ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিসমত-জাফরাবাদ আবাসন প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতি : ১১৫ পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ টাইফুনের প্রভাবে বিপর্যস্ত জাপান, ১৯ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ফ্যাসিস্ট আমলে সরকারপ্রধানের সফরে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হতো: রিজভী শাহজালালে বিমানের ফ্লাইট থেকে শতাধিক স্বর্ণবার জব্দ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থীও : মেলোনি আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো মাঠে থাকব: হারুন অর রশিদ ‘তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’ স্লোগানে জামায়াতের বিক্ষোভ বিএনপি কোনো খুচরা দল নয়, জনগণের দল : আবদুস সালাম

যে কারণে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে স্মার্টফোনের দাম

২০২৫ থেকে বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপের দাম বাড়ছে। যা ২০২৬-এ এসে ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোন শিল্পে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই মেমোরি চিপের বাড়তি দামের কারণে স্মার্টফোনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

গত এক দশকে স্মার্টফোন কেবল বিলাসপণ্য নয়। বরং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগের পাশাপাশি অফিসের কাজ, শিক্ষা, ডিজিটাল লেনদেন, সরকারি-বেসরকারি সেবা, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন এবং ই-কমার্স— সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোন এখন অপরিহার্য। সব শ্রেণি ও আয়ের মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমের কেন্দ্রে অবস্থান করছে এই ডিভাইস।

স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামের বিষয়ে ভোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। এখন ক্রেতারা এমন ফোন প্রত্যাশা করেন যা সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি টেকসই এবং দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। বাংলাদেশের মতো মূল্য-সংবেদনশীল বাজারে ভোক্তারা দামের সঙ্গে ফিচারের সর্বোত্তম সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন এবং স্মার্টফোনকে বিলাসিতা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোনের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ এর নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়া ও ভারতে স্মার্টফোনের দাম বাড়ানো হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে নেপালেও মূল্য সমন্বয় কার্যকর হয়। বাংলাদেশে ২০২৬ থেকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বাজারের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্মার্টফোনের দাম প্রায় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ডিআরএএম ও এনএএনডি ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধি। ওই সময় ডিআরএএম চিপের দাম ১৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। আর এনএএনডি ফ্ল্যাশের দাম বৃদ্ধি পায় ৫–১০ শতাংশের মতো। এই প্রবণতা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মোট মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি ৫৫–৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। যা স্মার্টফোনের উৎপাদন ব্যয় ও খুচরা মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেমোরি সংকটের অন্যতম কারণ হলো উৎপাদিত মেমোরির একটি বড় অংশ এখন এআই-নির্ভর ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোর দিকে চলে যাচ্ছে।যেখানে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে স্মার্টফোন শিল্পের জন্য মেমোরি সরবরাহ তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। এদিকে নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে অন-ডিভাইস এআই ফিচার যুক্ত হওয়ায় শক্তিশালী প্রসেসর ও বেশি র‌্যামের প্রয়োজন হচ্ছে। উন্নত হার্ডওয়্যার ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে পড়ছে।

এই খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সব সেগমেন্টে সমান নয়। এন্ট্রি-লেভেল বা বাজেট স্মার্টফোন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ২০০ ডলারের নিচের স্মার্টফোনগুলোর উপকরণ খরচ ২০–৩০ শতাংশ বেড়েছে। যা ২০২৬ সালে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও উৎপাদন ব্যয় ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রিমিয়াম বা হাই-এন্ড ফোনগুলো তুলনামূলকভাবে এই চাপ সামাল দিতে পারলেও সেখানেও উপকরণ খরচ ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

তবে সব নির্মাতা সমানভাবে এই সংকটে পড়েনি। যেসব ব্র্যান্ডের গড় বিক্রয়মূল্য বেশি, তারা তুলনামূলকভাবে চাপ সামাল দিতে পারছে। বিপরীতে কম মার্জিনে ব্যবসা করা ব্র্যান্ডগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো বাজারে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এআই-কেন্দ্রিক চাহিদার কারণে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে তা দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। ফলে ২০২৬ সালের পরেও স্মার্টফোনের দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারেও এই বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। ধীরে ধীরে ভোক্তারাও বুঝতে পারছেন, এই দাম বাড়ার পেছনে স্থানীয় কোনো কারণ নয়, বরং বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি দায়ী।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিসমত-জাফরাবাদ আবাসন প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতি : ১১৫ পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ

যে কারণে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে স্মার্টফোনের দাম

আপডেট সময় ০৩:২১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৫ থেকে বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপের দাম বাড়ছে। যা ২০২৬-এ এসে ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোন শিল্পে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই মেমোরি চিপের বাড়তি দামের কারণে স্মার্টফোনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

গত এক দশকে স্মার্টফোন কেবল বিলাসপণ্য নয়। বরং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগের পাশাপাশি অফিসের কাজ, শিক্ষা, ডিজিটাল লেনদেন, সরকারি-বেসরকারি সেবা, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন এবং ই-কমার্স— সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোন এখন অপরিহার্য। সব শ্রেণি ও আয়ের মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমের কেন্দ্রে অবস্থান করছে এই ডিভাইস।

স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামের বিষয়ে ভোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। এখন ক্রেতারা এমন ফোন প্রত্যাশা করেন যা সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি টেকসই এবং দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। বাংলাদেশের মতো মূল্য-সংবেদনশীল বাজারে ভোক্তারা দামের সঙ্গে ফিচারের সর্বোত্তম সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন এবং স্মার্টফোনকে বিলাসিতা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোনের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ এর নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়া ও ভারতে স্মার্টফোনের দাম বাড়ানো হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে নেপালেও মূল্য সমন্বয় কার্যকর হয়। বাংলাদেশে ২০২৬ থেকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বাজারের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্মার্টফোনের দাম প্রায় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ডিআরএএম ও এনএএনডি ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধি। ওই সময় ডিআরএএম চিপের দাম ১৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। আর এনএএনডি ফ্ল্যাশের দাম বৃদ্ধি পায় ৫–১০ শতাংশের মতো। এই প্রবণতা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মোট মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি ৫৫–৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। যা স্মার্টফোনের উৎপাদন ব্যয় ও খুচরা মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেমোরি সংকটের অন্যতম কারণ হলো উৎপাদিত মেমোরির একটি বড় অংশ এখন এআই-নির্ভর ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোর দিকে চলে যাচ্ছে।যেখানে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে স্মার্টফোন শিল্পের জন্য মেমোরি সরবরাহ তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। এদিকে নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে অন-ডিভাইস এআই ফিচার যুক্ত হওয়ায় শক্তিশালী প্রসেসর ও বেশি র‌্যামের প্রয়োজন হচ্ছে। উন্নত হার্ডওয়্যার ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে পড়ছে।

এই খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সব সেগমেন্টে সমান নয়। এন্ট্রি-লেভেল বা বাজেট স্মার্টফোন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ২০০ ডলারের নিচের স্মার্টফোনগুলোর উপকরণ খরচ ২০–৩০ শতাংশ বেড়েছে। যা ২০২৬ সালে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও উৎপাদন ব্যয় ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রিমিয়াম বা হাই-এন্ড ফোনগুলো তুলনামূলকভাবে এই চাপ সামাল দিতে পারলেও সেখানেও উপকরণ খরচ ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

তবে সব নির্মাতা সমানভাবে এই সংকটে পড়েনি। যেসব ব্র্যান্ডের গড় বিক্রয়মূল্য বেশি, তারা তুলনামূলকভাবে চাপ সামাল দিতে পারছে। বিপরীতে কম মার্জিনে ব্যবসা করা ব্র্যান্ডগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো বাজারে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এআই-কেন্দ্রিক চাহিদার কারণে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে তা দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। ফলে ২০২৬ সালের পরেও স্মার্টফোনের দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারেও এই বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। ধীরে ধীরে ভোক্তারাও বুঝতে পারছেন, এই দাম বাড়ার পেছনে স্থানীয় কোনো কারণ নয়, বরং বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি দায়ী।