আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে ইসরায়েলের সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেই ‘তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে নতুন সরকার গঠন করতে হতে পারে। ওই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে দ্রুত আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন করা।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন আগের মন্ত্রিসভার দুই কট্টর ডানপন্থি সদস্য ইতামার বেন-গিভর ও বেজালেল স্মোৎরিচকে নতুন সরকারে দেখতে চান না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় বেন-গিভর ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী এবং স্মোৎরিচ ছিলেন অর্থমন্ত্রী। দুজনই কট্টর ডানপন্থি নেতা। গত কয়েক বছরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে একাধিকবার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও এই দুই নেতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা। সংবাদমাধ্যমটি দ্য জেরুজালেম পোস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
মার্কিন সূত্রগুলো হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লাকে জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেন-গিভর ও স্মোৎরিচের ইন্ধনে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা তাঁর পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা, ইসরায়েলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক উন্নয়নের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা—সবই পশ্চিম তীরের সহিংসতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোট কিংবা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জোট ৫৩টি, আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে।
আরব দলগুলো এখন ‘কিংমেকার’ বা সরকার গঠনে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে ওঠায় দেশটির প্রধান বামপন্থি দলের নেতা ইয়ার গোলান বিরোধী নেতা আইজেনকোটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। বিরোধী জোটের অন্যতম ডানপন্থি নেতা আভিগদোর লিবারম্যান ও তাঁর দল ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিতে পারেন—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























