জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্তা শারমিন। বর্তমানে দলটির নতুন কমিটিতে তিনি যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। পদত্যাগের পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে একাধিক আদর্শিক ও সাংগঠনিক বিচ্যুতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সামান্তা শারমিন। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পদত্যাগের কারণও তুলে ধরেছেন তিনি।
সামান্তা শারমিনের পদত্যাগপত্রে এনসিপি ছাড়ার চারটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—
১. জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতা ও সংস্কারের রাজনীতি থেকে বিচ্যুতি
সামান্তা শারমিনের মতে, নীতিগত বা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই জামায়াতে ইসলামী মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। এ বিষয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এনসিপি দলটির সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। এর ফলে দলটি নিজস্ব ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক, আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামোর প্রকৃত সংস্কারের রাজনীতিতে জামায়াত বিশ্বাসী নয় বলেও তিনি মনে করেন।
২. নির্বাচনী কৌশল ও স্বকীয় রাজনীতি বিসর্জন
২০২৬ সালের নির্বাচনকে রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নির্বাচন হিসেবে ব্যবহার না করে পুরোনো ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচনে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। টেকসই রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা তৈরির বদলে সাময়িক নির্বাচনী সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
৩. গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অবদান উপেক্ষা ও রক্ষণশীল রাজনীতি গ্রহণ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সম্মুখসারির ভূমিকা থাকলেও বিজয়ের পর এনসিপি নারীদের রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেনি; বরং তাঁদের কোণঠাসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সামান্তা শারমিন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দল পরিচালনা এবং রক্ষণশীল ও নারীবিরোধী রাজনৈতিক ধারার সহযোগী হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
৪. দলের অভ্যন্তরীণ অগণতান্ত্রিক চর্চা ও কাউন্সিল না করা
নির্ধারিত সময়ে গণতান্ত্রিক কাউন্সিল আয়োজন না করে বারবার আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন এবং ভিন্নমত দমন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দলের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তৃণমূলের মতামত নিশ্চিত করার গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকায় রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন সামান্তা শারমিন।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 
























