ঝালকাঠি জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি বড় প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যেহেতু দরপত্র জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে, এখনো চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করায় অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিঃ’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
গত ০৫/০৭/২০২৬ তারিখে এলজিইডি-র প্রধান প্রকৌশলী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগে এই অনিয়মের কথা জানানো হয়। অভিযোগপত্রটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘসূত্রতা ও তথ্যের লুকোচুরি নিয়ে অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণবঙ্গের আইবিআরপি (IBRP) প্রজেক্টের আওতায় ঝালকাঠি জেলার একটি কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার ই-আইডি নম্বর ১২১৭২৭২। গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দরপত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাধারণত দরপত্র মূল্যায়নে ১৪ থেকে ২১ দিন, কিংবা সর্বোচ্চ ৯০ দিন সময় লাগার কথা থাকলেও, দীর্ঘ ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, ফাইল পিডি (PD) অফিসে (Procurement) পাঠানো হয়েছে। তবে পিডি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে এখনো কোনো ফাইলই পৌঁছায়নি।
লিখিত অভিযোগে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিঃ-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের মনোনীত ঠিকাদারদের অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রতারণা ও সময়ক্ষেপণ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওপেনিং লিস্ট (SLT) অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের লাইসেন্সেই কাজটি পাওয়ার কথা। কিন্তু অফিসের কিছু অসাধু লোক ‘খাইরুল কবির রানা’ এবং ‘মুন মুন কনস্ট্রাকশন’ নামের অন্য লাইসেন্সে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য পর্দার আড়ালে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিঃ অবিলম্বে এই ই-আইডি নম্বরের দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায়, এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলে চিঠিতে হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি সদর দপ্তর বা ঝালকাঠি জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























