মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চিকিৎসার নামে সাধারণ ও অসহায় মানুষদের জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডিমাই গ্রামের হোসাইন আহমদ হুজুরের বিরুদ্ধে।
প্রেসক্রিপশনে অস্পষ্ট চিকিৎসার অজুহাতে নিজের পরিচিত দোকান থেকে চড়া দামে মসলা ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাধ্য করার মাধ্যমে প্রতিদিন তিনি মোটা অঙ্কের টাকা পকেটস্থ করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উক্ত চিকিৎসকের কাছে রোগী আসামাত্রই কোনো কথা বলার আগেই গুনতে হয় ৪২০ টাকা ফি। চিকিৎসা চলাকালীন তিনি প্যাডে অল্প কিছু লিখে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য (যেমন: জিরা, ভেষজ উপাদান বা অপ্রাসঙ্গিক দ্রব্যাদি) পাশের একটি নির্দিষ্ট দোকান থেকেই কিনে আনার নির্দেশ দেন। একেকজন রোগীর পেছনে ৭ হাজার থেকে শুরু করে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত এসব পণ্য কিনতে বাধ্য করা হয়।
অনেক দিন ধরে চিকিৎসার খোঁজ নিতে যাওয়া এক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “অনেক অসহায় রোগী কান্নাকাটি করে চিকিৎসার খরচ কমানোর অনুরোধ করলেও তিনি কোনো ছাড় দেন না। টাকা না থাকলে বিকাশে বা ধারদেনা করে টাকা এনে পণ্য কিনতে বাধ্য করা হয়। ৬০ শতাংশ কাজের আশ্বাস দিয়ে এভাবে প্রতিদিন শত শত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চলছে।”
স্থানীয়দের সূত্রে আরও জানা যায়, এর আগেও কয়েকবার এই ভণ্ডামি ও অনিয়মের কারণে তিনি স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন এবং গণধোলাইয়ের শিকার হন। কিন্তু তা সত্ত্বেও থেমে নেই তাঁর এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও প্রতারণা-বাণিজ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বৃদ্ধা রোগী এই কবিরাজের শরণাপন্ন হলে ওই কবিরাজ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে ওই রোগীর কাছ থেকে প্রায় ১৮ হাজার টাকা নিয়ে নেন। এর মধ্যে ৫ হাজার টাকা তিনি নেন তাবিজ লেখার কালি কেনার জন্য। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার ভণ্ডামি বুঝতে পেরে বড়লেখা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই কবিরাজের সঙ্গে আলাপ করেন। আলাপ করে তিনি দুই দিনের আল্টিমেটাম দেন টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য।
দুই দিনের মধ্যে ওই ভণ্ড কবিরাজ স্থানীয় ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলামের কাছে টাকা ফেরত দেন। ফখরুল ইসলাম স্থানীয় ইউপি সদস্য হিসেবে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ভুক্তভোগীর ঠিকানা দেন এবং বলেন, “আপনি নিজের হাতে ওই টাকাগুলো পরিবারের হাতে পৌঁছে দেবেন।” পরবর্তীতে সদস্য ফখরুল ইসলাম ওই ভুক্তভোগীর পরিবারের হাতে টাকাগুলো ফেরত দিয়ে আসেন। ভুক্তভোগী পরিবার তাদের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রতারণার হাত থেকে রিকশাচালক, দিনমজুর ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসুস্থ মানুষকে বাঁচাতে এবং এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে অবিলম্বে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP), উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আজাদ বাহার জামালী, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 




















