ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী ১৯ দিনে প্রবাসী আয় ২৫ হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুলকে জিএম কাদেরের অভিনন্দন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মহাখালীতে ১২০ কেজি পলিথিন শপিংব্যাগ জব্দ করল ভ্রাম্যমাণ আদালত কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩১৪ নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কাছে ইনসাফ কায়েম চান জামায়াত আমির

হাকালুকিতে কমছে পরিযায়ী পাখি; হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি। হাকালুকিতে এখন অনিরাপদ আবাসিক ও পরিযায়ী পাখি। পাখি শিকারীদের কারণে দিন দিন কমছে পাখির সংখ্যা। যার কারণে হাকালকি হাওরের জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে।

এ বছরের জানুয়ারি মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখ দুই দিন ব্যাপী হাকালুকি হাওরে পরিচালিত হয় পাখিশুমারি। বাংলাদেশ বন বিভাগ, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) পাখি শুমারি করে।

বাংলাদেশে ৭১৮ প্রজাতির পাখির মধ্যে ৩৮৮ প্রজাতির পাখিই পরিযায়ী। শীতকালে পরিযায়ী হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসে বাংলাদেশে। তারা বেছে নেয় হাকালুকি হাওরের জলাশয়। প্রায় ১৮১ বর্গ কিলোমিটার এ হাওরে রয়েছে ছোট বড় ২৭৬ টি বিল। বিগত বছরের মতো এবারও হয় পাখি শুমারি। তাদের জরিপে হাকালুকিতে এ বছর এসেছে ২৫ হাজার পাখি। যা বিগত বছর গুলো থেকে অনেক কম। যা ২০২০ সালে ছিল ৪০ হাজার ১২৬ টি পাখি। মাত্র কয়েক বছর আগে দেশে ৫-৬ লাখ পরিযায়ী পাখি আসত। এসব পাখি বেশিরভাগ মৌলভীবাজার ও সিলেটের হাওর গুলোকে মুখরিত রাখতো।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) এর পর্যবেক্ষণ বলছে, গত ২০ বছরে সমগ্র বাংলাদেশে ৩৫ শতাংশ কমেছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা। এবং হাকালুকিতে কমেছে ৪৫ শতাংশ। ২০০০ সালের আগে হাওরে গড়ে বিচরণ করতো ৭৫-৮০ হাজার পাখি। তার ৮০ শতাংশ হাকালুকি হাওরে।

পরিযায়ী পাখির সংখ্যা এতো দ্রুত কেন কমেছে তার পেছনে মূল কারণ কি? এর জবাবে পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, নদী দূষণ, জাল বিষটোপ ও পটাশ দিয়ে পাখি শিকার, একসাথে বেশ কয়েকটি বিলে মাছ আহরণ, ইজারাদার দ্বারা বিল শুকিয়ে মাছ নিধন, বিলে দিবারাত্রি পাহারা ও জলজ বৃক্ষ নিধন সহ নানান সমস্যার কথা।

পাথারিয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের সদস্য স্থানীয় পরিবেশ কর্মী খোর্শেদ আলম জানান, হাকালুকি হাওরের সাথে যে নদী গুলো মিলিত হয়েছে এখন এই নদীগুলো ময়লার ভাগাড়! প্লাস্টিক, পলিথিন ও দূষিত পানি! পাখি কমার বিশেষ কয়েকটি কারণের মধ্যে এটি একটি। জাল, বিষটোপ ও পটাশ দিয়ে নিয়মিত পাখি নিধনের পাশাপাশি পাখিদের বিচরণ ভূমি জলাশয় গুলো অরক্ষিত থাকায় দিন দিন কমছে পাখির সংখ্যা। হাওরের পরিযায়ী পাখি রক্ষায় স্থানীয়দের সচেতনতা বাধ্যতামূলক, পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা থাকতে হবে। এতে বাঁচবে আবাসিক ও পরিযায়ী পাখি।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর হাওরে বিল গুলো ইজারা দেয়া হয়। এবছরও হয়েছে। এতে বেশ লোকসমাগম ঘটে। দিনরাত পাহারা দেয়া হয়। এসব কারণে পরিযায়ী পাখিরা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে না। ইজারদার দ্বারা বিল শুকিয়ে মাছ আহরণের কারণে নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র। ফলে পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা কমছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

হাকালুকিতে কমছে পরিযায়ী পাখি; হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

আপডেট সময় ০৫:১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি। হাকালুকিতে এখন অনিরাপদ আবাসিক ও পরিযায়ী পাখি। পাখি শিকারীদের কারণে দিন দিন কমছে পাখির সংখ্যা। যার কারণে হাকালকি হাওরের জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে।

এ বছরের জানুয়ারি মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখ দুই দিন ব্যাপী হাকালুকি হাওরে পরিচালিত হয় পাখিশুমারি। বাংলাদেশ বন বিভাগ, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) পাখি শুমারি করে।

বাংলাদেশে ৭১৮ প্রজাতির পাখির মধ্যে ৩৮৮ প্রজাতির পাখিই পরিযায়ী। শীতকালে পরিযায়ী হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসে বাংলাদেশে। তারা বেছে নেয় হাকালুকি হাওরের জলাশয়। প্রায় ১৮১ বর্গ কিলোমিটার এ হাওরে রয়েছে ছোট বড় ২৭৬ টি বিল। বিগত বছরের মতো এবারও হয় পাখি শুমারি। তাদের জরিপে হাকালুকিতে এ বছর এসেছে ২৫ হাজার পাখি। যা বিগত বছর গুলো থেকে অনেক কম। যা ২০২০ সালে ছিল ৪০ হাজার ১২৬ টি পাখি। মাত্র কয়েক বছর আগে দেশে ৫-৬ লাখ পরিযায়ী পাখি আসত। এসব পাখি বেশিরভাগ মৌলভীবাজার ও সিলেটের হাওর গুলোকে মুখরিত রাখতো।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) এর পর্যবেক্ষণ বলছে, গত ২০ বছরে সমগ্র বাংলাদেশে ৩৫ শতাংশ কমেছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা। এবং হাকালুকিতে কমেছে ৪৫ শতাংশ। ২০০০ সালের আগে হাওরে গড়ে বিচরণ করতো ৭৫-৮০ হাজার পাখি। তার ৮০ শতাংশ হাকালুকি হাওরে।

পরিযায়ী পাখির সংখ্যা এতো দ্রুত কেন কমেছে তার পেছনে মূল কারণ কি? এর জবাবে পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, নদী দূষণ, জাল বিষটোপ ও পটাশ দিয়ে পাখি শিকার, একসাথে বেশ কয়েকটি বিলে মাছ আহরণ, ইজারাদার দ্বারা বিল শুকিয়ে মাছ নিধন, বিলে দিবারাত্রি পাহারা ও জলজ বৃক্ষ নিধন সহ নানান সমস্যার কথা।

পাথারিয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের সদস্য স্থানীয় পরিবেশ কর্মী খোর্শেদ আলম জানান, হাকালুকি হাওরের সাথে যে নদী গুলো মিলিত হয়েছে এখন এই নদীগুলো ময়লার ভাগাড়! প্লাস্টিক, পলিথিন ও দূষিত পানি! পাখি কমার বিশেষ কয়েকটি কারণের মধ্যে এটি একটি। জাল, বিষটোপ ও পটাশ দিয়ে নিয়মিত পাখি নিধনের পাশাপাশি পাখিদের বিচরণ ভূমি জলাশয় গুলো অরক্ষিত থাকায় দিন দিন কমছে পাখির সংখ্যা। হাওরের পরিযায়ী পাখি রক্ষায় স্থানীয়দের সচেতনতা বাধ্যতামূলক, পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা থাকতে হবে। এতে বাঁচবে আবাসিক ও পরিযায়ী পাখি।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর হাওরে বিল গুলো ইজারা দেয়া হয়। এবছরও হয়েছে। এতে বেশ লোকসমাগম ঘটে। দিনরাত পাহারা দেয়া হয়। এসব কারণে পরিযায়ী পাখিরা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে না। ইজারদার দ্বারা বিল শুকিয়ে মাছ আহরণের কারণে নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র। ফলে পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা কমছে।