নীলফামারীর ডোমারে জনসাধারণের সরকারি রেকর্ডভুক্ত চলাচলের রাস্তা দখল করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহাগ ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাস্তা দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার দাবিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ডোমার পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুর আলম রিমুন, জাতীয় নাগরিক পার্টির নীলফামারী জেলা শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসিফ ইকবাল মাহমুদসহ এলাকাবাসী।
অভিযোগে বলা হয়, ডোমার উপজেলার ৯ নম্বর বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। চান্দিনাপাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম আজাদের বাড়ি থেকে উত্তর দিকে শহিদুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চলাচলের রাস্তা ছিল। রাস্তাটি সিএস ও এসএ রেকর্ডের পাশাপাশি বিএস জরিপের নকশাতেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাস্তাটির বিভিন্ন অংশের পাশের জমির মালিকেরা রাস্তার জায়গা দখল করে নিজেদের জমির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এতে রাস্তার বড় একটি অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে রাস্তার সংশ্লিষ্ট অংশের বিভিন্ন বিএস দাগ নম্বর উল্লেখ করে সেগুলো যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী হাসানুর আলম রিমুন জানান, সোহাগ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা তাঁর দখলে। আমরা ইতঃপূর্বে বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হয়েছিলাম, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশায় আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।
বোড়াগাড়ী ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বাবু জানান, রেকর্ডে রাস্তা আছে, এটা সঠিক। কিন্তু সেই রাস্তার অংশ কেউ জোর করে দখলে নেয়নি। রাস্তার কাজেও কেউ কখনো বাধা দেয়নি বা এটা নিয়ে কখনো ঝামেলা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ইসলাম জানান, এসএ রেকর্ডে রাস্তাটি থাকলেও বিএস রেকর্ডে তা নেই। বিএস রেকর্ডে পুরো জমি মালিকানাধীন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে রাস্তা থাকলে বিএস রেকর্ডেও তা থাকার কথা। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বুঝতে পারছেন না।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুন্না রানী চন্দ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















