ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দালাল ছাড়া ফাইল নড়ে না

শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৭:১৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬ বার পড়া হয়েছে

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ঘুষ ও দুর্নীতি সিন্ডিকেট। অফিসের নায়েব (ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা) নাসিরউদ্দিন ও তার আস্থাভাজন দালাল চক্রের যোগসাজশে প্রতিদিন জিম্মি হচ্ছেন শত শত সেবাগ্রহীতা। নামজারি, জমাভাগ, খাজনা কিংবা পর্চা তোলা—টাকা ছাড়া মিলছে না কোনো সেবাই।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ১৫০ টাকার নামজারি ফির স্থানে দালাল চক্র সর্বনিম্ন ৬ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। অফিসের নায়েব নাসিরউদ্দিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাওসার নামে এক দালাল পুরো কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নায়েব নাসিরউদ্দিনকে পুনরায় এই অফিসে বদলি করে আনা হয়েছে, যাতে আগের মতোই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বহাল থাকে। বর্তমানে এই অফিস থেকে প্রতি মাসে অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

অফিসের মূল দরজার বাইরে এবং পাশেই গড়ে উঠেছে দালালদের নিজস্ব ‘চেম্বার’। কোনো সেবাগ্রহীতা কাগজপত্র নিয়ে প্রাঙ্গণে এলেই পিছু নেয় দালাল চক্রের সদস্যরা। চক্রের অন্যতম সদস্য কাওসার, মনির, ইমরান, জনি, মান্নান, শাজাহান, স্বপন, সজল, শাকিল ও রুমনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং ভুল বুঝিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

জনি নামের এক দালাল সরাসরি অফিসের ভেতরে চেয়ারে বসেই অনায়াসে ফাইলপত্র নাড়াচাড়া করেন, যার ওপর কর্মকর্তা নাসিরউদ্দিনের কোনো নজরদারি বা বাধা নেই। কাজের জন্য সরাসরি নায়েবের কাছে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয় বা জটিল ওয়ারিশ সনদের তাগিদ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। অথচ দালাল মারফত চুক্তি করলেই দ্রুত মিলছে সমাধান।

ভুক্তভোগী মোয়াজ্জেম জানান, জমির সমস্যার কারণে অফিসে গেলে এক দালাল সরাসরি বলেন, নায়েব নাসিরউদ্দিনকে ১ লাখ টাকা দিলে কাজটি সমাধান হবে।

অন্য এক ভুক্তভোগী নিরব জানান, একটি সাধারণ কাজের জন্যও তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে দালালরা। পরে তিনি কাজ না করে চলে আসেন।

ডেন্ডাবর এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নায়েব সরাসরি ফাইল জমা নেন না। দালাল ধরলেই সব সহজ হয়ে যায়।”

এ ছাড়া নায়েব নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও দীর্ঘদিন একই পদে থাকা এই কর্মকর্তা পটপরিবর্তনের পরও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন।

সরকারি গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নথি দালালদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সন্ধ্যার পর নায়েব ও দালালদের মধ্যে অবৈধ অর্থ ভাগাভাগি চলে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে নায়েব নাসিরউদ্দিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

দালাল ছাড়া ফাইল নড়ে না

শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:১৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ঘুষ ও দুর্নীতি সিন্ডিকেট। অফিসের নায়েব (ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা) নাসিরউদ্দিন ও তার আস্থাভাজন দালাল চক্রের যোগসাজশে প্রতিদিন জিম্মি হচ্ছেন শত শত সেবাগ্রহীতা। নামজারি, জমাভাগ, খাজনা কিংবা পর্চা তোলা—টাকা ছাড়া মিলছে না কোনো সেবাই।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ১৫০ টাকার নামজারি ফির স্থানে দালাল চক্র সর্বনিম্ন ৬ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। অফিসের নায়েব নাসিরউদ্দিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাওসার নামে এক দালাল পুরো কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নায়েব নাসিরউদ্দিনকে পুনরায় এই অফিসে বদলি করে আনা হয়েছে, যাতে আগের মতোই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বহাল থাকে। বর্তমানে এই অফিস থেকে প্রতি মাসে অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

অফিসের মূল দরজার বাইরে এবং পাশেই গড়ে উঠেছে দালালদের নিজস্ব ‘চেম্বার’। কোনো সেবাগ্রহীতা কাগজপত্র নিয়ে প্রাঙ্গণে এলেই পিছু নেয় দালাল চক্রের সদস্যরা। চক্রের অন্যতম সদস্য কাওসার, মনির, ইমরান, জনি, মান্নান, শাজাহান, স্বপন, সজল, শাকিল ও রুমনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং ভুল বুঝিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

জনি নামের এক দালাল সরাসরি অফিসের ভেতরে চেয়ারে বসেই অনায়াসে ফাইলপত্র নাড়াচাড়া করেন, যার ওপর কর্মকর্তা নাসিরউদ্দিনের কোনো নজরদারি বা বাধা নেই। কাজের জন্য সরাসরি নায়েবের কাছে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয় বা জটিল ওয়ারিশ সনদের তাগিদ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। অথচ দালাল মারফত চুক্তি করলেই দ্রুত মিলছে সমাধান।

ভুক্তভোগী মোয়াজ্জেম জানান, জমির সমস্যার কারণে অফিসে গেলে এক দালাল সরাসরি বলেন, নায়েব নাসিরউদ্দিনকে ১ লাখ টাকা দিলে কাজটি সমাধান হবে।

অন্য এক ভুক্তভোগী নিরব জানান, একটি সাধারণ কাজের জন্যও তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে দালালরা। পরে তিনি কাজ না করে চলে আসেন।

ডেন্ডাবর এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নায়েব সরাসরি ফাইল জমা নেন না। দালাল ধরলেই সব সহজ হয়ে যায়।”

এ ছাড়া নায়েব নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও দীর্ঘদিন একই পদে থাকা এই কর্মকর্তা পটপরিবর্তনের পরও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন।

সরকারি গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নথি দালালদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সন্ধ্যার পর নায়েব ও দালালদের মধ্যে অবৈধ অর্থ ভাগাভাগি চলে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে নায়েব নাসিরউদ্দিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।