ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ৬০ লাখের বেশি মিথ্যা মামলা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬ বার পড়া হয়েছে

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার ৯৯ শতাংশেরই বাদী ছিল পুলিশ। এখন আপনারা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। পুলিশ বাদী হয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মামলা করছে না। মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি বন্ধ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা বিগত ১৭ বছরে বিনা বিচারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা ও গুম করেছে। সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। ৭০০-এর বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। শুধুমাত্র বিএনপি ও জামায়াত করার কারণে অসংখ্য নেতাকর্মীকেও গুম ও হত্যা করা হয়েছে।’

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা এখন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পলাতক রয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে এসব সন্ত্রাসী নেতাকর্মী নিষ্ঠুরতার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছিল। আজ তাদের বিচার করতে যদি আমরা ব্যর্থ হই, তাহলে কাপুরুষ ও ভীরুতার পরিচয় দেব। আমরা সেটা চাই না। আমরা দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

মাদককে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) কিংবা রাষ্ট্রের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মাদককে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মাদক প্রতিরোধে মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই দেশ থেকে মাদক নির্মূল ও প্রতিহত করা সম্ভব হবে।’

তিনি জানান, ‘সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। মাদকের সঙ্গে যদি কোনো বিএনপির নেতাকর্মীও জড়িত থাকেন, তাঁদেরও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।’

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বিকেলে বাগেরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ৬০ লাখের বেশি মিথ্যা মামলা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার ৯৯ শতাংশেরই বাদী ছিল পুলিশ। এখন আপনারা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। পুলিশ বাদী হয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মামলা করছে না। মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি বন্ধ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা বিগত ১৭ বছরে বিনা বিচারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা ও গুম করেছে। সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। ৭০০-এর বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। শুধুমাত্র বিএনপি ও জামায়াত করার কারণে অসংখ্য নেতাকর্মীকেও গুম ও হত্যা করা হয়েছে।’

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা এখন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পলাতক রয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে এসব সন্ত্রাসী নেতাকর্মী নিষ্ঠুরতার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছিল। আজ তাদের বিচার করতে যদি আমরা ব্যর্থ হই, তাহলে কাপুরুষ ও ভীরুতার পরিচয় দেব। আমরা সেটা চাই না। আমরা দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

মাদককে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) কিংবা রাষ্ট্রের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মাদককে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মাদক প্রতিরোধে মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই দেশ থেকে মাদক নির্মূল ও প্রতিহত করা সম্ভব হবে।’

তিনি জানান, ‘সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। মাদকের সঙ্গে যদি কোনো বিএনপির নেতাকর্মীও জড়িত থাকেন, তাঁদেরও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।’

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বিকেলে বাগেরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।