ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদের আহ্বান বাংলাদেশের প্রতারণার মামলায় কর পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ৯ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব ১০ বছরেও চালু হয়নি, বিল পরিশোধ আগেই লাল কার্ডের পর বায়ার্নের শাস্তির মুখে অলিসে তাড়াইলে আফ্রিকান জায়ান্ট শামুকের উপদ্রব, অতিষ্ঠ মানুষ বাবার ফোন ও মায়ের স্বর্ণ বিক্রি করে পালাল ৪ শিক্ষার্থী, ১৬ ঘণ্টা পর হবিগঞ্জে উদ্ধার বনশ্রীর আবাসন প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার সার্ভিস চার্জ দাবি, রাজউকের শুনানিতে প্রশ্নবিদ্ধ ইস্টার্ন হাউজিং বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত কিবরিয়া স্যার, আবেগঘন পরিবেশ ডাঙ্গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে হুথিদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নির্বাচনের পর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দুই বছর মাঠে যান না কৃষি কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস, ভোগান্তিতে কৃষক

বাবার ফোন ও মায়ের স্বর্ণ বিক্রি করে পালাল ৪ শিক্ষার্থী, ১৬ ঘণ্টা পর হবিগঞ্জে উদ্ধার

কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী বাবার মোবাইল ফোন ও মায়ের স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠার পর পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী ও তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটের বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় এবং পরে হবিগঞ্জে যায় তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় চার শিক্ষার্থী। তবে তারা স্কুলে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি দেশের সব থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়।

পরে ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

শিক্ষার্থীরা পুলিশকে জানায়, পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। এসব মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে পরিচিত ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা জানত না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

চার শিক্ষার্থী প্রথমে বাসযোগে ঢাকায় যায়। পরে এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে পৌঁছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে তারা। তবে প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ওই অটোরিকশাচালক রাত ২টার দিকে চার শিশুকে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যান।

পরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে চার শিশুকে উদ্ধার করে কুমিল্লায় নিয়ে আসে। উদ্ধার করা শিশুদের বুধবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতে তোলা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদের আহ্বান বাংলাদেশের

বাবার ফোন ও মায়ের স্বর্ণ বিক্রি করে পালাল ৪ শিক্ষার্থী, ১৬ ঘণ্টা পর হবিগঞ্জে উদ্ধার

আপডেট সময় ০৪:৩৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী বাবার মোবাইল ফোন ও মায়ের স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠার পর পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী ও তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটের বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় এবং পরে হবিগঞ্জে যায় তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় চার শিক্ষার্থী। তবে তারা স্কুলে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি দেশের সব থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়।

পরে ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

শিক্ষার্থীরা পুলিশকে জানায়, পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। এসব মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে পরিচিত ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা জানত না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

চার শিক্ষার্থী প্রথমে বাসযোগে ঢাকায় যায়। পরে এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে পৌঁছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে তারা। তবে প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ওই অটোরিকশাচালক রাত ২টার দিকে চার শিশুকে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যান।

পরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে চার শিশুকে উদ্ধার করে কুমিল্লায় নিয়ে আসে। উদ্ধার করা শিশুদের বুধবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতে তোলা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।