতে সংযুক্ত ছিলেন। অন্য দপ্তরে ভালো পদ পেতে তদবির করছিলেন। এরপর তার পছন্দের পদেই পদায়ন দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরই প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ১২ জন পরিদর্শক, ১১ জন সহকারী পরিদর্শক, ৩ জন অডিট অফিসারকে নিজের বলয়ে নিয়ে আসেন। তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অডিটে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সর্বশেষ মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে অডিটে গিয়ে দুই কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক শোরগোল হয়। পরে তদন্তে নামে গোয়েন্দা দল।

ডিআইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে সংস্থাটি। এই অর্থবছরে ১ হাজার ৩৬১টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন আটকে ও ঘষামাজা করে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

নামে-বেনামে যত সম্পদ ও প্রকল্প
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের আলীপুর রাজ্জাকের মোড়ে আলাউদ্দিন খান টাওয়ারেও সহিদুল ও তার স্ত্রী সোহেলা খানমের নামে ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে এবং ৬টি অবশিষ্ট রয়েছে। একই স্থানে প্রকল্পসংলগ্ন দোতলা একটি বাড়ি রয়েছে। ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টিতে সদর কোতোয়ালি থানার পাশে সহিদুল ইসলামের নামে একটি প্লট রয়েছে। ফরিদপুর শহরে ভিআইপি টাওয়ার নামে আরেকটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এই ভবনেও সহিদুলের নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ফরিদপুরের ঝিলটুলি উদয়ন ক্লাবসংলগ্ন দেশ ক্লিনিকের পাশে জমজম টাওয়ার নামের একটি ভবনের কাজ চলছে। নির্মাণাধীন ১৪ তলা ভবন প্রকল্পে তার একাধিক ফ্ল্যাট এবং উল্লেখযোগ্য শেয়ার রয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডিতেও সহিদুলের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ঢাকার মিরপুর এলাকায় দুটি আবাসন প্রকল্পে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ফুড ভিলেজ নির্মাণ করছেন।

জানা গেছে, সহিদুল ইসলাম লিটুর স্ত্রী সোহেলা খানম বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। সেই সঙ্গে এই দম্পতির একটি ডেভেলপার কোম্পানিও আছে, যার মহাব্যবস্থাপক সোহেলা খানম।

প্রফেসর সহিদুল ইসলাম তার আবাসন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এটি তার স্ত্রী পরিচালনা করছেন বলে জানান। এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমার স্ত্রীর পরিবার অনেক ধনী। তাদের ফরিদপুর শহরে অনেক সম্পত্তি। তবে অর্ধশত ফ্ল্যাটের তথ্য ঠিক না।’ ঢাকার আবাসন প্রকল্প ও ফুড ভিলেজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষক একসঙ্গে চাঁদা তুলে ভবন তৈরি করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আমার আয়কর নথিতে এসব সম্পদের তথ্য দেওয়া আছে। যেন কেউ বলতে না পারেন, ডিআইএর পরিচালক হয়ে আমি শতকোটি টাকার মালিক।’

সরকারি বিধিতে যা আছে
চাকরি বিধি অনুযায়ী একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের আবাসন ব্যবসা করতে পারেন না। আবাসন ব্যবসা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক এবং লাভজনক খাত। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতি প্রয়োজন। ব্যবসা আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা নিজে সরাসরি যুক্ত না থেকে যদি তার স্বামী/স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের নামে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাও বিধিবহির্ভূত। বিধি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা ও আইন বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমার দায়িত্ব ডিআইএর রিপোর্ট নিষ্পত্তি করা। কোনো কর্মকর্তা আবাসন ব্যবসা করেন কি না বা এর অনুমতি দেওয়া এই বিভাগের কাজ নয়।’ তিনি প্রশাসন শাখায় তথ্য নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া-ইউক্রেনে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা, প্রাণ গেল ২২ জনের

শিক্ষা ক্যাডার সহিদুল ইসলামকে ঘিরে আবাসন ব্যবসার অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সদ্য ওএসডি হওয়া পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলামকে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (চট্টগ্রাম) পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়েছে। এই শিক্ষা ক্যাডার ও তার আত্মীয়ের নামে ঢাকা ও ফরিদপুরে অন্তত অর্ধশত ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগ আছে। ১০ দিনের ব্যবধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন প্রাইজ পোস্টিংয়ের ঘটনা শিক্ষা ভবনে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষা ক্যাডারের সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে
ওএসডি হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে প্রাইজ পোস্টিং নামে-বেনামে
অর্ধশতাধিক ফ্ল্যাট
ছয় কোটি টাকার ফুড ভিলেজের কাজ চলছে
হাতে অধ্যাপক সহিদুলের একাধিক ভবনের ছবি ও ভিডিও রয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা একাধিক ভবনে সহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের নামে অসংখ্য ফ্ল্যাট রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি শিক্ষা ক্যাডার না আবাসন ব্যবসায়ী তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

শিক্ষা ক্যাডার সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন অবৈধভাবে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ফরিদপুরের আলীপুর, ডিআইবি বটতলা, কাঠপট্টি, উদয়ন ক্লাব, ঝিলটুলি, টেপাখোলা, গোয়ালচামট এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক ফ্ল্যাট আছে। এ ছাড়া অন্তত পাঁচটি প্লটেরও মালিক তিনি। ঢাকার ধানমন্ডি, পল্লবী ও কালশীতে দুটি ভবনের কাজ চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অডিটের নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দপ্তরটির পরিদর্শন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৩ জুলাই ডিআইএর পরিচালক সহিদুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়। তিনি মাউশিতে সংযুক্ত ছিলেন। অন্য দপ্তরে ভালো পদ পেতে তদবির করছিলেন। এরপর তার পছন্দের পদেই পদায়ন দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরই প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ১২ জন পরিদর্শক, ১১ জন সহকারী পরিদর্শক, ৩ জন অডিট অফিসারকে নিজের বলয়ে নিয়ে আসেন। তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অডিটে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সর্বশেষ মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে অডিটে গিয়ে দুই কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক শোরগোল হয়। পরে তদন্তে নামে গোয়েন্দা দল।

ডিআইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে সংস্থাটি। এই অর্থবছরে ১ হাজার ৩৬১টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন আটকে ও ঘষামাজা করে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

নামে-বেনামে যত সম্পদ ও প্রকল্প
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের আলীপুর রাজ্জাকের মোড়ে আলাউদ্দিন খান টাওয়ারেও সহিদুল ও তার স্ত্রী সোহেলা খানমের নামে ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে এবং ৬টি অবশিষ্ট রয়েছে। একই স্থানে প্রকল্পসংলগ্ন দোতলা একটি বাড়ি রয়েছে। ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টিতে সদর কোতোয়ালি থানার পাশে সহিদুল ইসলামের নামে একটি প্লট রয়েছে। ফরিদপুর শহরে ভিআইপি টাওয়ার নামে আরেকটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এই ভবনেও সহিদুলের নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ফরিদপুরের ঝিলটুলি উদয়ন ক্লাবসংলগ্ন দেশ ক্লিনিকের পাশে জমজম টাওয়ার নামের একটি ভবনের কাজ চলছে। নির্মাণাধীন ১৪ তলা ভবন প্রকল্পে তার একাধিক ফ্ল্যাট এবং উল্লেখযোগ্য শেয়ার রয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডিতেও সহিদুলের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ঢাকার মিরপুর এলাকায় দুটি আবাসন প্রকল্পে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ফুড ভিলেজ নির্মাণ করছেন।

জানা গেছে, সহিদুল ইসলাম লিটুর স্ত্রী সোহেলা খানম বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। সেই সঙ্গে এই দম্পতির একটি ডেভেলপার কোম্পানিও আছে, যার মহাব্যবস্থাপক সোহেলা খানম।

প্রফেসর সহিদুল ইসলাম তার আবাসন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এটি তার স্ত্রী পরিচালনা করছেন বলে জানান। এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমার স্ত্রীর পরিবার অনেক ধনী। তাদের ফরিদপুর শহরে অনেক সম্পত্তি। তবে অর্ধশত ফ্ল্যাটের তথ্য ঠিক না।’ ঢাকার আবাসন প্রকল্প ও ফুড ভিলেজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষক একসঙ্গে চাঁদা তুলে ভবন তৈরি করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আমার আয়কর নথিতে এসব সম্পদের তথ্য দেওয়া আছে। যেন কেউ বলতে না পারেন, ডিআইএর পরিচালক হয়ে আমি শতকোটি টাকার মালিক।’

সরকারি বিধিতে যা আছে
চাকরি বিধি অনুযায়ী একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের আবাসন ব্যবসা করতে পারেন না। আবাসন ব্যবসা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক এবং লাভজনক খাত। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতি প্রয়োজন। ব্যবসা আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা নিজে সরাসরি যুক্ত না থেকে যদি তার স্বামী/স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের নামে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাও বিধিবহির্ভূত। বিধি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা ও আইন বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমার দায়িত্ব ডিআইএর রিপোর্ট নিষ্পত্তি করা। কোনো কর্মকর্তা আবাসন ব্যবসা করেন কি না বা এর অনুমতি দেওয়া এই বিভাগের কাজ নয়।’ তিনি প্রশাসন শাখায় তথ্য নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।