কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে আফ্রিকান জায়ান্ট শামুকের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন বাড়ির দেয়াল, উঠান ও গাছের গুঁড়ি এই বিদেশি শামুকে ছেয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, শামুকগুলো আকারে দেশি শামুকের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বড়। দিনের বেলায় ঘরের স্যাঁতসেঁতে দেয়ালে লেগে থাকে এবং রাতে চলাচল করে। ঘরের ভেতর, রান্নাঘর, টয়লেট, এমনকি খাটের নিচেও এসব শামুক দেখা যাচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের দেয়াল, উঠান ও শাকসবজির বাগান ছোট-বড় শামুকে ছেয়ে গেছে। রাতে শামুকগুলো দলবেঁধে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কাজ হচ্ছে না।
গৃহবধূ আকলিমা বেগম বলেন, দেয়াল শামুকে ভরে গেছে। ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে দিলেও আবার ফিরে আসে। রান্নাঘর ও বিছানায়ও উঠে যাচ্ছে। এতে শিশুরা ভয় পাচ্ছে, দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।
কৃষক আব্দুল হেকিম বলেন, শামুকগুলো তাঁর লাউ, পুঁইশাক ও কচুর লতি খেয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। রাতে টর্চলাইট দিয়ে দেখেন, পুরো ক্ষেত শামুকে ভরে গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতীশ দাস রাজিব জানান, এই শামুকের শরীরে থাকা পরজীবী থেকে মেনিনজাইটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই খালি হাতে শামুক না ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, এটি মূলত আফ্রিকান জায়ান্ট শামুক হতে পারে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও বৃষ্টির কারণে এর প্রজনন বেড়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতার সঙ্গে শামুকগুলো নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, হাতে গ্লাভস পরে শামুক সংগ্রহ করে গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে। শামুকের চলাচলের পথে লবণ বা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত। আক্রান্ত স্থানে কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রেও কৃষি অফিসের পরামর্শ নিতে হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত শামুকের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রুহুল আমিন-তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 






















