লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে অপহৃত বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউপির দিশাবন্দ গ্রামের পাঁচ যুবক। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও উৎকণ্ঠার পর নিজ মাতৃভূমিতে পা রেখে তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। দেশে ফিরেই তাদের উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহায়তা করার জন্য গতকাল (৩০ অক্টোবর) মনোহরগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কুমিল্লা-৯ সংসদীয় আসনের এমপি মো. আবুল কালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী যুবকরা জানান, উন্নত জীবন গড়ার আশায় ও ভাগ্যান্বেষণে তারা দালালের মাধ্যমে ৬ জন যুবক ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই তারা আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী ও স্থানীয় মাফিয়া চক্রের খপ্পরে পড়েন। চক্রটি তাদের একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনাটি জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের পরিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের দ্বারস্থ হন। এমপি আবুল কালাম বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে দ্রুত যোগাযোগ শুরু করেন। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে বন্দিদশা থেকে ওই পাঁচ যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি ১ জন (ফয়সাল) নামের এক যুবক বন্দি অবস্থায় মারা গেছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি ৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভুক্তভোগী যুবকরা হলেন উপজেলার খিলা ইউপির দিশাবন্দ গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেন, মো. মানিকুল ইসলাম, মো. সোহেল, মো. তাজ মোহাম্মদ, ফয়সাল ও উপজেলার লক্ষণপুর ইউপির বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দালালের কথামতো জনপ্রতি ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে তারা লিবিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়।
দেশে ফিরে ওই যুবকরা এমপি আবুল কালামের সাথে দেখা করতে যান। এ সময় তারা এমপিকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরাও সংসদ সদস্যের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এ বিষয়ে এমপি মো. আবুল কালাম বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। আমাদের যুবকরা বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়েছিল শুনে আমি স্থির থাকতে পারিনি। সরকারি সংস্থা ও দূতাবাসের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পেরে নিজের কাছেও
আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 



















