ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’ পাঁচ মাস পর দেশের পথে মির্জা আব্বাস ১৫ দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সরানোর নির্দেশ হাইকোর্টের ভোলায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে জেলা পুলিশের ফুলেল শুভেচ্ছা ও গার্ড অব অনার ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ বিটিভির লোগো পরিবর্তন নয়; দরকার দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে রূপান্তর হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আজ বিশ্ব নারিকেল দিবস তোর চৌদ্দ গোষ্ঠীকে জেল-হাজতের ভাত খাওয়াব’: কাকে হুমকি দিলেন পলি? ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা মেসির মায়ের

ভ্যান হারিয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে দিন কাটছে আরিফের

মঙ্গলবার সকাল ১১টা। বাগেরহাট জেলা আদালত মসজিদের একটু দূরে বুক চেপে আর্তনাদ করছিলেন আরিফ শেখ (৩৫) নামে এক যুবক। কাছে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে কান্না বেড়ে যায় আরও। কিছুসময় পরে জানান উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে এই আদালত এলাকা থেকে।

আরিফ জানান, ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি কিনেছিলেন তিনি। ভ্যান হারিয়ে সপ্তাহের কিস্তি কীভাবে দেবেন আর ছেলে-মেয়েদের মুখে খাবার দেবেন কীভাবে সেই চিন্তায় একটু পর পর আল্লাহ আল্লাহ বলে চিৎকার করছিলেন তিনি।

হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে আরিফ বলেন, ‘ভ্যানটি কিনতে কত কষ্ট করেছি। কেনার ছয় মাসের মধ্যে চুরি হয়ে গেলো। এই ভ্যানের ওপরই আমার সংসার চলে। দশ মিনিটের জন্য একটু ওপরে গেছিলাম এসে দেখি ভ্যান উধাও। এখন খাবো কীভাবে আর কিস্তি দিবো কী দিয়ে তা ভেবেই কূল পাচ্ছি না।’

তিনি জানান, ঘটনার পর দুই ভাই মিলে শহরের অলিগলি, বাস স্ট্যান্ড, এমনকি পাশের উপজেলা ফকিরহাট পর্যন্ত খুঁজেছেন। কিন্তু কোনো খোঁজ মেলেনি। আদালত চত্বরে থাকা সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় চুরির কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট পৌরশহরের বাসাবাটি এলাকার হারুন শেখের ছেলে আরিফ শেখ। ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে চার সদস্যের পরিবার তার। নিজের বলতে কিছুই নেই। শহরের একটি ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকেন। রোদ বা বৃষ্টিতে সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হতো, তাতেই চলত সংসার।

খোঁজ নিতে শুক্রবার আরিফের বাড়িতে গেলে সেখানে কথা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। এর মধ্যে আমিনুল ইসলাম নামের এক মুদি দোকানি বলেন, ‘আরিফ খুব ভালো ছেলে। দিনরাত ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতো। ওর ভ্যান চুরি হয়ে যাওয়ায় খুব খারাপ লাগছে। ভ্যানটি হারিয়ে পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সামর্থ্যবান মানুষেরা যদি আরিফকে সাহায্য করে তাহলে ও আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

আরিফের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঠিকমতো খেতে পারছি না। কিস্তির স্যারেরাও বাসায় এসে কথা শুনিয়ে যাচ্ছে। পাশের বাড়ি থেকে দুই কেজি চাল এনে, আলু ভর্তা করে দুদিন ধরে খাচ্ছি। গরিবের কপাল এত খারাপ কেনো হয়, বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।’ আক্ষেপ নিয়ে আরিফ এদিন বলেন, ‘বাবা হয়ে ছেলে-মেয়ের মুখে তিনবেলা খাবার তুলে দিতে পারছি না। আমার চেয়ে হতভাগা আর কে আছে? কেউ যদি আমার ভ্যানটা ফিরিয়ে দিত, আমি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারতাম।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’

ভ্যান হারিয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে দিন কাটছে আরিফের

আপডেট সময় ০৭:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মঙ্গলবার সকাল ১১টা। বাগেরহাট জেলা আদালত মসজিদের একটু দূরে বুক চেপে আর্তনাদ করছিলেন আরিফ শেখ (৩৫) নামে এক যুবক। কাছে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে কান্না বেড়ে যায় আরও। কিছুসময় পরে জানান উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে এই আদালত এলাকা থেকে।

আরিফ জানান, ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি কিনেছিলেন তিনি। ভ্যান হারিয়ে সপ্তাহের কিস্তি কীভাবে দেবেন আর ছেলে-মেয়েদের মুখে খাবার দেবেন কীভাবে সেই চিন্তায় একটু পর পর আল্লাহ আল্লাহ বলে চিৎকার করছিলেন তিনি।

হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে আরিফ বলেন, ‘ভ্যানটি কিনতে কত কষ্ট করেছি। কেনার ছয় মাসের মধ্যে চুরি হয়ে গেলো। এই ভ্যানের ওপরই আমার সংসার চলে। দশ মিনিটের জন্য একটু ওপরে গেছিলাম এসে দেখি ভ্যান উধাও। এখন খাবো কীভাবে আর কিস্তি দিবো কী দিয়ে তা ভেবেই কূল পাচ্ছি না।’

তিনি জানান, ঘটনার পর দুই ভাই মিলে শহরের অলিগলি, বাস স্ট্যান্ড, এমনকি পাশের উপজেলা ফকিরহাট পর্যন্ত খুঁজেছেন। কিন্তু কোনো খোঁজ মেলেনি। আদালত চত্বরে থাকা সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় চুরির কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট পৌরশহরের বাসাবাটি এলাকার হারুন শেখের ছেলে আরিফ শেখ। ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে চার সদস্যের পরিবার তার। নিজের বলতে কিছুই নেই। শহরের একটি ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকেন। রোদ বা বৃষ্টিতে সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হতো, তাতেই চলত সংসার।

খোঁজ নিতে শুক্রবার আরিফের বাড়িতে গেলে সেখানে কথা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। এর মধ্যে আমিনুল ইসলাম নামের এক মুদি দোকানি বলেন, ‘আরিফ খুব ভালো ছেলে। দিনরাত ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতো। ওর ভ্যান চুরি হয়ে যাওয়ায় খুব খারাপ লাগছে। ভ্যানটি হারিয়ে পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সামর্থ্যবান মানুষেরা যদি আরিফকে সাহায্য করে তাহলে ও আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

আরিফের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঠিকমতো খেতে পারছি না। কিস্তির স্যারেরাও বাসায় এসে কথা শুনিয়ে যাচ্ছে। পাশের বাড়ি থেকে দুই কেজি চাল এনে, আলু ভর্তা করে দুদিন ধরে খাচ্ছি। গরিবের কপাল এত খারাপ কেনো হয়, বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।’ আক্ষেপ নিয়ে আরিফ এদিন বলেন, ‘বাবা হয়ে ছেলে-মেয়ের মুখে তিনবেলা খাবার তুলে দিতে পারছি না। আমার চেয়ে হতভাগা আর কে আছে? কেউ যদি আমার ভ্যানটা ফিরিয়ে দিত, আমি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারতাম।’