ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর চাওয়াতেই ইশরাকের পদত্যাগ, বললেন জামায়াত আমির কম্বোডিয়ায় আটক ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন দুই সারোয়ারের কারসাজি: গণপূর্তে বদলি-বাণিজ্য ঘিরে ক্ষোভ তুঙ্গে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতির পর মতিঝিলে পদায়ন কাস্টমসের উপকমিশনার আবু হানিফের এশিয়ান গেমসে হতাশা, তবু ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এগোল বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশে ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা ১৪ বছর পর বিআরটি প্রকল্প বাতিলের পথে, ভাঙা হবে অবকাঠামো ঢাকায় আওয়ামী লীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার হরমুজের সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইরানের নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন বিভাগীয় কমিশনার

হরমুজের সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হামলার নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের হুমকি দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

গতকাল, ১৯ অক্টোবর, সোমবার রাজধানী তেহরানের ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়াম’ মিলনায়তনে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, “হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি বড় ইন্টারনেট ক্যাবল চলে গেছে। সমস্ত ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটা ট্রাফিক এগুলোর মাধ্যমেই আদান-প্রদান হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) জানাতে চাই যে, নতুন লক্ষ্যবস্তু উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। নতুন অস্ত্রও সামনে আনা হবে।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনের বরাতে আরও জানা গেছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট প্রভাব ও শক্তি পুরোপুরি বিতাড়িত করার অঙ্গীকারও করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র।

এর আগে, চলতি অক্টোবরের শুরুর দিকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছিলেন, ফের যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

রেজায়ি বলেছিলেন, “আমরা এখনও এসব সম্পদ আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিনি। নতুন কোনো সংঘাত দেখা দিলে এ ধরনের অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। তেহরানের এ পদক্ষেপের পাল্টা জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে।

পরবর্তী সময়ে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে কৌশলগত এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থমকে যায়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর চাওয়াতেই ইশরাকের পদত্যাগ, বললেন জামায়াত আমির

হরমুজের সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইরানের

আপডেট সময় ০৩:৫০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হামলার নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের হুমকি দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

গতকাল, ১৯ অক্টোবর, সোমবার রাজধানী তেহরানের ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়াম’ মিলনায়তনে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, “হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি বড় ইন্টারনেট ক্যাবল চলে গেছে। সমস্ত ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটা ট্রাফিক এগুলোর মাধ্যমেই আদান-প্রদান হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) জানাতে চাই যে, নতুন লক্ষ্যবস্তু উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। নতুন অস্ত্রও সামনে আনা হবে।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনের বরাতে আরও জানা গেছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট প্রভাব ও শক্তি পুরোপুরি বিতাড়িত করার অঙ্গীকারও করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র।

এর আগে, চলতি অক্টোবরের শুরুর দিকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছিলেন, ফের যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

রেজায়ি বলেছিলেন, “আমরা এখনও এসব সম্পদ আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিনি। নতুন কোনো সংঘাত দেখা দিলে এ ধরনের অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। তেহরানের এ পদক্ষেপের পাল্টা জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে।

পরবর্তী সময়ে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে কৌশলগত এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থমকে যায়।