ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদের আহ্বান বাংলাদেশের প্রতারণার মামলায় কর পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ৯ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব ১০ বছরেও চালু হয়নি, বিল পরিশোধ আগেই লাল কার্ডের পর বায়ার্নের শাস্তির মুখে অলিসে তাড়াইলে আফ্রিকান জায়ান্ট শামুকের উপদ্রব, অতিষ্ঠ মানুষ বাবার ফোন ও মায়ের স্বর্ণ বিক্রি করে পালাল ৪ শিক্ষার্থী, ১৬ ঘণ্টা পর হবিগঞ্জে উদ্ধার বনশ্রীর আবাসন প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার সার্ভিস চার্জ দাবি, রাজউকের শুনানিতে প্রশ্নবিদ্ধ ইস্টার্ন হাউজিং বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত কিবরিয়া স্যার, আবেগঘন পরিবেশ ডাঙ্গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে হুথিদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নির্বাচনের পর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দুই বছর মাঠে যান না কৃষি কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস, ভোগান্তিতে কৃষক

বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত কিবরিয়া স্যার, আবেগঘন পরিবেশ ডাঙ্গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে

একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, আলোকিত করেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের জীবন। তাঁর শাসন, স্নেহ ও দিকনির্দেশনায় গড়ে ওঠে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে সেই প্রিয় শিক্ষক যখন বিদায় নেন, তখন স্মৃতি আর বিচ্ছেদের বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের হৃদয়। এমনই আবেগঘন পরিবেশে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাঙ্গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিদায় নিয়েছেন প্রবীণ শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া।

১৯৮৯ সালের ৩১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন গোলাম কিবরিয়া। দীর্ঘ ৩৭ বছর এক মাসেরও বেশি সময়ের শিক্ষকতা জীবনে তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন নিবিড় সম্পর্ক। তাঁর বিদায় অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, শুভকামনা ও আবেগঘন বক্তব্যে তৈরি হয় বিষাদময় পরিবেশ। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।

দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলার সম্পাতলী গ্রামের হাসিমপুরে জন্ম গোলাম কিবরিয়ার। শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনে বছরের পর বছর তাঁকে কখনো বাসে, কখনো পায়ে হেঁটে, আবার কখনো সাইকেলে চড়ে কর্মস্থলে আসতে হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দায়িত্ব পালনের এই দীর্ঘ পথচলা তাঁর পেশাগত নিষ্ঠা ও শিক্ষকতার প্রতি ভালোবাসার স্মারক হয়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাঙ্গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ও তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহিনুর ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোলাম কিবরিয়ার অবদান ও দিকনির্দেশনা তাঁদের ভবিষ্যৎ পথচলায় পাথেয় হয়ে থাকবে। প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

বিদায়ী বক্তব্যে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গোলাম কিবরিয়া। প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্তের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ ও পরিচিত মুখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর জীবনের নানা স্মৃতি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কখনো শাসন করেছেন, কখনো ভুল শুধরে দিতে স্নেহে কাছে টেনেছেন। সব সময় চেয়েছেন, তাঁর শিক্ষার্থীরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক, সৎ পথে চলুক এবং পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করুক।

নিজের কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিলেও মন থেকে কখনো বিদায় নিতে পারবেন না। সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো দিন, শিক্ষার্থীদের মুখের হাসি এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের স্মৃতি আজীবন তাঁর হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। জীবনের বাকি দিনগুলো যেন সম্মান ও শান্তির সঙ্গে কাটাতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনুষ্ঠানে নেমে আসে নীরব বিষাদ।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসানে গোলাম কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মস্থল ছাড়লেও শিক্ষার্থীদের জীবনে রেখে গেছেন তাঁর শিক্ষা, মূল্যবোধ ও স্মৃতি। শ্রেণিকক্ষে তাঁর পরিচিত উপস্থিতি আর দেখা যাবে না, কিন্তু অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে তাঁর দেওয়া শিক্ষা বেঁচে থাকবে দীর্ঘদিন।

কারণ, একজন শিক্ষকের অবসর হয় কর্মজীবন থেকে—শিক্ষার্থীদের হৃদয় থেকে নয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদের আহ্বান বাংলাদেশের

বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত কিবরিয়া স্যার, আবেগঘন পরিবেশ ডাঙ্গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে

আপডেট সময় ০৪:২৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, আলোকিত করেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের জীবন। তাঁর শাসন, স্নেহ ও দিকনির্দেশনায় গড়ে ওঠে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে সেই প্রিয় শিক্ষক যখন বিদায় নেন, তখন স্মৃতি আর বিচ্ছেদের বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের হৃদয়। এমনই আবেগঘন পরিবেশে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাঙ্গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিদায় নিয়েছেন প্রবীণ শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া।

১৯৮৯ সালের ৩১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন গোলাম কিবরিয়া। দীর্ঘ ৩৭ বছর এক মাসেরও বেশি সময়ের শিক্ষকতা জীবনে তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন নিবিড় সম্পর্ক। তাঁর বিদায় অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, শুভকামনা ও আবেগঘন বক্তব্যে তৈরি হয় বিষাদময় পরিবেশ। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।

দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলার সম্পাতলী গ্রামের হাসিমপুরে জন্ম গোলাম কিবরিয়ার। শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনে বছরের পর বছর তাঁকে কখনো বাসে, কখনো পায়ে হেঁটে, আবার কখনো সাইকেলে চড়ে কর্মস্থলে আসতে হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দায়িত্ব পালনের এই দীর্ঘ পথচলা তাঁর পেশাগত নিষ্ঠা ও শিক্ষকতার প্রতি ভালোবাসার স্মারক হয়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাঙ্গীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ও তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহিনুর ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোলাম কিবরিয়ার অবদান ও দিকনির্দেশনা তাঁদের ভবিষ্যৎ পথচলায় পাথেয় হয়ে থাকবে। প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

বিদায়ী বক্তব্যে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গোলাম কিবরিয়া। প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্তের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ ও পরিচিত মুখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর জীবনের নানা স্মৃতি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কখনো শাসন করেছেন, কখনো ভুল শুধরে দিতে স্নেহে কাছে টেনেছেন। সব সময় চেয়েছেন, তাঁর শিক্ষার্থীরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক, সৎ পথে চলুক এবং পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করুক।

নিজের কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিলেও মন থেকে কখনো বিদায় নিতে পারবেন না। সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো দিন, শিক্ষার্থীদের মুখের হাসি এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের স্মৃতি আজীবন তাঁর হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। জীবনের বাকি দিনগুলো যেন সম্মান ও শান্তির সঙ্গে কাটাতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনুষ্ঠানে নেমে আসে নীরব বিষাদ।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসানে গোলাম কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মস্থল ছাড়লেও শিক্ষার্থীদের জীবনে রেখে গেছেন তাঁর শিক্ষা, মূল্যবোধ ও স্মৃতি। শ্রেণিকক্ষে তাঁর পরিচিত উপস্থিতি আর দেখা যাবে না, কিন্তু অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে তাঁর দেওয়া শিক্ষা বেঁচে থাকবে দীর্ঘদিন।

কারণ, একজন শিক্ষকের অবসর হয় কর্মজীবন থেকে—শিক্ষার্থীদের হৃদয় থেকে নয়।