ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়: চিফ প্রসিকিউটর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৪:০২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে চার্জ (অভিযোগ) ছিল। তার অধিকাংশ চার্জে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই (মৃত্যুদণ্ডের) রায় দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার আসামিরা পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত, তাই তাদের অবস্থান যদি আমরা শনাক্ত করতে পারি, তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, আজকের রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং জুলাই ফাউন্ডেশনের বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করে জুলাইয়ে আহত ও নিহতদের পরিবারের মধ্যে বিলি-বণ্টনের ব্যবস্থা করতে আর কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন করবে সরকার। আর কার কী সম্পদ আছে, সরকার সেটি খুঁজে বের করবে। সেই অনুযায়ী তাদের যে সম্পদ পাওয়া যাবে, সেই সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আজকের এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে। ৩০ দিন পর্যন্ত কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত অথবা অন্য কোনো ব্যবস্থায় যাওয়ার হয়তো সুযোগ নেই। তবে ৩০ দিন পর থেকে এই রায় বাস্তবায়ন করতে আর আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।

আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক অপর আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এদিকে, আজকের রায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে, এই মামলায় পলাতক আসামি ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম। আর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে পার্কিং করা বাসে আগুন

অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৪:০২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে চার্জ (অভিযোগ) ছিল। তার অধিকাংশ চার্জে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই (মৃত্যুদণ্ডের) রায় দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার আসামিরা পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত, তাই তাদের অবস্থান যদি আমরা শনাক্ত করতে পারি, তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, আজকের রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং জুলাই ফাউন্ডেশনের বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করে জুলাইয়ে আহত ও নিহতদের পরিবারের মধ্যে বিলি-বণ্টনের ব্যবস্থা করতে আর কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন করবে সরকার। আর কার কী সম্পদ আছে, সরকার সেটি খুঁজে বের করবে। সেই অনুযায়ী তাদের যে সম্পদ পাওয়া যাবে, সেই সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আজকের এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে। ৩০ দিন পর্যন্ত কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত অথবা অন্য কোনো ব্যবস্থায় যাওয়ার হয়তো সুযোগ নেই। তবে ৩০ দিন পর থেকে এই রায় বাস্তবায়ন করতে আর আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।

আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক অপর আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এদিকে, আজকের রায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে, এই মামলায় পলাতক আসামি ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম। আর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।