ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোমস্তাপুরে ডিএনসির অভিযানে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১ বিরোধীদল সংসদে সুন্দর কথা বলে, আর বাহিরে ৭১’র রূপ ধারণ করে: এ্যানি স্ত্রীর মারধরের দাবি করে মদপান, ভিডিও ভাইরালের পর নৌ পুলিশের এসআই প্রত্যাহার চলে গেলে কেউ দেবে না, তাই বিভিন্ন স্থাপনায় নিজের নাম দিচ্ছি: ট্রাম্প মরণফাঁদে কুমিল্লা সদরের রঘুপুর সড়ক, দুর্দশায় ১৩ হাজার মানুষ লং মার্চের নামে বিরোধী দল জ্বালানি অপচয় করছে : মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী দেশ গঠনে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের চার বিশেষ আহ্বান রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ডা. জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন পর্যটকের কাছ থেকে ৫০ টাকা আদায়, ৫ টাকার নির্দেশনা উপেক্ষা; ক্ষোভে দ্বীপবাসী সামান্য ভুলেও ১৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

মরণফাঁদে কুমিল্লা সদরের রঘুপুর সড়ক, দুর্দশায় ১৩ হাজার মানুষ

রাস্তার দুই পাশে গভীর পুকুর। নেই কোনো গার্ডওয়াল বা রিটেইনিং ওয়াল। একটু অসাবধান হলেই কিংবা গাড়ির চাকা সামান্য ডানে-বামে সরলেই সোজা পুকুরের তলদেশে। দীর্ঘদিন সংস্কার না থাকায় ভেঙে পুকুরে তলিয়ে গেছে রাস্তার বেশিরভাগ অংশ। কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ, আবার কোথাও উঠে গেছে পিচ ও মাটি। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রঘুপুর চৌমুহনী থেকে রঘুপুর শহীদ মানিক-মালেক স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং রঘুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী সড়কটির বর্তমান চিত্র এটি। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ‘মরণফাঁদ’ দিয়ে যাতায়াত করছে অন্তত ৬টি গ্রামের মানুষ ও শতাধিক শিক্ষার্থী।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকাটিতে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের বসবাস। রঘুপুর চৌমুহনী থেকে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই গ্রামীণ সড়কটি। তবে সড়কটির এমন করুণ দশা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো প্রশাসনিক নজরদারি কিংবা মেরামতের উদ্যোগ।
সড়কের দুই পাশে অবস্থিত শহীদ মানিক-মালেক স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও রঘুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন ভোরে ও দুপুরে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয় দুই স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের।
​স্কুলের এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন বাচ্চা স্কুলে গেলে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকি। রাস্তা ভাঙতে ভাঙতে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে দুইটা রিকশা পাশাপাশি পার হতে পারে না। বৃষ্টির দিনে তো কথাই নেই, রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”
​একই আশঙ্কার কথা জানান শহীদ মানিক-মালেক স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, “শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। প্রতিদিন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। বিশেষ করে ছোট ছোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা যেকোনো সময় পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। জরুরি ভিত্তিতে এখানে রিটেইনিং ওয়াল তৈরি করে রাস্তাটি চওড়া ও সংস্কার করা প্রয়োজন।”
এলাকাটি মূলত খেটে খাওয়া সাধারণ ও দিনমজুর মানুষের বসতি। সড়কটির বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন স্থানীয় দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরা।
​স্থানীয় এক দিনমজুর আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। মালামাল নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যান উল্টে পুকুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। গাড়ি মেরামত করতেই দিনমজুরির অর্ধেক টাকা শেষ। আমাদের এই কষ্ট কি প্রশাসনের কেউ দেখে না?”
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ভাঙন সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, “৬টি গ্রামের অন্তত ১৩ হাজার মানুষ এই এক রাস্তার ওপর নির্ভরশীল। রাতে কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে এম্বুলেন্স বা গাড়ি ভেতরে ঢুকতে চায় না। রাস্তার দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল না দেওয়া পর্যন্ত এই রাস্তা স্থায়ী হবে না।”
রাস্তার নাজুক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) বলেন, “রাস্তাটির অবস্থা আসলেই খুব শোচনীয়। দুই পাশের পুকুরের কারণে সড়কটি ভেঙে গেছে। আমরা বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা প্রকৌশলী (LGED) দপ্তরকে জানিয়েছি। রিটেইনিং ওয়াল সহ বড় ধরনের বাজেট প্রয়োজন। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে।”
সড়কটি দ্রুত মেরামত ও দুই পাশে শক্ত রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি বা বড় সড়ক দুর্ঘটনা। কোনো বড় দুর্ঘটনার পর ঘুম ভাঙবে প্রশাসনের?—এমন প্রশ্ন এখন রঘুপুরের ১৩ হাজার বাসিন্দার। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) কাছে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থায়ী সমাধানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীরা

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোমস্তাপুরে ডিএনসির অভিযানে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

মরণফাঁদে কুমিল্লা সদরের রঘুপুর সড়ক, দুর্দশায় ১৩ হাজার মানুষ

আপডেট সময় ০৭:৩০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাস্তার দুই পাশে গভীর পুকুর। নেই কোনো গার্ডওয়াল বা রিটেইনিং ওয়াল। একটু অসাবধান হলেই কিংবা গাড়ির চাকা সামান্য ডানে-বামে সরলেই সোজা পুকুরের তলদেশে। দীর্ঘদিন সংস্কার না থাকায় ভেঙে পুকুরে তলিয়ে গেছে রাস্তার বেশিরভাগ অংশ। কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ, আবার কোথাও উঠে গেছে পিচ ও মাটি। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রঘুপুর চৌমুহনী থেকে রঘুপুর শহীদ মানিক-মালেক স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং রঘুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী সড়কটির বর্তমান চিত্র এটি। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ‘মরণফাঁদ’ দিয়ে যাতায়াত করছে অন্তত ৬টি গ্রামের মানুষ ও শতাধিক শিক্ষার্থী।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকাটিতে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের বসবাস। রঘুপুর চৌমুহনী থেকে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই গ্রামীণ সড়কটি। তবে সড়কটির এমন করুণ দশা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো প্রশাসনিক নজরদারি কিংবা মেরামতের উদ্যোগ।
সড়কের দুই পাশে অবস্থিত শহীদ মানিক-মালেক স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও রঘুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন ভোরে ও দুপুরে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয় দুই স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের।
​স্কুলের এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন বাচ্চা স্কুলে গেলে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকি। রাস্তা ভাঙতে ভাঙতে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে দুইটা রিকশা পাশাপাশি পার হতে পারে না। বৃষ্টির দিনে তো কথাই নেই, রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”
​একই আশঙ্কার কথা জানান শহীদ মানিক-মালেক স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, “শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। প্রতিদিন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। বিশেষ করে ছোট ছোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা যেকোনো সময় পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। জরুরি ভিত্তিতে এখানে রিটেইনিং ওয়াল তৈরি করে রাস্তাটি চওড়া ও সংস্কার করা প্রয়োজন।”
এলাকাটি মূলত খেটে খাওয়া সাধারণ ও দিনমজুর মানুষের বসতি। সড়কটির বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন স্থানীয় দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরা।
​স্থানীয় এক দিনমজুর আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। মালামাল নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যান উল্টে পুকুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। গাড়ি মেরামত করতেই দিনমজুরির অর্ধেক টাকা শেষ। আমাদের এই কষ্ট কি প্রশাসনের কেউ দেখে না?”
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ভাঙন সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, “৬টি গ্রামের অন্তত ১৩ হাজার মানুষ এই এক রাস্তার ওপর নির্ভরশীল। রাতে কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে এম্বুলেন্স বা গাড়ি ভেতরে ঢুকতে চায় না। রাস্তার দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল না দেওয়া পর্যন্ত এই রাস্তা স্থায়ী হবে না।”
রাস্তার নাজুক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) বলেন, “রাস্তাটির অবস্থা আসলেই খুব শোচনীয়। দুই পাশের পুকুরের কারণে সড়কটি ভেঙে গেছে। আমরা বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা প্রকৌশলী (LGED) দপ্তরকে জানিয়েছি। রিটেইনিং ওয়াল সহ বড় ধরনের বাজেট প্রয়োজন। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে।”
সড়কটি দ্রুত মেরামত ও দুই পাশে শক্ত রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি বা বড় সড়ক দুর্ঘটনা। কোনো বড় দুর্ঘটনার পর ঘুম ভাঙবে প্রশাসনের?—এমন প্রশ্ন এখন রঘুপুরের ১৩ হাজার বাসিন্দার। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) কাছে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থায়ী সমাধানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীরা