ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগে চীনের প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম ও স্টেনোগ্রাফার শহীদুলকে ঘিরে বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহিদ-আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে: জাহিদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ বড়লেখায় অবৈধভাবে টিলা কাটার সময় এক্সকাভেটর আটক ইরানি হামলায় ৪১৭ মার্কিন সেনা আহত, বহু যুদ্ধবিমান ধ্বংস শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ঋণখেলাপি হওয়ায় পদ হারালেন রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল আসিফের অর্থপাচারের সত্যতা পেতে প্রয়োজনে বিদেশে চিঠি দেবে দুদক অসুস্থ হয়েও রোগীর সেবায় ডা. ইরফান, পেলেন সম্মাননা

এশার নামাজ পড়ে যান মুসল্লিরা, ফজরে গিয়ে দেখেন মসজিদ নেই

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে আস্ত একটি মসজিদ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। পরে ফজরের সময় গিয়ে দেখেন, মসজিদটির কোনো চিহ্নই নেই সেখানে।

পরে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পাড়জুড়ে চলছে তীব্র ভাঙন। আর ভাঙন ঠেকাতে আগে থেকেই বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু কয়েক দিনের প্রবল স্রোতে সেই প্রতিরোধব্যবস্থার বড় একটি অংশও ধসে গেছে।

এরপরও চেষ্টা থামায়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই তীব্র যে, প্রতিরোধব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি শেষ পর্যন্ত পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।

ওই মাদরাসার ছাত্র সোহেল বলেন, ‘আমরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি, মসজিদটি নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।’

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় নদী গভীর হয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।’

মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, ‘আমাদের এখানে পাঁচ বছর ধরে নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি, এখানে স্থায়ী বাঁধ দেবে। কিন্তু পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়িঘর, মসজিদ-সব পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।’

শুধু সদর উপজেলা নয়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকাতেও তীব্র নদীভাঙন চলছে। স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মো. হোসেন লিটন খান বলেন, ‘আমরা এই এলাকার লোকজন পদ্মার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। আমাদের এখানকার মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ ভালো একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর মাহফিলের সময় অনেক লোক হয়। মাহফিল করার যে মাঠ ছিল, সেটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদানী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আকুল আবেদন, প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক।’

স্থানীয় জামাল বলেন, ‘নদীটা ছোট ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে আশপাশের অনেকগুলো বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এখানে মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেকে এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এখানে একটি মাদরাসায় এলাকার ছাত্ররা লেখাপড়া করে। সেই মাদরাসার মসজিদটিও ভেঙে গেল।’

এদিকে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙনকবলিত সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তাঁরা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, ‘এই এলাকার ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকা নিয়ে কাজ করছি আমরা।’

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে আমরা আন্তরিক। সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, ‘পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগে চীনের প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

এশার নামাজ পড়ে যান মুসল্লিরা, ফজরে গিয়ে দেখেন মসজিদ নেই

আপডেট সময় ০১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে আস্ত একটি মসজিদ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। পরে ফজরের সময় গিয়ে দেখেন, মসজিদটির কোনো চিহ্নই নেই সেখানে।

পরে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পাড়জুড়ে চলছে তীব্র ভাঙন। আর ভাঙন ঠেকাতে আগে থেকেই বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু কয়েক দিনের প্রবল স্রোতে সেই প্রতিরোধব্যবস্থার বড় একটি অংশও ধসে গেছে।

এরপরও চেষ্টা থামায়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই তীব্র যে, প্রতিরোধব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি শেষ পর্যন্ত পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।

ওই মাদরাসার ছাত্র সোহেল বলেন, ‘আমরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি, মসজিদটি নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।’

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় নদী গভীর হয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।’

মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, ‘আমাদের এখানে পাঁচ বছর ধরে নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি, এখানে স্থায়ী বাঁধ দেবে। কিন্তু পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়িঘর, মসজিদ-সব পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।’

শুধু সদর উপজেলা নয়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকাতেও তীব্র নদীভাঙন চলছে। স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মো. হোসেন লিটন খান বলেন, ‘আমরা এই এলাকার লোকজন পদ্মার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। আমাদের এখানকার মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ ভালো একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর মাহফিলের সময় অনেক লোক হয়। মাহফিল করার যে মাঠ ছিল, সেটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদানী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আকুল আবেদন, প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক।’

স্থানীয় জামাল বলেন, ‘নদীটা ছোট ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে আশপাশের অনেকগুলো বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এখানে মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেকে এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এখানে একটি মাদরাসায় এলাকার ছাত্ররা লেখাপড়া করে। সেই মাদরাসার মসজিদটিও ভেঙে গেল।’

এদিকে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙনকবলিত সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তাঁরা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, ‘এই এলাকার ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকা নিয়ে কাজ করছি আমরা।’

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে আমরা আন্তরিক। সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, ‘পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।’