ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজে জাহাজ চলাচল করলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধে ১ জানুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে এনইআইআর সাজেক নিয়ে কী হচ্ছে, প্রশ্ন শফিকুর রহমানের বুকে ব্যথা নিয়ে সিসিইউতে আব্দুল মঈন খান ১৪৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়েও চালু হয়নি কারখানা: চরম ঝুঁকিতে জনতা ব্যাংক বায়েক উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেহাল পরিবেশ, দুর্ভোগে রোগীরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি: বরখাস্ত বিচারক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ চন্দনাইশে বাসের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেল প্রাইভেটকার, আহত ৫ কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ: অভিযোগের তীর সওজ প্রকৌশলী নাজমুল দিকে খোলা পোলাও চাল ১০০ টাকা, প্যাকেটজাত চাল ২৩০

১৪৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়েও চালু হয়নি কারখানা: চরম ঝুঁকিতে জনতা ব্যাংক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১০ বার পড়া হয়েছে

টাইলস ও সিরামিকস কারখানা স্থাপনের কথা বলে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা ঋণ তুলে নিয়েছে ‘মেসার্স কনিকা কমার্শিয়াল লিমিটেড’। তবে বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ছাড়ের পরও কারখানার উৎপাদন শুরু করা তো দূরের কথা, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রকল্পস্থলের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ এবং ভেতরে বা বাইরে ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধতার কোনো নামফলকও নেই।

অনিয়মিতভাবে ঋণ প্রদান, বারবার শর্ত লঙ্ঘন ও বেআইনি পুনর্বিন্যাসের কারণে সুদে-আসলে কনিকা কমার্শিয়ালের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা এখন ২৬৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ এর বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদের মূল্য সামান্য। ফলে বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটি। মহাহিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের ২০২৪-২০২৫ নিরীক্ষা বছরের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট শাখার রেকর্ড পর্যালোচনায় চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

দায়ের তুলনায় জামানত কম, আর্থিক ক্ষতি ২৬৬ কোটি টাকা
২০২৫ সালের ৩১ মার্চের হিসাব অনুযায়ী, কনিকা কমার্শিয়াল লিমিটেডের কাছে জনতা ব্যাংকের মোট অনাদায়ী দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকা। ঋণের একটি কিস্তিও আদায় না হওয়া এবং উৎপাদন শুরু না হওয়ায় সুদের কারণে এই দায়ের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

এর বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে সহজামানত বা বন্ধক হিসেবে ১ হাজার ২০৪ দশমিক ৩২ শতক জমি রাখা হয়। ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি ব্যাংকের মূল্যায়নে এই জমির ‘ফোর্সড সেল ভ্যালু’ বা বাধ্যতামূলক বিক্রয়মূল্য ধরা হয় মাত্র ৬৭ কোটি ৪৪ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ, পাওনা দায়ের বিপরীতে জামানত সম্পদের ঘাটতি প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা বা সুনির্দিষ্টভাবে ১৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সময় গড়ালেও চালু না হওয়ায় কারখানায় স্থাপিত বা আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল ক্রমান্বয়ে কমছে। অন্যদিকে জমির দাম সামান্য বাড়লেও সুদের চাপে ব্যাংকের পাওনা লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে ব্যাংক সরাসরি ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

 

ঋণ অনুমোদন ও অনিয়মিত অর্থ ছাড়ের নেপথ্য
কনিকা কমার্শিয়ালের অনুকূলে ঋণ প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৫০৯তম সভায় বিএমআরই প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয় ২৩৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ব্যাংক ও উদ্যোক্তার ৫৫:৪৫ ঋণ-মূলধন অনুপাতে পর্ষদ প্রথম ধাপে ১৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার প্রকল্প ঋণ অনুমোদন করে এবং ২০১৮ সালের ৪ মার্চ শাখা থেকে প্রাথমিক মঞ্জুরিপত্র দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর ৬৩৩তম পর্ষদ সভায় কারখানায় অতিরিক্ত ও আধুনিক মেশিনারিজ সংযোজনের কথা জানিয়ে গ্রাহক আবেদন করলে ঋণ-মূলধন অনুপাত ৬০:৪০ ধরে মূল ঋণসীমা আরও ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ১৫২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ৫ নভেম্বর দ্বিতীয় মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। পুরো ঋণের মেয়াদ ৮ বছর ধরা হলেও এর মধ্যে নির্মাণকাজ ও কিস্তি শুরুর আগের বিরতিকাল বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ছিল ২১ মাস।

অনুমোদনের পর দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ধাপে ধাপে পূর্ত কাজ ও অন্যান্য খাতে মোট ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। এর মধ্যে অবকাঠামো তৈরিতে ৮টি পৃথক কিস্তিতে ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। যার মধ্যে ২০১৮ সালে ৫ কিস্তিতে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২০১৯ সালে ২ কিস্তিতে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ কিস্তিতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এছাড়া এলসি ও আনুষঙ্গিক খাতে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ কোটি ৮৬ লাখ, ১৮ কোটি ৮ লাখ এবং ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

মঞ্জুরিপত্রের ১৭(ক) নম্বর শর্ত অনুযায়ী, ২৩৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বিএমআরই ব্যয়ের মধ্যে উদ্যোক্তার নিজস্ব অংশ ১০৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা মার্জিন অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উদ্যোক্তার এই অংশ সমমূলধন হিসেবে মার্জিন অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়েই ব্যাংকের পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

 

সার্কুলার ভেঙে পাঁচ দফায় ঋণ পুনর্বিন্যাস
প্রথম মঞ্জুরি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও নিয়মিত কিস্তি আদায় ও বাস্তবায়ন কোনটিই হয়নি। এরপরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বারবার শর্ত শিথিল করে অনিয়মিতভাবে ঋণ পুনর্বিন্যাস করেছে।

প্রথমবার ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল तत्कालीन এমডি ও সিইও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ব্যতিরেকেই অনিয়মিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ১ বছর বাড়িয়ে দেন এবং পরিশোধের সময়সীমা ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৭ সাল নির্ধারণ করেন। ব্যাংক থেকে বিধিমালার ৮ম সংস্করণের ৭ অনুচ্ছেদের দোহাই দেওয়া হলেও অডিট দল তা বাতিল করে দেয়। কারণ সার্কুলার লঙ্ঘন করে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ২০২১ সালের ৫ মে দ্বিতীয়বার, ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল তৃতীয়বার এবং ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর চতুর্থবার ঋণ পুনর্বিন্যাস করে। একই সঙ্গে ১০ শতাংশ মার্জিনে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে পুনঃসূচির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকে। অথচ এই ঋণের ক্ষেত্রে পঞ্চমবার পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ২১ মাস থেকে বাড়িয়ে ৪৮ মাস করা হয়, যা প্রাথমিক অনুমোদনের চেয়ে ২২৯ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল ৮১২তম পর্ষদ সভায় বাস্তবায়নকাল এক বছর বাড়িয়ে মার্চ ২০২৪ এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করে পঞ্চম পুনর্বিন্যাস করা হয়।

পঞ্চম পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহক কর্তৃক ২ কোটি টাকা এবং প্রথম কিস্তির সমুদয় অর্থ ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ নিশ্চিতের নির্দেশ ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় না করেই শাখা কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৯ মে চিঠির মাধ্যমে পঞ্চমবার ঋণ পুনর্বিন্যাসের মঞ্জুরি দিয়ে দেয়।

 

খেলাপি গ্রাহককে নতুন ঋণ সুবিধা
প্রকল্প চালু না হলেও ২০২২ সালের ২২ জুন পর্ষদের ৭২২তম সভায় প্রারম্ভিক উৎপাদনের কাঁচামাল কেনার অযুহাতে ৬ মাস মেয়াদে ‘অ্যাডহক সিসি’ (চলতি মূলধনের জন্য সাময়িক নগদ ঋণ) অনুমোদন করা হয়। Branches-এর ২২ জুনের চিঠির মাধ্যমে তা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। এই ঋণ অনুমোদনের বিষয়টিও ব্যাংকের ঋণ নীতি বা সার্কুলার দ্বারা সমর্থিত ছিল না।

কোনো বিধি-বিধান না থাকা সত্ত্বেও অ্যাডহক সিসি ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা অনুমোদন করে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। গ্রাহক দাবি করেন এই টাকা সরবরাহকারীকে অগ্রিম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ব্যাংক এর কোনো সত্যতা বা কাঁচামাল সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিলের সিআইবি রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকেই স্থিতিভিত্তিক ঋণ হিসাবটি ‘এসএস’ অর্থাৎ নিম্নমানের খেলাপি শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিল এবং তা ৬ মাসের বেশি সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। আইন অনুযায়ী খেলাপি গ্রাহককে নতুন কোনো ঋণ সুবিধা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল পর্ষদ সভা থেকে ওই খেলাপি গ্রাহকের অ্যাডহক সিসি ঋণের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, শর্ত পরিপালন না করায় এটি কার্যকর হয়নি। তবে সিআইবি রিপোর্টে খেলাপি থাকা সত্ত্বেও পর্ষদ কর্তৃক মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়াটা সরাসরি আইনের ব্যত্যয়।

 

প্রকল্পস্থলের ভয়াবহ চিত্র: তালাবন্ধ ফটক ও খালাস না হওয়া মালামাল
বাণিজ্যিক অডিট দল ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল প্রকল্পস্থলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নজিরবিহীন চিত্র দেখতে পায়। পরিদর্শনের সময় কারখানার প্রধান ফটক পুরোপুরি বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা প্রকল্পটি জনতা ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ—এমন কোনো সাইনবোর্ড ছিল না। সীমানাপ্রাচীরের বাইরে নামমাত্র একটি সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া গেলেও স্থানীয়রা জানান, ওই জমিটুকু ছাড়া আশপাশের অন্য সব জমি ভিন্ন মালিকের।

গ্রাহকের মেশিনারিজ আমদানি-সংক্রান্ত এলসি নথি এবং শাখার অসমন্বিত বিল অব এন্ট্রির তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রাহকের অনুকূলে স্থাপিত এলসির বিপরীতে বিল অব এন্ট্রি প্রায় দুই বছর ধরে অসমন্বিত রয়েছে। ব্যাংক এলসির মূল্য পরিশোধ করলেও গ্রাহক বন্দর থেকে মালামাল ছাড় করেনি, যা প্রমাণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে গ্রাহকের কোনো আগ্রহই ছিল না। এছাড়া অডিটের সময় ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন বা পিসিআর সম্পন্ন করা হয়নি।

 

চার আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন
ঋণ অনুমোদন, বিতরণ, তদারকি এবং পরে পুনর্গঠন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চারটি আইন, সার্কুলার ও শর্ত লঙ্ঘন করেছে। প্রথমত, বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-১৫-এর ৮(বি) ও ৮(সি) অনুচ্ছেদ উপেক্ষা করে খেলাপি হিসাবকে অনিয়মিতভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মঞ্জুরিপত্রের শর্ত নম্বর-১৭(ক) লঙ্ঘন করে উদ্যোক্তার ইকুইটি জমা নেওয়া হয়নি। তৃতীয়ত, ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। চতুর্থত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নীতিমালার সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।

 

গা ঢাকা দিয়েছেন উদ্যোক্তারা, নীরব ব্যাংক কর্তৃপক্ষ
কনিকা কমার্শিয়ালের নামে নেওয়া ঋণ ও বর্তমান অবস্থা জানতে যোগাযোগ করা হলে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম সাহা বলেন, তিনি ২০১৭-১৮ সালেই প্রতিষ্ঠানটি থেকে বের হয়ে এসেছেন এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। পরবর্তীতে সাবেক জিএম (ট্রেড) সিরাজুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে কারখানা চালু হয়নি এবং বর্তমানে অলস পড়ে আছে। তিনি নিজে ট্রেডিং দেখতেন যা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন বেকার। আর প্রকল্পস্থলে কোনো দিন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি ‘না’ সূচক উত্তর দেন।

সামগ্রিক বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য চেয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফেরদৌসের কাছে গত ১৫ অক্টোবর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এমনকি ফোন কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পুরো অনিয়মের বিষয়ে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণসহ জনতা ব্যাংকের অনাদায়ী ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকা দ্রুত আদায়ের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজে জাহাজ চলাচল করলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

১৪৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়েও চালু হয়নি কারখানা: চরম ঝুঁকিতে জনতা ব্যাংক

আপডেট সময় ০৩:৩২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

টাইলস ও সিরামিকস কারখানা স্থাপনের কথা বলে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা ঋণ তুলে নিয়েছে ‘মেসার্স কনিকা কমার্শিয়াল লিমিটেড’। তবে বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ছাড়ের পরও কারখানার উৎপাদন শুরু করা তো দূরের কথা, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রকল্পস্থলের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ এবং ভেতরে বা বাইরে ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধতার কোনো নামফলকও নেই।

অনিয়মিতভাবে ঋণ প্রদান, বারবার শর্ত লঙ্ঘন ও বেআইনি পুনর্বিন্যাসের কারণে সুদে-আসলে কনিকা কমার্শিয়ালের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা এখন ২৬৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ এর বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদের মূল্য সামান্য। ফলে বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটি। মহাহিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের ২০২৪-২০২৫ নিরীক্ষা বছরের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট শাখার রেকর্ড পর্যালোচনায় চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

দায়ের তুলনায় জামানত কম, আর্থিক ক্ষতি ২৬৬ কোটি টাকা
২০২৫ সালের ৩১ মার্চের হিসাব অনুযায়ী, কনিকা কমার্শিয়াল লিমিটেডের কাছে জনতা ব্যাংকের মোট অনাদায়ী দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকা। ঋণের একটি কিস্তিও আদায় না হওয়া এবং উৎপাদন শুরু না হওয়ায় সুদের কারণে এই দায়ের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

এর বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে সহজামানত বা বন্ধক হিসেবে ১ হাজার ২০৪ দশমিক ৩২ শতক জমি রাখা হয়। ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি ব্যাংকের মূল্যায়নে এই জমির ‘ফোর্সড সেল ভ্যালু’ বা বাধ্যতামূলক বিক্রয়মূল্য ধরা হয় মাত্র ৬৭ কোটি ৪৪ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ, পাওনা দায়ের বিপরীতে জামানত সম্পদের ঘাটতি প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা বা সুনির্দিষ্টভাবে ১৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সময় গড়ালেও চালু না হওয়ায় কারখানায় স্থাপিত বা আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল ক্রমান্বয়ে কমছে। অন্যদিকে জমির দাম সামান্য বাড়লেও সুদের চাপে ব্যাংকের পাওনা লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে ব্যাংক সরাসরি ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

 

ঋণ অনুমোদন ও অনিয়মিত অর্থ ছাড়ের নেপথ্য
কনিকা কমার্শিয়ালের অনুকূলে ঋণ প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৫০৯তম সভায় বিএমআরই প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয় ২৩৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ব্যাংক ও উদ্যোক্তার ৫৫:৪৫ ঋণ-মূলধন অনুপাতে পর্ষদ প্রথম ধাপে ১৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার প্রকল্প ঋণ অনুমোদন করে এবং ২০১৮ সালের ৪ মার্চ শাখা থেকে প্রাথমিক মঞ্জুরিপত্র দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর ৬৩৩তম পর্ষদ সভায় কারখানায় অতিরিক্ত ও আধুনিক মেশিনারিজ সংযোজনের কথা জানিয়ে গ্রাহক আবেদন করলে ঋণ-মূলধন অনুপাত ৬০:৪০ ধরে মূল ঋণসীমা আরও ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ১৫২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ৫ নভেম্বর দ্বিতীয় মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। পুরো ঋণের মেয়াদ ৮ বছর ধরা হলেও এর মধ্যে নির্মাণকাজ ও কিস্তি শুরুর আগের বিরতিকাল বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ছিল ২১ মাস।

অনুমোদনের পর দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ধাপে ধাপে পূর্ত কাজ ও অন্যান্য খাতে মোট ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। এর মধ্যে অবকাঠামো তৈরিতে ৮টি পৃথক কিস্তিতে ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। যার মধ্যে ২০১৮ সালে ৫ কিস্তিতে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২০১৯ সালে ২ কিস্তিতে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ কিস্তিতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এছাড়া এলসি ও আনুষঙ্গিক খাতে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ কোটি ৮৬ লাখ, ১৮ কোটি ৮ লাখ এবং ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

মঞ্জুরিপত্রের ১৭(ক) নম্বর শর্ত অনুযায়ী, ২৩৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বিএমআরই ব্যয়ের মধ্যে উদ্যোক্তার নিজস্ব অংশ ১০৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা মার্জিন অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উদ্যোক্তার এই অংশ সমমূলধন হিসেবে মার্জিন অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়েই ব্যাংকের পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

 

সার্কুলার ভেঙে পাঁচ দফায় ঋণ পুনর্বিন্যাস
প্রথম মঞ্জুরি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও নিয়মিত কিস্তি আদায় ও বাস্তবায়ন কোনটিই হয়নি। এরপরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বারবার শর্ত শিথিল করে অনিয়মিতভাবে ঋণ পুনর্বিন্যাস করেছে।

প্রথমবার ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল तत्कालीन এমডি ও সিইও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ব্যতিরেকেই অনিয়মিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ১ বছর বাড়িয়ে দেন এবং পরিশোধের সময়সীমা ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৭ সাল নির্ধারণ করেন। ব্যাংক থেকে বিধিমালার ৮ম সংস্করণের ৭ অনুচ্ছেদের দোহাই দেওয়া হলেও অডিট দল তা বাতিল করে দেয়। কারণ সার্কুলার লঙ্ঘন করে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ২০২১ সালের ৫ মে দ্বিতীয়বার, ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল তৃতীয়বার এবং ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর চতুর্থবার ঋণ পুনর্বিন্যাস করে। একই সঙ্গে ১০ শতাংশ মার্জিনে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে পুনঃসূচির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকে। অথচ এই ঋণের ক্ষেত্রে পঞ্চমবার পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ২১ মাস থেকে বাড়িয়ে ৪৮ মাস করা হয়, যা প্রাথমিক অনুমোদনের চেয়ে ২২৯ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল ৮১২তম পর্ষদ সভায় বাস্তবায়নকাল এক বছর বাড়িয়ে মার্চ ২০২৪ এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করে পঞ্চম পুনর্বিন্যাস করা হয়।

পঞ্চম পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহক কর্তৃক ২ কোটি টাকা এবং প্রথম কিস্তির সমুদয় অর্থ ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ নিশ্চিতের নির্দেশ ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় না করেই শাখা কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৯ মে চিঠির মাধ্যমে পঞ্চমবার ঋণ পুনর্বিন্যাসের মঞ্জুরি দিয়ে দেয়।

 

খেলাপি গ্রাহককে নতুন ঋণ সুবিধা
প্রকল্প চালু না হলেও ২০২২ সালের ২২ জুন পর্ষদের ৭২২তম সভায় প্রারম্ভিক উৎপাদনের কাঁচামাল কেনার অযুহাতে ৬ মাস মেয়াদে ‘অ্যাডহক সিসি’ (চলতি মূলধনের জন্য সাময়িক নগদ ঋণ) অনুমোদন করা হয়। Branches-এর ২২ জুনের চিঠির মাধ্যমে তা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। এই ঋণ অনুমোদনের বিষয়টিও ব্যাংকের ঋণ নীতি বা সার্কুলার দ্বারা সমর্থিত ছিল না।

কোনো বিধি-বিধান না থাকা সত্ত্বেও অ্যাডহক সিসি ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা অনুমোদন করে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। গ্রাহক দাবি করেন এই টাকা সরবরাহকারীকে অগ্রিম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ব্যাংক এর কোনো সত্যতা বা কাঁচামাল সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিলের সিআইবি রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকেই স্থিতিভিত্তিক ঋণ হিসাবটি ‘এসএস’ অর্থাৎ নিম্নমানের খেলাপি শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিল এবং তা ৬ মাসের বেশি সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। আইন অনুযায়ী খেলাপি গ্রাহককে নতুন কোনো ঋণ সুবিধা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল পর্ষদ সভা থেকে ওই খেলাপি গ্রাহকের অ্যাডহক সিসি ঋণের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, শর্ত পরিপালন না করায় এটি কার্যকর হয়নি। তবে সিআইবি রিপোর্টে খেলাপি থাকা সত্ত্বেও পর্ষদ কর্তৃক মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়াটা সরাসরি আইনের ব্যত্যয়।

 

প্রকল্পস্থলের ভয়াবহ চিত্র: তালাবন্ধ ফটক ও খালাস না হওয়া মালামাল
বাণিজ্যিক অডিট দল ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল প্রকল্পস্থলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নজিরবিহীন চিত্র দেখতে পায়। পরিদর্শনের সময় কারখানার প্রধান ফটক পুরোপুরি বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা প্রকল্পটি জনতা ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ—এমন কোনো সাইনবোর্ড ছিল না। সীমানাপ্রাচীরের বাইরে নামমাত্র একটি সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া গেলেও স্থানীয়রা জানান, ওই জমিটুকু ছাড়া আশপাশের অন্য সব জমি ভিন্ন মালিকের।

গ্রাহকের মেশিনারিজ আমদানি-সংক্রান্ত এলসি নথি এবং শাখার অসমন্বিত বিল অব এন্ট্রির তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রাহকের অনুকূলে স্থাপিত এলসির বিপরীতে বিল অব এন্ট্রি প্রায় দুই বছর ধরে অসমন্বিত রয়েছে। ব্যাংক এলসির মূল্য পরিশোধ করলেও গ্রাহক বন্দর থেকে মালামাল ছাড় করেনি, যা প্রমাণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে গ্রাহকের কোনো আগ্রহই ছিল না। এছাড়া অডিটের সময় ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন বা পিসিআর সম্পন্ন করা হয়নি।

 

চার আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন
ঋণ অনুমোদন, বিতরণ, তদারকি এবং পরে পুনর্গঠন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চারটি আইন, সার্কুলার ও শর্ত লঙ্ঘন করেছে। প্রথমত, বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-১৫-এর ৮(বি) ও ৮(সি) অনুচ্ছেদ উপেক্ষা করে খেলাপি হিসাবকে অনিয়মিতভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মঞ্জুরিপত্রের শর্ত নম্বর-১৭(ক) লঙ্ঘন করে উদ্যোক্তার ইকুইটি জমা নেওয়া হয়নি। তৃতীয়ত, ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। চতুর্থত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নীতিমালার সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।

 

গা ঢাকা দিয়েছেন উদ্যোক্তারা, নীরব ব্যাংক কর্তৃপক্ষ
কনিকা কমার্শিয়ালের নামে নেওয়া ঋণ ও বর্তমান অবস্থা জানতে যোগাযোগ করা হলে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম সাহা বলেন, তিনি ২০১৭-১৮ সালেই প্রতিষ্ঠানটি থেকে বের হয়ে এসেছেন এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। পরবর্তীতে সাবেক জিএম (ট্রেড) সিরাজুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে কারখানা চালু হয়নি এবং বর্তমানে অলস পড়ে আছে। তিনি নিজে ট্রেডিং দেখতেন যা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন বেকার। আর প্রকল্পস্থলে কোনো দিন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি ‘না’ সূচক উত্তর দেন।

সামগ্রিক বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য চেয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফেরদৌসের কাছে গত ১৫ অক্টোবর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এমনকি ফোন কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পুরো অনিয়মের বিষয়ে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণসহ জনতা ব্যাংকের অনাদায়ী ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকা দ্রুত আদায়ের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।