ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ নেত্রকোণায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ২০ জঙ্গলে ২৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরলেন নি‌খোঁজ মালয়েশিয়া প্রবাসী উল্টো পথে আসা পিকআপে অটোরিকশায় ধাক্কা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৭ এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ সদস্য হলেন ২ এমপি গুম-নির্যাতের পেছনে দায়ী শেখ হাসিনা : জেরায় সাক্ষী পটুয়াখালীতে এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় ৫৩৩ জন অনুপস্থিত বাংলাদেশি জাহাজকে কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না ইরান? অপতথ্যের বিস্তার রোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন : বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক’

সন্তানকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠিয়ে স্বামীর লাশ নিয়ে গ্রামে ফিরলেন স্ত্রী

এইচএসসি পরীক্ষার্থী প্রথম সন্তান। পরীক্ষার আগমুহূর্তে রোববার সকালে মৃত্যু হয় স্বামীর। একদিকে স্বামীর লাশ গ্রামে নিয়ে গিয়ে দাফন করা, অন্যদিকে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর তাড়া। শোকাহত স্ত্রী মৃত স্বামীকে হাসপাতালের লাশ ঘরে রেখেই মেয়েকে পাঠালেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। এরপর দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে লাশ দাফনের জন্য রওনা হন শ্বশুরবাড়িতে। রোববার রাতে ফুলগজীতে স্বামীর লাশ দাফন করা হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর দিনে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম আবুল কাশেম। বিকালে তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুনা স্বামীর লাশ নিয়ে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান।

আবুল কাশেম একটি টোব্যাকো কোম্পানিতে চাকরি করতেন। দুই ছেলে- আবুল হাসনাত (২), মাহমুদুল হাসান (১৩), এক মেয়ে ফাহমিদা আক্তার ও স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সদর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। রোববার ভোরে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মেয়ে ফাহমিদা আক্তার এবার কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

রোকসানা আক্তার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছেই স্বামী ও মেয়ের কথা বলে আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় বাড়ির লোকজন নানাভাবে তাকে সান্ত্বনা দেন।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সেলিম বলেন, মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে রেখে স্বামীর লাশ নিয়ে রোকসানা আক্তারের বাড়িতে ফেরার ঘটনা এলাকার মানুষের মনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে। বিকালে আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে আবুল কাশেমের লাশ দাফন করা হয়। আবুল কাশেম গোসাইপুর গ্রামের মৃত মৌলভী হাফেজ উল্লাহর ছেলে। ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিনি পঞ্চম ছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ

সন্তানকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠিয়ে স্বামীর লাশ নিয়ে গ্রামে ফিরলেন স্ত্রী

আপডেট সময় ১২:২২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

এইচএসসি পরীক্ষার্থী প্রথম সন্তান। পরীক্ষার আগমুহূর্তে রোববার সকালে মৃত্যু হয় স্বামীর। একদিকে স্বামীর লাশ গ্রামে নিয়ে গিয়ে দাফন করা, অন্যদিকে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর তাড়া। শোকাহত স্ত্রী মৃত স্বামীকে হাসপাতালের লাশ ঘরে রেখেই মেয়েকে পাঠালেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। এরপর দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে লাশ দাফনের জন্য রওনা হন শ্বশুরবাড়িতে। রোববার রাতে ফুলগজীতে স্বামীর লাশ দাফন করা হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর দিনে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম আবুল কাশেম। বিকালে তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুনা স্বামীর লাশ নিয়ে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান।

আবুল কাশেম একটি টোব্যাকো কোম্পানিতে চাকরি করতেন। দুই ছেলে- আবুল হাসনাত (২), মাহমুদুল হাসান (১৩), এক মেয়ে ফাহমিদা আক্তার ও স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সদর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। রোববার ভোরে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মেয়ে ফাহমিদা আক্তার এবার কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

রোকসানা আক্তার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছেই স্বামী ও মেয়ের কথা বলে আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় বাড়ির লোকজন নানাভাবে তাকে সান্ত্বনা দেন।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সেলিম বলেন, মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে রেখে স্বামীর লাশ নিয়ে রোকসানা আক্তারের বাড়িতে ফেরার ঘটনা এলাকার মানুষের মনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে। বিকালে আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে আবুল কাশেমের লাশ দাফন করা হয়। আবুল কাশেম গোসাইপুর গ্রামের মৃত মৌলভী হাফেজ উল্লাহর ছেলে। ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিনি পঞ্চম ছিলেন।