ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধসে পড়তে পারে বিশ্ব শেয়ারবাজার, এআই নিয়ে ভয়ংকর সতর্কবার্তা সংসার-সন্তান রেখে প্রেমের টানে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী বিএনপি ওয়াদা ও জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারী দল : রিজভী লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে : জাহেদ উর রহমান কুমিল্লার পদ্ম বিল, চোখ জুড়ানো প্রকৃতির এক অপরূপ ঠিকানা গণপূর্তের সাইফুর রহমান নামে-বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড় খিলার চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় আলোচনায় রেফায়েত সেলিম মুকসুদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, বীর মুক্তিযোদ্ধার গাছ-বেড়া কাটার অভিযোগ ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১১ বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ১,৭৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

কুমিল্লার পদ্ম বিল, চোখ জুড়ানো প্রকৃতির এক অপরূপ ঠিকানা

বর্ষা এলেই কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দক্ষিণ গ্রামের পদ্ম বিল সেজে ওঠে নানা রঙের পদ্মফুলে। লাল, সাদা আর বিরল হলুদ পদ্মের সমারোহে বদলে যায় পুরো বিলের চিত্র। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন দূর-দূরান্তের ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

কুমিল্লার গোমতী নদীর উত্তরে অবস্থিত দক্ষিণ গ্রামের এই পদ্ম বিল স্থানীয়দের কাছে বহুদিনের পরিচিত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এর পরিচিতি বাড়তে শুরু করেছে।

প্রায় ১৫ একর জমিজুড়ে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানির ওপর দেখা যায় সবুজ পদ্মপাতার বিস্তৃত বিছানা। এর মাঝেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে রঙ-বেরঙের পদ্মফুল। সকালের নরম রোদ পদ্মের পাপড়িতে পড়লে জলের বুকজুড়ে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য।

শিশিরভেজা সবুজ পাতা, মৃদু বাতাসের দোলা, পাখির কলতান আর পদ্মফুলের সৌন্দর্যে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে মায়াবী। কখনো নৌকার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, আবার কখনো বাতাসে দুলতে থাকা পদ্মপাতা—সব মিলিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে পদ্ম বিলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয়দের আশা, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলা হলে পদ্ম বিলটি কুমিল্লার অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

তবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পাশাপাশি বিলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পদ্মফুল নষ্ট করা কিংবা পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

বর্ষা এলেই রঙিন পদ্মে সেজে ওঠা এই বিল যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। সঠিক পরিকল্পনা ও সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া গেলে কুমিল্লার পদ্ম বিল হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধসে পড়তে পারে বিশ্ব শেয়ারবাজার, এআই নিয়ে ভয়ংকর সতর্কবার্তা

কুমিল্লার পদ্ম বিল, চোখ জুড়ানো প্রকৃতির এক অপরূপ ঠিকানা

আপডেট সময় ১২:২১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্ষা এলেই কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দক্ষিণ গ্রামের পদ্ম বিল সেজে ওঠে নানা রঙের পদ্মফুলে। লাল, সাদা আর বিরল হলুদ পদ্মের সমারোহে বদলে যায় পুরো বিলের চিত্র। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন দূর-দূরান্তের ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

কুমিল্লার গোমতী নদীর উত্তরে অবস্থিত দক্ষিণ গ্রামের এই পদ্ম বিল স্থানীয়দের কাছে বহুদিনের পরিচিত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এর পরিচিতি বাড়তে শুরু করেছে।

প্রায় ১৫ একর জমিজুড়ে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানির ওপর দেখা যায় সবুজ পদ্মপাতার বিস্তৃত বিছানা। এর মাঝেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে রঙ-বেরঙের পদ্মফুল। সকালের নরম রোদ পদ্মের পাপড়িতে পড়লে জলের বুকজুড়ে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য।

শিশিরভেজা সবুজ পাতা, মৃদু বাতাসের দোলা, পাখির কলতান আর পদ্মফুলের সৌন্দর্যে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে মায়াবী। কখনো নৌকার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, আবার কখনো বাতাসে দুলতে থাকা পদ্মপাতা—সব মিলিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে পদ্ম বিলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয়দের আশা, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলা হলে পদ্ম বিলটি কুমিল্লার অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

তবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পাশাপাশি বিলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পদ্মফুল নষ্ট করা কিংবা পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

বর্ষা এলেই রঙিন পদ্মে সেজে ওঠা এই বিল যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। সঠিক পরিকল্পনা ও সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া গেলে কুমিল্লার পদ্ম বিল হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।