ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ১০০ পিস ইয়াবাসহ বিপ্লব রহমান (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিকে ছাড়াতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, তদবিরে কাজ না হওয়ায় ওই কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।
সোমবার দুপুরে পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগ ওঠা ওই কর্মকর্তার নাম আবু বেলাল ছিদ্দিক। তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা বাজারে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে মূল সড়ক থেকে বিপ্লব রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ১৫০ সিসির একটি মোটরসাইকেলসহ তাঁকে থানায় নেওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ছাড়াতে রাতভর পুলিশের কাছে তদবির করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপপরিদর্শক জানান, শুরুতে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক। আটক ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি তাঁর মামা হন। পরে পুলিশ রাজি না হওয়ায় টাকার বিনিময়ে কম পরিমাণ মাদক দেখিয়ে মামলা করার জন্য তদবির করেন। তবে মাদক নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানালে তিনি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
মাদকসহ আটক বিপ্লব রহমান ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর চৌধুরীহাট এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে। সোমবার সকালে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বালিয়াডাঙ্গী থানা-পুলিশ।
অভিযানে থাকা বালিয়াডাঙ্গী থানার উপপরিদর্শক শাহরিয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই আসামি এ এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন। অভিযানের দিন তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “যারা আপনাকে বলেছে, তাদের জিজ্ঞাসা করেন। আমাকে এসব বলছেন কেন?” একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মাদকসহ আটক কাউকে ছাড়াতে তদবির করতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রতিবেদককে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করতে বলেন।
মো. নুরুজ্জামান-বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি 



















