ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সহকর্মীদের ভালোবাসা ও শুভকামনায় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন পুলিশ পরিদর্শক আবু নোমান ভোলাহাটে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ! হত্যার চেষ্টায় গুরুতর আহত যুবক! মিরসরাইয়ে প্রকল্পে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ: আসামি ১৩ মধ্যরাতে গৃহবধূর বাসায় ভাঙচুর, টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ বাড্ডা থানার এসআই হানিফের বিরুদ্ধে জ্বালানি সংকটের দায় সরকারের নয়, বিরোধী দলের লং মার্চ অযৌক্তিক: রিজভী সাংবাদিক নূরে আলমের বাবা জাকির হোসেন আর নেই কুমিল্লা বোর্ডে ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ লিবিয়ার বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে কৃতজ্ঞতা জানালেন ৫ যুবক ঢাকা-বরিশাল লংমার্চ, গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভা গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে ব্যাপক ফলনের সাফল্য

মধ্যরাতে গৃহবধূর বাসায় ভাঙচুর, টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ বাড্ডা থানার এসআই হানিফের বিরুদ্ধে

রাজধানীর বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হানিফের বিরুদ্ধে গভীর রাতে এক নারীর বাসায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, আসবাবপত্র ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাতে বাড্ডা এলাকার একটি আবাসিক বাসায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোনো ধরনের প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী নারী রাবেয়া আক্তার (৩৫) পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও সময়রেখা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বাড্ডা থানার এসআই হানিফ, মজিরুন নেছা, মো. দিপু, সুমি এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজন ব্যক্তি সম্পূর্ণ সাদা পোশাকে ভুক্তভোগী রাবেয়া আক্তারের বাসায় উপস্থিত হন। ভুক্তভোগীর দাবি, বাসার প্রধান গেট খুলতে সামান্য দেরি হওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই হানিফ দরজায় উপর্যুপরি লাথি মারেন। এই আকস্মিক ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে বাসার মূল ভাড়াটিয়ার চার, আট ও ১২ বছর বয়সী কোমলমতি শিশুরা চরম আতঙ্কিত হয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে কান্নাকাটি শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জোরপূর্বক বাসার ভেতরে প্রবেশ করে কক্ষে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং জিনিসপত্র তছনছ করেন। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ছয় হাজার টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ১৫ হাজার টাকা) এবং একটি মূল্যবান ব্লুটুথ স্পিকার জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অপারেশন শেষে এসআই হানিফ ভুক্তভোগী রাবেয়াকে যেকোনো মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর প্রকাশ্য হুমকি দেন। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে এসআই হানিফের কথিত সহযোগী হিসেবে মজিরুন নেছার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই অনভিপ্রেত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ, কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে নানা তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী নারী রাবেয়া আক্তার (নিপা) গণমাধ্যমকে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে এসআই হানিফ তাঁর সঙ্গে যে বর্বরোচিত আচরণ করেছেন, তা স্পষ্টতই প্রচলিত আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি বাড্ডা থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন। তিনি আরও হুঁশিয়ার করে বলেন, এখানেও যদি তিনি ন্যায়বিচার না পান, তবে প্রয়োজনে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির দ্বারস্থ হবেন এবং শেষ পর্যন্ত আদালতে আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন। এদিকে অন্য আরেক ভুক্তভোগী দম্পতি শফিকুল ইসলাম ও মাজেদা খাতুন অভিযোগ করে জানান যে, অভিযুক্ত মজিরুন নেছা মূলত এসআই হানিফের অনৈতিক আশ্রিত হয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি তাঁকে কাশিমপুর কারাগারের সামনেও মারধর করা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের একজন সুমির কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অসংলগ্ন মন্তব্য করেন এবং সংবাদকর্মীর জেরার মুখে কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অপর অভিযুক্ত এসআই তারেক আজিজ জানান যে, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর দাপ্তরিক অভিযোগ করা হয়েছে, তাই সরকারি নির্দেশনার কাগজ হাতে পেলে তিনি লিখিত জবাব দেবেন। প্রধান অভিযুক্ত বাড্ডা থানার এসআই হানিফ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, সে সময় ওই এলাকায় তাঁর সরকারি ডিউটি ছিল এবং গোলমালের শব্দ শুনে তিনি কেবল পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে গিয়েছিলেন। বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমিন প্রথমে ঘটনাটি তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করলেও পরবর্তীতে অভিযোগের অনুলিপি পাওয়ার পর আর কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে গুলশান বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল কবির খানের কাছে ভুক্তভোগীরা দেখা করলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, আদালতের পরোয়ানা বা সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান ব্যতিরেকে গভীর রাতে সাদা পোশাকে সাধারণ নাগরিকের বাসাবাড়িতে বলপূর্বক প্রবেশ, তল্লাশি বা ভাঙচুর করা সম্পূর্ণ অবৈধ। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করার এই ধরনের প্রবণতা সামগ্রিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। অতীতেও পুলিশ সদস্যদের একাংশের বিরুদ্ধে এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির বহু অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘসূত্রিতা ও বিভাগীয় নিষ্ক্রিয়তার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের স্পর্শকাতর অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

এই ঘটনার দূরবর্তী প্রভাব ও সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশ বাহিনীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কতিপয় সদস্যের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও আস্থার সংকট তৈরি করে। রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের জানমালের রক্ষক, তখন খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন গর্হিত কাজে জড়িয়ে পড়েন, তবে রাষ্ট্রে আইনের শাসন চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। তাই ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় থেকে এই ঘটনার একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করে দোষী প্রমাণিত হলে এসআই হানিফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সহকর্মীদের ভালোবাসা ও শুভকামনায় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন পুলিশ পরিদর্শক আবু নোমান

মধ্যরাতে গৃহবধূর বাসায় ভাঙচুর, টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ বাড্ডা থানার এসআই হানিফের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৫:০৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হানিফের বিরুদ্ধে গভীর রাতে এক নারীর বাসায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, আসবাবপত্র ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাতে বাড্ডা এলাকার একটি আবাসিক বাসায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোনো ধরনের প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী নারী রাবেয়া আক্তার (৩৫) পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও সময়রেখা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বাড্ডা থানার এসআই হানিফ, মজিরুন নেছা, মো. দিপু, সুমি এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজন ব্যক্তি সম্পূর্ণ সাদা পোশাকে ভুক্তভোগী রাবেয়া আক্তারের বাসায় উপস্থিত হন। ভুক্তভোগীর দাবি, বাসার প্রধান গেট খুলতে সামান্য দেরি হওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই হানিফ দরজায় উপর্যুপরি লাথি মারেন। এই আকস্মিক ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে বাসার মূল ভাড়াটিয়ার চার, আট ও ১২ বছর বয়সী কোমলমতি শিশুরা চরম আতঙ্কিত হয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে কান্নাকাটি শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জোরপূর্বক বাসার ভেতরে প্রবেশ করে কক্ষে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং জিনিসপত্র তছনছ করেন। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ছয় হাজার টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ১৫ হাজার টাকা) এবং একটি মূল্যবান ব্লুটুথ স্পিকার জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অপারেশন শেষে এসআই হানিফ ভুক্তভোগী রাবেয়াকে যেকোনো মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর প্রকাশ্য হুমকি দেন। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে এসআই হানিফের কথিত সহযোগী হিসেবে মজিরুন নেছার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই অনভিপ্রেত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ, কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে নানা তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী নারী রাবেয়া আক্তার (নিপা) গণমাধ্যমকে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে এসআই হানিফ তাঁর সঙ্গে যে বর্বরোচিত আচরণ করেছেন, তা স্পষ্টতই প্রচলিত আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি বাড্ডা থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন। তিনি আরও হুঁশিয়ার করে বলেন, এখানেও যদি তিনি ন্যায়বিচার না পান, তবে প্রয়োজনে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির দ্বারস্থ হবেন এবং শেষ পর্যন্ত আদালতে আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন। এদিকে অন্য আরেক ভুক্তভোগী দম্পতি শফিকুল ইসলাম ও মাজেদা খাতুন অভিযোগ করে জানান যে, অভিযুক্ত মজিরুন নেছা মূলত এসআই হানিফের অনৈতিক আশ্রিত হয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি তাঁকে কাশিমপুর কারাগারের সামনেও মারধর করা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের একজন সুমির কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অসংলগ্ন মন্তব্য করেন এবং সংবাদকর্মীর জেরার মুখে কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অপর অভিযুক্ত এসআই তারেক আজিজ জানান যে, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর দাপ্তরিক অভিযোগ করা হয়েছে, তাই সরকারি নির্দেশনার কাগজ হাতে পেলে তিনি লিখিত জবাব দেবেন। প্রধান অভিযুক্ত বাড্ডা থানার এসআই হানিফ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, সে সময় ওই এলাকায় তাঁর সরকারি ডিউটি ছিল এবং গোলমালের শব্দ শুনে তিনি কেবল পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে গিয়েছিলেন। বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমিন প্রথমে ঘটনাটি তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করলেও পরবর্তীতে অভিযোগের অনুলিপি পাওয়ার পর আর কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে গুলশান বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল কবির খানের কাছে ভুক্তভোগীরা দেখা করলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, আদালতের পরোয়ানা বা সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান ব্যতিরেকে গভীর রাতে সাদা পোশাকে সাধারণ নাগরিকের বাসাবাড়িতে বলপূর্বক প্রবেশ, তল্লাশি বা ভাঙচুর করা সম্পূর্ণ অবৈধ। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করার এই ধরনের প্রবণতা সামগ্রিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। অতীতেও পুলিশ সদস্যদের একাংশের বিরুদ্ধে এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির বহু অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘসূত্রিতা ও বিভাগীয় নিষ্ক্রিয়তার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের স্পর্শকাতর অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

এই ঘটনার দূরবর্তী প্রভাব ও সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশ বাহিনীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কতিপয় সদস্যের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও আস্থার সংকট তৈরি করে। রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের জানমালের রক্ষক, তখন খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন গর্হিত কাজে জড়িয়ে পড়েন, তবে রাষ্ট্রে আইনের শাসন চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। তাই ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় থেকে এই ঘটনার একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করে দোষী প্রমাণিত হলে এসআই হানিফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।