ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা

সাত কলেজের দুঃখ তিতুমীর কলেজ

অধিভুক্ত বাতিলের পর থেকে নানা চড়াই-উতরাই মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর করার প্রক্রিয়া। সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা থাকলেও তিতুমীর কলেজ আলাদাভাবে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্দোলন করেছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় না পেলেও স্বতন্ত্র কলেজ পেয়েছে। তবে স্বতন্ত্র কলেজ নয় বরং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি চান তিতুমীরের অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিটির সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রতিনিধি সাবরিনা সুলতানা বলেন, তাদের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ আমাদের সাথে আছে এমনকি তারাও চায় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এখানে তাদের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের দাপটের কারণে তাদের শিক্ষার্থীরা মুখ খুলতে পারছে না। কিছু ব্যক্তির জন্য আমরা তিতুমীরের সমস্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা ভুলে যাচ্ছি না।আমরা এখনো তাদের আহ্বান জানাচ্ছি বোঝানোর চেষ্টা করছি কিন্তু তারপরেও যদি তারা না আসে সে ক্ষেত্রে আসলে তাদের বিষয়টা রাষ্ট্রই দেখবে।

এ বিষয় অন্য প্রতিনিধি আওলাদ জিসান বলেন, তিতুমীরের বিগত দিনের কতিপয় কিছু দুষ্ট প্রকৃতির শিক্ষার্থীর কর্মকান্ডের জন্য তাদের কে নিয়ে আমাদের পৃথক কোনো চিন্তা নাই বরং তারা যেনো আগামীর রাষ্ট্র বির্নিমাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক কার্যক্রম যেনো গতিশীল থাকে তাই ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের কে নিয়ে সাত কলেজের সমম্বয়ে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতুমীর কলেজের এক প্রতিনিধি বলেন, আমাদের মধ্যে একাংশ শিক্ষার্থী ছিল যারা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে ছিল। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ছিল যারা তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও ভালো, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হলেও ভালো এমন। যখন দেখলো যে বিশ্ববিদ্যালয় আর হলো না তখন তারা সাত কলেজ সমন্বয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকার জন্য মত দিচ্ছে। ইতি মধ্যে আমরা গ্রুপ খুলেছি এবং মেসেঞ্জার গ্রুপে মতামত নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীরা সবাই সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি পক্ষে থাকার কথাই বলেছে কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে না পারার কিছু কারন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের জন্য এবং তিতুমীর ঐক্য ও বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের সদস্যরা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

ঢাকা কলেজের প্রতিনিধি রোমান যাভির বলেন, গুটি কয়কজন শিক্ষার্থীর জন্য হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা একটি বিরামবনায় পরবে এবং বিভিন্ন সমস্যায় পরবে বলে মনে হচ্ছে। তাছাড়া আমরা দেখতে পাচ্ছি যে তাদের কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে থাকতে চান। আজ ডেইলি ক্যাম্পাসের একটি নিউজ দেখলাম “সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি” চান তিতুমীরের ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী।

সরকারি বাঙলা কলেজের প্রতিনিধি মুত্তাকী বলেন, তিতুমীর কলেজ বর্তমানে এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন চালাচ্ছে, যা বর্তমান সময়ে অযৌক্তিক মনে হয়। রাষ্ট্রের সক্ষমতা এবং উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত হবে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা। বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা। সেই প্রেক্ষাপটে, আমরা রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও উচ্চ শিক্ষার কথা বিবেচনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবিতে আছি।

প্রসঙ্গত, তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার পিছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগে হাত আছে বলে জানিয়ে একটি গণমাধ্যম।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ

সাত কলেজের দুঃখ তিতুমীর কলেজ

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

অধিভুক্ত বাতিলের পর থেকে নানা চড়াই-উতরাই মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর করার প্রক্রিয়া। সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা থাকলেও তিতুমীর কলেজ আলাদাভাবে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্দোলন করেছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় না পেলেও স্বতন্ত্র কলেজ পেয়েছে। তবে স্বতন্ত্র কলেজ নয় বরং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি চান তিতুমীরের অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিটির সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রতিনিধি সাবরিনা সুলতানা বলেন, তাদের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ আমাদের সাথে আছে এমনকি তারাও চায় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এখানে তাদের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের দাপটের কারণে তাদের শিক্ষার্থীরা মুখ খুলতে পারছে না। কিছু ব্যক্তির জন্য আমরা তিতুমীরের সমস্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা ভুলে যাচ্ছি না।আমরা এখনো তাদের আহ্বান জানাচ্ছি বোঝানোর চেষ্টা করছি কিন্তু তারপরেও যদি তারা না আসে সে ক্ষেত্রে আসলে তাদের বিষয়টা রাষ্ট্রই দেখবে।

এ বিষয় অন্য প্রতিনিধি আওলাদ জিসান বলেন, তিতুমীরের বিগত দিনের কতিপয় কিছু দুষ্ট প্রকৃতির শিক্ষার্থীর কর্মকান্ডের জন্য তাদের কে নিয়ে আমাদের পৃথক কোনো চিন্তা নাই বরং তারা যেনো আগামীর রাষ্ট্র বির্নিমাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক কার্যক্রম যেনো গতিশীল থাকে তাই ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের কে নিয়ে সাত কলেজের সমম্বয়ে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতুমীর কলেজের এক প্রতিনিধি বলেন, আমাদের মধ্যে একাংশ শিক্ষার্থী ছিল যারা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে ছিল। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ছিল যারা তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও ভালো, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হলেও ভালো এমন। যখন দেখলো যে বিশ্ববিদ্যালয় আর হলো না তখন তারা সাত কলেজ সমন্বয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকার জন্য মত দিচ্ছে। ইতি মধ্যে আমরা গ্রুপ খুলেছি এবং মেসেঞ্জার গ্রুপে মতামত নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীরা সবাই সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি পক্ষে থাকার কথাই বলেছে কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে না পারার কিছু কারন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের জন্য এবং তিতুমীর ঐক্য ও বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের সদস্যরা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

ঢাকা কলেজের প্রতিনিধি রোমান যাভির বলেন, গুটি কয়কজন শিক্ষার্থীর জন্য হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা একটি বিরামবনায় পরবে এবং বিভিন্ন সমস্যায় পরবে বলে মনে হচ্ছে। তাছাড়া আমরা দেখতে পাচ্ছি যে তাদের কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে থাকতে চান। আজ ডেইলি ক্যাম্পাসের একটি নিউজ দেখলাম “সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি” চান তিতুমীরের ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী।

সরকারি বাঙলা কলেজের প্রতিনিধি মুত্তাকী বলেন, তিতুমীর কলেজ বর্তমানে এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন চালাচ্ছে, যা বর্তমান সময়ে অযৌক্তিক মনে হয়। রাষ্ট্রের সক্ষমতা এবং উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত হবে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা। বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা। সেই প্রেক্ষাপটে, আমরা রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও উচ্চ শিক্ষার কথা বিবেচনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবিতে আছি।

প্রসঙ্গত, তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার পিছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগে হাত আছে বলে জানিয়ে একটি গণমাধ্যম।