ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্পেনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা, নিহত বেড়ে ৬৪ পঞ্চগড়ের ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফাঁস, অভিযুক্ত ৩ কর্মচারী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন জয়-পুতুলসহ ৮ জনের মামলায় সিআরআইয়ের কর নথি জব্দের নির্দেশ সিসিকে দুর্নীতির মহোৎসব, শত কোটি টাকার লুটপাটে জড়িত ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী! মাদকমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়তে মৌলভীবাজারে শিক্ষক প্রশিক্ষণ পপুলার ডায়াগনস্টিকে অনুমোদিত প্রযুক্তিতে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা চালুর উদ্যোগ রামপালে বিশেষ অভিযানে চুরি মামলার আসামি গ্রেপ্তার, চোরাই মালামাল উদ্ধার জাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১০ জানুয়ারি, চলবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তারাগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের যাত্রা শুরু, প্রতিভা অন্বেষণে মাঠে শিশুরা

শান্তিচুক্তির শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইরান। তবে অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানের মাধ্যমে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মতো বিষয়গুলোর সমাধান করা। বিনিময়ে হুথিদের সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে।

ইসরায়েল হায়োমের তথ্যমতে, সংঘাত প্রশমনের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সোমবার তেহরানে যান এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সংবাদমাধ্যমটির একটি সূত্র দাবি করেছে, মন্ত্রী সি-১৩০ (C-130) সামরিক পরিবহন বিমানে করে এই অর্থ নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

কী কী রয়েছে সৌদির প্রস্তাবে?

প্রস্তাবিত এই আর্থিক প্যাকেজটি আগের কিছু সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সহায়তা করার কথা ছিল সৌদি আরবের।

এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল। বর্তমানে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোতে হুথিদের হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নতুন এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পুরোনো সমঝোতাগুলো পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ তুলেছে।

তবে কথিত এই চুক্তির শর্তাবলি, ১০০ কোটি ডলার হস্তান্তর এবং সৌদি মন্ত্রীর বিমানে করে অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবির বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া হুথিরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে কি না, তা-ও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

ইরান কেন এতে জড়িয়েছে?

পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ইয়েমেন সংঘাতের ক্ষেত্রে তেহরান নিজেকে একটি কূটনৈতিক পক্ষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে হুথিদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

২০ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানান, আলোচনা আয়োজনের জন্য তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে সৌদি আরব ও হুথিরা সাড়া দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার খবর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় হয়তো পরিবর্তন আসছে। যদিও কোনো চুক্তির বিস্তারিত তথ্য বা বর্তমান অবস্থা এখনো অস্পষ্ট।

এদিকে সৌদি আরব প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তেহরানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ছিল উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রিন্স খালিদ ও সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করা। তবে বিবৃতিতে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি যুদ্ধবিরতি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। এমন এক সময়ে এই উদ্যোগের খবর এসেছে, যখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন হামলা ও বিঘ্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।

ইরানের জন্য এই মধ্যস্থতা কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে দেশটির ভূমিকা আরও জোরালো করতে পারে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের ক্ষেত্রে যেকোনো চুক্তিতে হুথিদের হামলার কারণে সৃষ্ট চলমান নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা, নিহত বেড়ে ৬৪

শান্তিচুক্তির শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

আপডেট সময় ০৪:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইরান। তবে অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানের মাধ্যমে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মতো বিষয়গুলোর সমাধান করা। বিনিময়ে হুথিদের সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে।

ইসরায়েল হায়োমের তথ্যমতে, সংঘাত প্রশমনের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সোমবার তেহরানে যান এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সংবাদমাধ্যমটির একটি সূত্র দাবি করেছে, মন্ত্রী সি-১৩০ (C-130) সামরিক পরিবহন বিমানে করে এই অর্থ নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

কী কী রয়েছে সৌদির প্রস্তাবে?

প্রস্তাবিত এই আর্থিক প্যাকেজটি আগের কিছু সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সহায়তা করার কথা ছিল সৌদি আরবের।

এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল। বর্তমানে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোতে হুথিদের হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নতুন এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পুরোনো সমঝোতাগুলো পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ তুলেছে।

তবে কথিত এই চুক্তির শর্তাবলি, ১০০ কোটি ডলার হস্তান্তর এবং সৌদি মন্ত্রীর বিমানে করে অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবির বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া হুথিরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে কি না, তা-ও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

ইরান কেন এতে জড়িয়েছে?

পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ইয়েমেন সংঘাতের ক্ষেত্রে তেহরান নিজেকে একটি কূটনৈতিক পক্ষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে হুথিদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

২০ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানান, আলোচনা আয়োজনের জন্য তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে সৌদি আরব ও হুথিরা সাড়া দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার খবর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় হয়তো পরিবর্তন আসছে। যদিও কোনো চুক্তির বিস্তারিত তথ্য বা বর্তমান অবস্থা এখনো অস্পষ্ট।

এদিকে সৌদি আরব প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তেহরানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ছিল উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রিন্স খালিদ ও সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করা। তবে বিবৃতিতে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি যুদ্ধবিরতি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। এমন এক সময়ে এই উদ্যোগের খবর এসেছে, যখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন হামলা ও বিঘ্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।

ইরানের জন্য এই মধ্যস্থতা কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে দেশটির ভূমিকা আরও জোরালো করতে পারে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের ক্ষেত্রে যেকোনো চুক্তিতে হুথিদের হামলার কারণে সৃষ্ট চলমান নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।