ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুঃখের কথা শুনেই সহায়তার হাত বাড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, যুবদল নেতা আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে ক্ষমতা হারাতে পারেন নেতানিয়াহু বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও যাত্রীরা ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল ১ নভেম্বর পর্যন্ত উখিয়ায় এসআই কিবরিয়াসহ ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়াবা ও পিস্তল গায়েবের অভিযোগ নেতানিয়াহুর বদলে ‘কম ক্ষতিকর’ প্রধানমন্ত্রী চান গাজাবাসী বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত কুড়িগ্রামে ২ কোটি টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে মামলা

ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু-সেনাপ্রধানের নজিরবিহীন দ্বন্দ্বের গুঞ্জন

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান।

নির্বাচন পেছানোর কৌশল হিসেবে সম্প্রতি ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু—এমন গুঞ্জন উঠেছে। এ নিয়ে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের সঙ্গে তাঁর ‘নজিরবিহীন দ্বন্দ্ব’ তৈরি হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু এই গুঞ্জন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সোমবার এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে আগ্রহী ছিলেন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজসহ সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তবে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জামিরের বক্তব্য ছিল, এ মুহূর্তে ইরানে অভিযান চালানো হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে এবং ইসরায়েলের নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করার পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে আরও আলোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযানের আইনি অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্রে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষরও চান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেনাপ্রধানের আপত্তির কারণেই ইরানে প্রস্তাবিত অভিযান বাস্তবায়ন করা যায়নি। নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সেনাপ্রধান জামিরকে বরখাস্ত করতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে।

সেনাপ্রধানের আপত্তির পর ইরানে অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্পও তাঁর প্রস্তাবে সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর একটি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধানকে সতর্ক করেছিলেন যে, এ ধরনের হামলা ইসরায়েলের নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে।

তবে নেতানিয়াহু ও কাৎজ—উভয়েই এসব তথ্য অস্বীকার করেছেন। সেনাপ্রধান জামিরের সঙ্গে তাঁদের মতপার্থক্য বা দূরত্ব বাড়ার খবরও নাকচ করেছেন তাঁরা। সোমবার সকালে কাৎজ বলেন, নির্বাচনের আগে ইরানের ওপর হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির সম্ভবত একমাত্র নিরাপত্তাপ্রধান, যিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুঃখের কথা শুনেই সহায়তার হাত বাড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ

ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু-সেনাপ্রধানের নজিরবিহীন দ্বন্দ্বের গুঞ্জন

আপডেট সময় ০৩:৪২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান।

নির্বাচন পেছানোর কৌশল হিসেবে সম্প্রতি ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু—এমন গুঞ্জন উঠেছে। এ নিয়ে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের সঙ্গে তাঁর ‘নজিরবিহীন দ্বন্দ্ব’ তৈরি হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু এই গুঞ্জন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সোমবার এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে আগ্রহী ছিলেন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজসহ সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তবে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জামিরের বক্তব্য ছিল, এ মুহূর্তে ইরানে অভিযান চালানো হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে এবং ইসরায়েলের নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করার পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে আরও আলোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযানের আইনি অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্রে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষরও চান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেনাপ্রধানের আপত্তির কারণেই ইরানে প্রস্তাবিত অভিযান বাস্তবায়ন করা যায়নি। নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সেনাপ্রধান জামিরকে বরখাস্ত করতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে।

সেনাপ্রধানের আপত্তির পর ইরানে অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্পও তাঁর প্রস্তাবে সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর একটি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধানকে সতর্ক করেছিলেন যে, এ ধরনের হামলা ইসরায়েলের নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে।

তবে নেতানিয়াহু ও কাৎজ—উভয়েই এসব তথ্য অস্বীকার করেছেন। সেনাপ্রধান জামিরের সঙ্গে তাঁদের মতপার্থক্য বা দূরত্ব বাড়ার খবরও নাকচ করেছেন তাঁরা। সোমবার সকালে কাৎজ বলেন, নির্বাচনের আগে ইরানের ওপর হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির সম্ভবত একমাত্র নিরাপত্তাপ্রধান, যিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।