ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর মাহবুবুর রহমানের সিন্ডিকেটে জিম্মি গ্রাহকরা বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ গোয়াইনঘাটে এলজিইডির ডিজাইন টিমের সড়ক প্রকল্প পরিদর্শন উৎসবমুখর পরিবেশে শাহ্ আলী গার্লস স্কুল শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ খামারবাড়ির উপপরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হকের বিদায় সংবর্ধনা পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকে চাঁদা দাবি, হত্যার হুমকি; গ্রেপ্তার ১ পার্বতীপুরে মোস্তফাপুর ইউনিয়ন ভবন পূর্বের স্থানে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পাথরঘাটায় গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ, দুই লাখ টাকা দাবির মামলা বড়লেখায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭
দালাল ছাড়া নড়ে না ফাইল

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর মাহবুবুর রহমানের সিন্ডিকেটে জিম্মি গ্রাহকরা

নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জেলা কার্যালয়ে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ে অনিয়ম, ঘুষ এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাহবুবুর রহমান। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের একটি অংশকে ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা খাতে সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমানের প্রতিটি স্বাক্ষরের জন্য ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সেবাভেদে লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

বিআরটিএর নিজস্ব সেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট এবং ট্যাক্স টোকেনসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও ফি অনুযায়ী দেওয়ার কথা। ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে মোটরযান পরিদর্শনের পর উপযুক্ত হলে সার্টিফিকেট দেওয়ার বিধান রয়েছে। একইভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি, কাগজপত্র ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এই নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে সেবাপ্রার্থীদের একটি অংশকে দালালদের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কাছে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক গ্রাহক সরাসরি অফিসে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের কাগজপত্রের ত্রুটি বা জটিলতার মুখোমুখি হন। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে সেই জটিলতা দ্রুত সমাধানের পথ খুলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর বিনিময়ে সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে এই ব্যবস্থাটি বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগে সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, মোটরযান পরিদর্শক মো. সাইফুল কবির, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসাইনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এসেছে। তাদের পাশাপাশি উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়ক পর্যায়ের কিছু কর্মচারীও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিন্ডিকেটটির কার্যক্রমের মূল ক্ষেত্র হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতা। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ গ্রাহক নিজের কাজ নিজে করতে গেলে তার আবেদনে বিভিন্ন অসঙ্গতি বা ত্রুটি দেখিয়ে তাকে হয়রানির মুখে ফেলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ফাইল আটকে থাকা কিংবা বারবার অফিসে যাতায়াতের পর অনেক গ্রাহক শেষ পর্যন্ত দালালের শরণাপন্ন হন। এরপর দালাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করে দেয় বলে অভিযোগ।

বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ফি জমা দিতে হয় এবং মোটরযান পরিদর্শকের মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। গাড়ি সঠিক পাওয়া গেলে রেজিস্ট্রেশনের অনুমোদন দেওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে দালালনির্ভর একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

ফিটনেস সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে মোটরযানটি সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে হাজির করার পর মোটরযান পরিদর্শক সেটি পরীক্ষা করেন। উপযুক্ত বিবেচিত হলে এক বছরের জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এ সেবার জন্য নির্ধারিত ফিও উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু অভিযোগকারীদের বক্তব্য হলো, সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে সরাসরি সেবা নেওয়ার বদলে অনেক গ্রাহককে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে দালাল ধরতে হয়। ঘুষ না দিলে কাজ বিলম্বিত করা, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করা কিংবা ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। ফলে একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার জন্য সরকারি সেবা পাওয়ার খরচ নির্ধারিত ফির তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায়।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ধরনের অভিযোগ। সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কম্পিটেন্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। এরপর বায়োমেট্রিক গ্রহণ, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ এবং স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স প্রস্তুতের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে দালালনির্ভরতা তৈরি হয়েছে এবং অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া দ্রুত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় তার দুটি ফ্ল্যাটসহ গ্রামের এলাকায় নামে-বেনামে সম্পদ থাকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই নথিতে নেই এবং অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, মাহবুবুর রহমানের চাকরিজীবনের শুরু নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে অর্থের বিনিময়ে কাগজপত্র-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগে সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিপুল সম্পদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের তৎপরতা নিয়েও নথিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের আগে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। একই সঙ্গে দুদকের পক্ষ থেকে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নজরদারিতে থাকার এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চলমান থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বিআরটিএ কার্যালয়ে অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সদর দপ্তর থেকে নোটিশ দেওয়ার কথাও অভিযোগে উঠে এসেছে। কিন্তু নোটিশের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ, অফিসের ভেতরে থাকা অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ছাড়া দালালদের পক্ষে এভাবে দীর্ঘদিন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের আশকারায় দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযোগে দালালচক্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। দালালরা প্রথমে সেবাপ্রার্থীর কাগজপত্রে সমস্যা খুঁজে বের করে তাকে বিভ্রান্ত করেন। সাধারণ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে গিয়ে গ্রাহক যখন বারবার ব্যর্থ হন, তখন তাকে নিজেদের মাধ্যমে কাজ করানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ। এতে দালাল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উভয়েই আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস কিংবা রেজিস্ট্রেশনের মতো নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে একজন মানুষকে যদি নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, তাহলে সরকারি সেবা ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষ করে যারা নিয়মিতভাবে গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন বা অন্যান্য সেবা গ্রহণ করেন, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বিআরটিএর সেবা কাঠামোয় নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারিত রয়েছে। যেমন ফিটনেস সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে নথিতে এক থেকে দুই দিনের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুতে ২০ থেকে ৩০ দিন এবং পেশাদার লাইসেন্স নবায়নে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অযৌক্তিক বিলম্ব বা অর্থের বিনিময়ে কাজ দ্রুত করার অভিযোগ সত্য হলে তা সেবাব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের বক্তব্য হিসেবে নথিতে দেশের ৩৫টি বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সনদে ঘুষ লেনদেন এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে একযোগে অভিযান পরিচালনার তথ্যও রয়েছে। একই সঙ্গে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দালালদের বাইরে থেকে সেবা দেওয়ার এবং অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন থেকে বিরত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও সেখানে বলা হয়েছে।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ওঠা অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি সেবার নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সময়সীমা ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা দৃশ্যমানভাবে প্রচার করা হলে দালালনির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

এ বিষয়ে মো. মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে কোনো দালাল নেই এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। অর্থাৎ তার বক্তব্য অভিযোগকারীদের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু একজন কর্মকর্তা বা কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সরকারি সেবা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়ায় দালালনির্ভরতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা জরুরি। একই সঙ্গে নির্ধারিত সরকারি ফি ও নিয়মের বাইরে কোনো সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়াই পারে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর মাহবুবুর রহমানের সিন্ডিকেটে জিম্মি গ্রাহকরা

দালাল ছাড়া নড়ে না ফাইল

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর মাহবুবুর রহমানের সিন্ডিকেটে জিম্মি গ্রাহকরা

আপডেট সময় ১০:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জেলা কার্যালয়ে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ে অনিয়ম, ঘুষ এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাহবুবুর রহমান। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের একটি অংশকে ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা খাতে সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমানের প্রতিটি স্বাক্ষরের জন্য ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সেবাভেদে লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

বিআরটিএর নিজস্ব সেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট এবং ট্যাক্স টোকেনসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও ফি অনুযায়ী দেওয়ার কথা। ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে মোটরযান পরিদর্শনের পর উপযুক্ত হলে সার্টিফিকেট দেওয়ার বিধান রয়েছে। একইভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি, কাগজপত্র ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এই নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে সেবাপ্রার্থীদের একটি অংশকে দালালদের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কাছে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক গ্রাহক সরাসরি অফিসে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের কাগজপত্রের ত্রুটি বা জটিলতার মুখোমুখি হন। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে সেই জটিলতা দ্রুত সমাধানের পথ খুলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর বিনিময়ে সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে এই ব্যবস্থাটি বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগে সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, মোটরযান পরিদর্শক মো. সাইফুল কবির, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসাইনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এসেছে। তাদের পাশাপাশি উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়ক পর্যায়ের কিছু কর্মচারীও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিন্ডিকেটটির কার্যক্রমের মূল ক্ষেত্র হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতা। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ গ্রাহক নিজের কাজ নিজে করতে গেলে তার আবেদনে বিভিন্ন অসঙ্গতি বা ত্রুটি দেখিয়ে তাকে হয়রানির মুখে ফেলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ফাইল আটকে থাকা কিংবা বারবার অফিসে যাতায়াতের পর অনেক গ্রাহক শেষ পর্যন্ত দালালের শরণাপন্ন হন। এরপর দালাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করে দেয় বলে অভিযোগ।

বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ফি জমা দিতে হয় এবং মোটরযান পরিদর্শকের মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। গাড়ি সঠিক পাওয়া গেলে রেজিস্ট্রেশনের অনুমোদন দেওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে দালালনির্ভর একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

ফিটনেস সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে মোটরযানটি সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে হাজির করার পর মোটরযান পরিদর্শক সেটি পরীক্ষা করেন। উপযুক্ত বিবেচিত হলে এক বছরের জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এ সেবার জন্য নির্ধারিত ফিও উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু অভিযোগকারীদের বক্তব্য হলো, সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে সরাসরি সেবা নেওয়ার বদলে অনেক গ্রাহককে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে দালাল ধরতে হয়। ঘুষ না দিলে কাজ বিলম্বিত করা, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করা কিংবা ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। ফলে একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার জন্য সরকারি সেবা পাওয়ার খরচ নির্ধারিত ফির তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায়।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ধরনের অভিযোগ। সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কম্পিটেন্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। এরপর বায়োমেট্রিক গ্রহণ, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ এবং স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স প্রস্তুতের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে দালালনির্ভরতা তৈরি হয়েছে এবং অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া দ্রুত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় তার দুটি ফ্ল্যাটসহ গ্রামের এলাকায় নামে-বেনামে সম্পদ থাকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই নথিতে নেই এবং অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, মাহবুবুর রহমানের চাকরিজীবনের শুরু নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে অর্থের বিনিময়ে কাগজপত্র-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগে সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিপুল সম্পদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের তৎপরতা নিয়েও নথিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের আগে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। একই সঙ্গে দুদকের পক্ষ থেকে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নজরদারিতে থাকার এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চলমান থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বিআরটিএ কার্যালয়ে অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সদর দপ্তর থেকে নোটিশ দেওয়ার কথাও অভিযোগে উঠে এসেছে। কিন্তু নোটিশের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ, অফিসের ভেতরে থাকা অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ছাড়া দালালদের পক্ষে এভাবে দীর্ঘদিন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের আশকারায় দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযোগে দালালচক্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। দালালরা প্রথমে সেবাপ্রার্থীর কাগজপত্রে সমস্যা খুঁজে বের করে তাকে বিভ্রান্ত করেন। সাধারণ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে গিয়ে গ্রাহক যখন বারবার ব্যর্থ হন, তখন তাকে নিজেদের মাধ্যমে কাজ করানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ। এতে দালাল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উভয়েই আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস কিংবা রেজিস্ট্রেশনের মতো নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে একজন মানুষকে যদি নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, তাহলে সরকারি সেবা ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষ করে যারা নিয়মিতভাবে গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন বা অন্যান্য সেবা গ্রহণ করেন, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বিআরটিএর সেবা কাঠামোয় নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারিত রয়েছে। যেমন ফিটনেস সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে নথিতে এক থেকে দুই দিনের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুতে ২০ থেকে ৩০ দিন এবং পেশাদার লাইসেন্স নবায়নে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অযৌক্তিক বিলম্ব বা অর্থের বিনিময়ে কাজ দ্রুত করার অভিযোগ সত্য হলে তা সেবাব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের বক্তব্য হিসেবে নথিতে দেশের ৩৫টি বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সনদে ঘুষ লেনদেন এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে একযোগে অভিযান পরিচালনার তথ্যও রয়েছে। একই সঙ্গে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দালালদের বাইরে থেকে সেবা দেওয়ার এবং অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন থেকে বিরত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও সেখানে বলা হয়েছে।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ওঠা অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি সেবার নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সময়সীমা ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা দৃশ্যমানভাবে প্রচার করা হলে দালালনির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

এ বিষয়ে মো. মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে কোনো দালাল নেই এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। অর্থাৎ তার বক্তব্য অভিযোগকারীদের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু একজন কর্মকর্তা বা কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সরকারি সেবা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়ায় দালালনির্ভরতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা জরুরি। একই সঙ্গে নির্ধারিত সরকারি ফি ও নিয়মের বাইরে কোনো সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়াই পারে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।