ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবাদে ফেনীতে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর মহা দুর্নীতিবাজ, টিপু মুন্সির ভায়রা আবু নাসের চৌধুরীর ঢাকায় পোষ্টিং শিক্ষা প্রকৌশলী আলেক হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পিলার ও কয়েন চক্রের মূলহোতা ফরিদপুরের আওয়ামী নেতা আব্দুস সোবহান মিথ্যা বলাৎকারের মামলায় পাঁচ মাস ধরে কারাবন্দি শ্রমজীবী মোতালেব হোসেন দুর্নীতির অভিযোগ ঝুলে থাকতেই এলজিইডির শীর্ষ পদে বেলাল হোসেন শহীদুল্লাহ সিন্ডিকেটের ৩৮৭ কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্য আমিনবাজার ভূমি অফিসে ঘুষের আখড়া নাজির-ক্যাশিয়ার সাজেদুল ও সহযোগীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ভবভদী আদর্শ যুব সংঘ’-এর উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
১০ পর্বের প্রথম পর্ব

কথিত প্রাচীন কয়েন ও সীমানা পিলার প্রতারণার মুলহোতা আহাদুল ইসলাম দুলাল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬০ বার পড়া হয়েছে

গত কয়েক বছরে দেশের প্রভাবশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম মানুষদের লক্ষ্য করে একটি জটিল প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়েছে। অনুসন্ধান এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুলহোতা আহাদুল ইসলাম দুলাল এই চক্রের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উঠে এসেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া দলিলপত্র, কথিত প্রাচীন কয়েন এবং সীমানা পিলারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। এবং এই টাকা নিয়ে দুবাই সিংগাপুর ও মালয়েশিয়ায় গিয়ে ক্যাসিনো, নেশা ও নারী নিয়ে মত্ত থাকে দুলাল।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন- নাদের খান, মোঃ শাহ আলম, মামুন খন্দকার, রসনা বেগম, আসলাম চৌধুরী এবং মালিক সাহেবসহ আরও অনেকে। তাঁরা প্রত্যেকে জানিয়েছেন, আহাদুল ইসলাম দুলাল তাদের কাছে নিজেদের পরিচয় দিতেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক বা আন্তর্জাতিক কালেক্টরের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে। এই পরিচয় দেয়ার ধরন ও ব্যবহৃত ভাষা এতটাই প্রামাণ্য মনে হতো যে, অনেকেই প্রথম থেকেই সতর্ক হওয়া ছাড়াই তাদের কথায় বিশ্বাস করে বসেন।
প্রথম পর্যায়ে চক্রটি সম্ভাব্য টার্গেটের কাছে প্রাথমিক সংযোগ স্থাপন করে। তারা জানান, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা বা প্রাচীন স্থাপনা থেকে অমূল্য সীমানা পিলার এবং শতবর্ষী কয়েন উদ্ধার হয়েছে। এসব বস্তু সাধারণ বাজারে বিক্রি করা যায় না; তবে বিশেষ অনুমতি থাকলে সীমিত পরিসরে কেনাবেচা সম্ভব।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শুরুতে প্রতারকরা তুলনামূলক ছোট অঙ্কের টাকা নিতেন। এরপর তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন-‘বিদেশি ক্রেতা আসছে’, ‘সরকারি ছাড়পত্র মিলেছে’ কিংবা ‘চূড়ান্ত ডিল সম্পন্ন করতে হবে’। এতে শিকারদের সন্দেহ কম থাকতো, কারণ প্রতারকরা আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতার গল্প বলে ভরসা তৈরি করতেন।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেছেন, মুলহোতা আহাদুল ইসলাম দুলাল অনেক সময় দেশে না থেকে বিদেশে অবস্থান করতেন। কেউ কেউ বলেন, তিনি দুবাই ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন, এতে ভুক্তভোগীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হতো না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কথিত সীমানা পিলারগুলোর বেশিরভাগই সাধারণ পাথর বা আধুনিকভাবে তৈরি স্তম্ভ। এগুলো কখনো ব্রিটিশ আমলের সীমান্ত পিলার হিসেবে, কখনো আরও প্রাচীন কোনো রাজ্যের নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে দেখানো হতো পুরোনো মানচিত্রের কপি, হলদে কাগজে ছাপানো নথি এবং ভুয়া সিলমোহর।
প্রাচীন কয়েনকে আরেকটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মুঘল, সুলতানি বা অন্যান্য প্রাচীন যুগের স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হতো। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে এই ধরনের কয়েনকে কৃত্রিমভাবে পুরনো দেখানো খুবই সহজ। এসিড ট্রিটমেন্ট, ঘষামাজা এবং নকল খোদাইয়ের মাধ্যমে সাধারণ ধাতুকেও শতবর্ষী মুদ্রার রূপ দেওয়া যায়।
কিছু ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মান, পরিবারের চাপ এবং ব্যক্তিগত সুনামের কারণে অভিযোগ করতে অনিচ্ছুক।
প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, প্রকৃত সীমানা পিলার রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং এর ব্যক্তিগত মালিকানা বা কেনাবেচা আইনত অসম্ভব। তবু মানুষের অজ্ঞতা এবং দ্রুত লাভের আকাঙ্ক্ষাই প্রতারকচক্রকে সুযোগ দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, প্রতারণার প্রক্রিয়া প্রায় একই ধরনের। প্রথমে প্রারম্ভিক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হয়। এরপর ছোট অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ বা সময়ক্ষেপণ করা হয়। যখন ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন, তখন টাকা উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি দেশের আইন, ঐতিহ্য এবং সামাজিক আস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন শিল্পপতি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ফাঁদে পড়েন, সাধারণ মানুষের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ আইন থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা খুব কম। কোন বস্তু বৈধভাবে কেনাবেচা করা যায় এবং কোনটি রাষ্ট্রীয় সম্পদএই সীমারেখা স্পষ্ট না হওয়ায় প্রতারকরা সুযোগ নেয়। তারা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আবরণে অপরাধকে আড়াল করে।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রতারণার পরে সামাজিক সম্মান বজায় রাখার জন্য তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। এই নীরবতার কারণে প্রতারকচক্র আরও সাহসী হয়ে উঠেছে এবং নতুন নতুন শিকার খুঁজে নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষজ্ঞরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, গণমাধ্যমের ধারাবাহিক অনুসন্ধান এবং সর্বোপরি জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, “আমরা শিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ মানুষ। তবু দ্রুত লাভের প্রলোভনে এমন ফাঁদে পড়েছি। আশা করি অন্যরা আমাদের মতো বিপদে পড়বেন না।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবাদে ফেনীতে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ

১০ পর্বের প্রথম পর্ব

কথিত প্রাচীন কয়েন ও সীমানা পিলার প্রতারণার মুলহোতা আহাদুল ইসলাম দুলাল

আপডেট সময় ০৯:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

গত কয়েক বছরে দেশের প্রভাবশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম মানুষদের লক্ষ্য করে একটি জটিল প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়েছে। অনুসন্ধান এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুলহোতা আহাদুল ইসলাম দুলাল এই চক্রের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উঠে এসেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া দলিলপত্র, কথিত প্রাচীন কয়েন এবং সীমানা পিলারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। এবং এই টাকা নিয়ে দুবাই সিংগাপুর ও মালয়েশিয়ায় গিয়ে ক্যাসিনো, নেশা ও নারী নিয়ে মত্ত থাকে দুলাল।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন- নাদের খান, মোঃ শাহ আলম, মামুন খন্দকার, রসনা বেগম, আসলাম চৌধুরী এবং মালিক সাহেবসহ আরও অনেকে। তাঁরা প্রত্যেকে জানিয়েছেন, আহাদুল ইসলাম দুলাল তাদের কাছে নিজেদের পরিচয় দিতেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক বা আন্তর্জাতিক কালেক্টরের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে। এই পরিচয় দেয়ার ধরন ও ব্যবহৃত ভাষা এতটাই প্রামাণ্য মনে হতো যে, অনেকেই প্রথম থেকেই সতর্ক হওয়া ছাড়াই তাদের কথায় বিশ্বাস করে বসেন।
প্রথম পর্যায়ে চক্রটি সম্ভাব্য টার্গেটের কাছে প্রাথমিক সংযোগ স্থাপন করে। তারা জানান, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা বা প্রাচীন স্থাপনা থেকে অমূল্য সীমানা পিলার এবং শতবর্ষী কয়েন উদ্ধার হয়েছে। এসব বস্তু সাধারণ বাজারে বিক্রি করা যায় না; তবে বিশেষ অনুমতি থাকলে সীমিত পরিসরে কেনাবেচা সম্ভব।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শুরুতে প্রতারকরা তুলনামূলক ছোট অঙ্কের টাকা নিতেন। এরপর তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন-‘বিদেশি ক্রেতা আসছে’, ‘সরকারি ছাড়পত্র মিলেছে’ কিংবা ‘চূড়ান্ত ডিল সম্পন্ন করতে হবে’। এতে শিকারদের সন্দেহ কম থাকতো, কারণ প্রতারকরা আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতার গল্প বলে ভরসা তৈরি করতেন।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেছেন, মুলহোতা আহাদুল ইসলাম দুলাল অনেক সময় দেশে না থেকে বিদেশে অবস্থান করতেন। কেউ কেউ বলেন, তিনি দুবাই ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন, এতে ভুক্তভোগীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হতো না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কথিত সীমানা পিলারগুলোর বেশিরভাগই সাধারণ পাথর বা আধুনিকভাবে তৈরি স্তম্ভ। এগুলো কখনো ব্রিটিশ আমলের সীমান্ত পিলার হিসেবে, কখনো আরও প্রাচীন কোনো রাজ্যের নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে দেখানো হতো পুরোনো মানচিত্রের কপি, হলদে কাগজে ছাপানো নথি এবং ভুয়া সিলমোহর।
প্রাচীন কয়েনকে আরেকটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মুঘল, সুলতানি বা অন্যান্য প্রাচীন যুগের স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হতো। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে এই ধরনের কয়েনকে কৃত্রিমভাবে পুরনো দেখানো খুবই সহজ। এসিড ট্রিটমেন্ট, ঘষামাজা এবং নকল খোদাইয়ের মাধ্যমে সাধারণ ধাতুকেও শতবর্ষী মুদ্রার রূপ দেওয়া যায়।
কিছু ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মান, পরিবারের চাপ এবং ব্যক্তিগত সুনামের কারণে অভিযোগ করতে অনিচ্ছুক।
প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, প্রকৃত সীমানা পিলার রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং এর ব্যক্তিগত মালিকানা বা কেনাবেচা আইনত অসম্ভব। তবু মানুষের অজ্ঞতা এবং দ্রুত লাভের আকাঙ্ক্ষাই প্রতারকচক্রকে সুযোগ দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, প্রতারণার প্রক্রিয়া প্রায় একই ধরনের। প্রথমে প্রারম্ভিক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হয়। এরপর ছোট অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ বা সময়ক্ষেপণ করা হয়। যখন ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন, তখন টাকা উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি দেশের আইন, ঐতিহ্য এবং সামাজিক আস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন শিল্পপতি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ফাঁদে পড়েন, সাধারণ মানুষের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ আইন থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা খুব কম। কোন বস্তু বৈধভাবে কেনাবেচা করা যায় এবং কোনটি রাষ্ট্রীয় সম্পদএই সীমারেখা স্পষ্ট না হওয়ায় প্রতারকরা সুযোগ নেয়। তারা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আবরণে অপরাধকে আড়াল করে।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রতারণার পরে সামাজিক সম্মান বজায় রাখার জন্য তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। এই নীরবতার কারণে প্রতারকচক্র আরও সাহসী হয়ে উঠেছে এবং নতুন নতুন শিকার খুঁজে নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষজ্ঞরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, গণমাধ্যমের ধারাবাহিক অনুসন্ধান এবং সর্বোপরি জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, “আমরা শিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ মানুষ। তবু দ্রুত লাভের প্রলোভনে এমন ফাঁদে পড়েছি। আশা করি অন্যরা আমাদের মতো বিপদে পড়বেন না।”