ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ১০ নম্বর বায়েক ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জরাজীর্ণ ভবন, চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অথচ প্রতিদিন এ কেন্দ্রে প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চারপাশে গজিয়ে উঠেছে ঝোপঝাড় ও আগাছা। ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। কেন্দ্রটির দৃশ্যমান স্থানে নামফলকও চোখে পড়েনি। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের অপেক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের মতে, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কেন্দ্রটির বর্তমান পরিস্থিতি রোগীদের স্বাভাবিকভাবে সেবা গ্রহণে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।
এদিকে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে পদায়ন করা এমএলএসএস আমেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, তাঁর পদায়ন বায়েক উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হলেও তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন না। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি যাচাই করে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়ন করা হলে সাধারণ মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।
এ অবস্থায় বায়েক উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, চারপাশের ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, দৃশ্যমান স্থানে নামফলক স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট জনবলের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
মোরশেদ আলম-কসবা প্রতিনিধি 
























