পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের বিধি অনুযায়ী তাদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার জন্য আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এসব নির্দেশ দেন। বর্তমানে ইমরান খান ও বুশরা বিবি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানকে কথিত একাকী কারাবন্দী রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবির বিষয়ে পৃথক আবেদন করেন তার মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।
রায় ঘোষণার সময় আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ দিতে বলেন। পাশাপাশি তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহ এবং কারাগারের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলার সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বুশরা বিবির কারাবাস
দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে পাঠানো হয় বুশরা বিবিকে। প্রায় নয় মাস পর, ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তার সাজা বাড়ানো হয়। বর্তমানে তিনি আদিয়ালা কারাগারেই আছেন।
চিকিৎসা নিয়ে নতুন বিরোধ
এদিকে ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়েও সম্প্রতি তার পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কয়েক মাস ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া চোখের সমস্যা নিয়ে তারা উদ্বেগ জানিয়েছে।
গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে তাকে সেখানে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























