ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’ পাঁচ মাস পর দেশের পথে মির্জা আব্বাস ১৫ দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সরানোর নির্দেশ হাইকোর্টের ভোলায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে জেলা পুলিশের ফুলেল শুভেচ্ছা ও গার্ড অব অনার ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ বিটিভির লোগো পরিবর্তন নয়; দরকার দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে রূপান্তর হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আজ বিশ্ব নারিকেল দিবস তোর চৌদ্দ গোষ্ঠীকে জেল-হাজতের ভাত খাওয়াব’: কাকে হুমকি দিলেন পলি? ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা মেসির মায়ের

কুড়িগ্রামে প্রতিবেশীর টয়লেট থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রতিবেশীর বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ সে‌প্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ছিট মালিয়ানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

নিহত শিশু মুরসালিন মিয়া (৮) ওই এলাকার মশিউর রহমান মুছার ছেলে।
পরিবারের দাবি, শিশুটিকে বলাৎকারের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছেন প্রতিবেশী ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মমিনুল ইসলাম (২৩)। মমিনুল ইসলাম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

জানা যায়, মরদেহ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত মমিনুল ও তার নানাবাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ৯৯৯-এ ফোন করলে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মমিনুল ইসলামের মা মহসেনা বেগম ও বোন ফাহিমা খাতুন এবং মমিনুলের পরিবারকে প্রশ্রয় দিয়ে পালানোয় সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মঞ্জু বেগমকে আটক করে থানায় আনে পুলিশ। পরে নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে ৯ জনের নামে মামলা করেন। আটক ৪ জনকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত শিশু মুরসালিনের পরিবার জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুরসালিনের মা ছেলেকে না পেয়ে খোঁজা শুরু করেন। একপর্যায়ে মমিনুলের বাড়িতে গিয়ে মুরসালিনের কথা জিজ্ঞাসা করলে মমিনুল ও তার মা মহসেনা বেগম মুরসালিনকে দেখেননি বলে জানান। কিছুক্ষণ পর আবারও গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা দরজায় তালা লাগিয়ে সটকে পড়ে মমিনুলের নানা মহর উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। একসময় বিষয়টি চাউর হলে মমিনুলের মা মনজু বেগম ও নানি মেহরা বেগম প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ও আজির রহমানের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। এরই মধ্যে মুরসালিনকে না পেয়ে শুক্রবার এলাকায় মাইকিং করে তার পরিবার। পরদিন শনিবার খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে মমিনুলের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা।

নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মোফাজ্জল হোসেন জানান, দুটি বাড়ির তিনটি শোবার কক্ষসহ পাঁচটি ঘরে আগুন লাগে। আমরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে আমরা পৌঁছার আগেই এসব ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে যায়।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, এ বিষয়ে নিহত শিশুর বাবা মশিউর রহমান বাদী হয়ে নয় জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। আটক চারজনকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি আসা‌মিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’

কুড়িগ্রামে প্রতিবেশীর টয়লেট থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৪:২৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রতিবেশীর বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ সে‌প্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ছিট মালিয়ানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

নিহত শিশু মুরসালিন মিয়া (৮) ওই এলাকার মশিউর রহমান মুছার ছেলে।
পরিবারের দাবি, শিশুটিকে বলাৎকারের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছেন প্রতিবেশী ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মমিনুল ইসলাম (২৩)। মমিনুল ইসলাম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

জানা যায়, মরদেহ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত মমিনুল ও তার নানাবাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ৯৯৯-এ ফোন করলে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মমিনুল ইসলামের মা মহসেনা বেগম ও বোন ফাহিমা খাতুন এবং মমিনুলের পরিবারকে প্রশ্রয় দিয়ে পালানোয় সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মঞ্জু বেগমকে আটক করে থানায় আনে পুলিশ। পরে নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে ৯ জনের নামে মামলা করেন। আটক ৪ জনকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত শিশু মুরসালিনের পরিবার জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুরসালিনের মা ছেলেকে না পেয়ে খোঁজা শুরু করেন। একপর্যায়ে মমিনুলের বাড়িতে গিয়ে মুরসালিনের কথা জিজ্ঞাসা করলে মমিনুল ও তার মা মহসেনা বেগম মুরসালিনকে দেখেননি বলে জানান। কিছুক্ষণ পর আবারও গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা দরজায় তালা লাগিয়ে সটকে পড়ে মমিনুলের নানা মহর উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। একসময় বিষয়টি চাউর হলে মমিনুলের মা মনজু বেগম ও নানি মেহরা বেগম প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ও আজির রহমানের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। এরই মধ্যে মুরসালিনকে না পেয়ে শুক্রবার এলাকায় মাইকিং করে তার পরিবার। পরদিন শনিবার খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে মমিনুলের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা।

নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মোফাজ্জল হোসেন জানান, দুটি বাড়ির তিনটি শোবার কক্ষসহ পাঁচটি ঘরে আগুন লাগে। আমরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে আমরা পৌঁছার আগেই এসব ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে যায়।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, এ বিষয়ে নিহত শিশুর বাবা মশিউর রহমান বাদী হয়ে নয় জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। আটক চারজনকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি আসা‌মিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।