চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ ভরি সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর কনস্টেবল জাকিরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এসময় ছিনিয়ে নেওয়া সোনার সাড়ে ২০ ভরি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারে অভিযান চলছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুম। মামলায় কনস্টেবল জাকির হোসেনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আরো দুজনের নাম উল্লেখ এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর রাতেই এজাহারভুক্ত আসামি কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং বাদীর দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকেই রাতে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কনস্টেবল জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালীনগর ব্রিজের পাশে সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গলিত অবস্থায় থাকা ৪০ ভরি সোনা রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠিয়েছিলেন ব্যবসায়ী নিঝুম।
স্বর্ণের চালানটি রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চকআলমপুরে।
পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের বন্ধু। মোহাম্মদ আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই ব্যবসায়ীর কাছে সোনার চালানটি পৌঁছে দেওয়ার প্রায় দুই মিনিটের মধ্যে কনস্টেবল জাকিরসহ দুজন সেখানে হাজির হন। পরে পুলিশ পরিচয়ে তারা ওই সোনা নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
এরপর এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান কনস্টেবল জাকির হোসেন। ছুটি শেষে কয়েক দিন আগে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। পরে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। মামলা হওয়ার পর পুলিশ লাইন্স থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করার চিঠিও প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় থাকায় তিনি ফিরে আসার পর সাময়িক বরখাস্তের আদেশে সই করবেন।
তিনি আরো জানান, মোহাম্মদ আলী তার কাছে থাকা সোনা বের করে দিলেও কনস্টেবল জাকির হোসেন এখনো বাকি সোনা দেননি। ওই সোনা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















