ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলা একাডেমিতে জিয়াউর রহমান ও কবি নজরুলের কর্মময় জীবন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিয়ের প্রলোভনে খুবি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, নৌপরিবহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা অডিও ফাঁসের পর সুর বদলে ‘পা ধরতে’ চান কর্মচারী “বন কর্মকর্তা সামছু উদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে দুদক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পি এসের কক্ষে বসাকে কেন্দ্র করে পিয়ন সুমনকে শোকজ ৩০ দিনের মধ্যেই অন্য বিভাগে পদায়ন নদীবন্দর শাখার সাবেক কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিনের এমপির স্বাক্ষর জাল করে ১০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা অভিযোগের কেন্দ্রে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আকতার জাহান কাঁকন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

“বন কর্মকর্তা সামছু উদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে দুদক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বন কর্মকর্তা সামছু উদ্দিন বন অধিদফতরের এক আতঙ্কের নাম। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৭ বছর মধ্যে বন অধিদফতর একাধিকবার তার দুর্নীতি চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ২০১৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল হলেও দুদক তাতেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তার বিরুদ্ধে গত ৮ আগস্ট বেগমগঞ্জ উপজেলার বেতুয়ার বাজার গোপালপুর ইউনিয়নের মমিনুল ইসলাম পিজন স্বাক্ষরিত আবেদন নোয়াখালীর দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দিয়েছেন।

বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অনিয়মের অভিযোগে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।এসব প্রকাশিত সংবাদের জেরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত চিঠি বন অধিদপ্তরে পাঠান।তৎকালীন সরকার পতনের পর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার কালিকাপুর বাজার এলাকায় পৈতৃক ভিটা সামছুদ্দিনের। এলাকায় তাকে সবাই চেনে ‘বন সামছু’ নামেই। ১৯৯০ সাল থেকে কর্মরত আছেন নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার বন কর্মকর্তা হিসেবে। বর্তমানে তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার বন কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রয়েছেন সেনবাগের বন কর্মকর্তার দায়িত্বে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে কখনো সোনাইমুড়ী, কখনো সেনবাগ, কখনো বেগমগঞ্জ উপজেলার বন কর্মকর্তা হিসেবে সময় পার করেছেন। সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ জেলায় চাকরির সুযোগ না থাকলেও সামছুদ্দিনের বেলায় যেন ভিন্ন নিয়ম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একজন উপজেলা বন কর্মকর্তার মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা। অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে তা দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার। এই বেতনেই সামছুদ্দিন নিজ এলাকা কালিকাপুরে কিনেছেন ২২ ডিসিম জমি। বগাদিয়া-কালিকাপুর বাজার-সংলগ্ন সড়কের পাশে কিনেছেন প্রায় ৩০ ডিসিম জমি, যার বর্তমান মূল্য কয়েক কোটি টাকা। সেই জমির রাস্তা তৈরি করতে করেছেন সরকারি খাল দখল। কালিকাপুরের পৈতৃক জমিতে তুলছেন আলিশান দ্বিতল ভবন। বসবাস করছেন মাইজদী শহরের দীঘিরপাড় আবাসিক এলাকার বিলাসবহুল আপন নিবাস নামে একটি ফ্ল্যাটে। আর সেই ফ্ল্যাটের পাশেই কিনেছেন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্লট। তবে ওই জমিতে ব্যবহার করেছেন নিজের শ্বশুরের নামে ব্যানার।

জানা যায়, গত ২০২৩ সালের মে মাসে সোনাইমুড়ীর বজরা ইউনিয়নের ছনগাঁও এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে নূর নবী শিপন ও আব্দুল গফুরের ছেলে শাহ আলম সামাজিক বনায়নের প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলেন। অবৈধভাবে গাছ কাটার বিষয়টি বনপ্রহরী সাইফুল ইসলাম ও শরিফকে জানায় ওই এলাকার সামাজিক বনায়নের সভাপতি আবুল কাশেম। ঘটনাটি জানার পর সোনাইমুড়ীর ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অবৈধভাবে গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেন।

এ ঘটনার বিষয়ে বনপ্রহরী লিপন বলেন, যে দিন গাছ কাটে ওই দিন সন্ধ্যায় সামাজিক বনায়নের সভাপতি কাশেমের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ওখানে প্রায় ২০টি গাছ কাটা হয়। তবে ঘটনাস্থলে ছিল মাত্র দুই-তিনটি গাছের অংশ ও কিছু ডালপালা। পরের দিন সামছুদ্দিন স্যার আমাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে শিপনকে বকাবকি করেন, মামলার ভয় দেন। পরে বদলকোটের বাহারসহ (নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলমের শালা) অন্য নেতাদের ধরে সবকিছু ধামাচাপা দেওয়া হয়। স্যার প্রথমে মামলার ভয় দেয় পরে ম্যানেজ হয়ে যান।

জানা যায়, গত ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে সেনবাগের কাদরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়ার নির্দেশে হিজলী গ্রামের সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫০টি গাছ কেটে ফেলেন ইউপি মেম্বার পলাশ। বিষয়টি জানতে পেরে সেনবাগ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্তদের জিম্মায় গাছ দিয়ে এসেছেন।সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা, নিয়ম-বহির্ভূতভাবে সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ, মামলার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

নোয়াখালী বন বিভাগের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই বন কর্মকর্তা নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। ওই দলের নেতাকর্মীদের কেউ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। এর কারণে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে পুরস্কার। সে পুরস্কারকে পুঁজি করে নোয়াখালী বন বিভাগে দাপট দেখাতেন। কোন সংবাদকর্মী তার বিরুদ্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করলে শুরু করে দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন। আবার কোন কোন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে দিয়েছেন মামলাও। বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পর সে পুরোদমে জাতীয়তাবাদী আদর্শের লোক হয়ে বনে গেছেন। আবারো করবেন ন্যায় স্থানীয় এমপি ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছেন এ ধরনের অনিয়ম।

নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি এ জেলায় চাকরি করছেন। এটা সত্য। তবে তার অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ওই অভিযোগে অনিয়ম ও জ্ঞাত আয় সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন উক্ত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেননি মুঠোফোনে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

“বন কর্মকর্তা সামছু উদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে দুদক

আপডেট সময় ০২:২০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বন কর্মকর্তা সামছু উদ্দিন বন অধিদফতরের এক আতঙ্কের নাম। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৭ বছর মধ্যে বন অধিদফতর একাধিকবার তার দুর্নীতি চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ২০১৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল হলেও দুদক তাতেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তার বিরুদ্ধে গত ৮ আগস্ট বেগমগঞ্জ উপজেলার বেতুয়ার বাজার গোপালপুর ইউনিয়নের মমিনুল ইসলাম পিজন স্বাক্ষরিত আবেদন নোয়াখালীর দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দিয়েছেন।

বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অনিয়মের অভিযোগে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।এসব প্রকাশিত সংবাদের জেরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত চিঠি বন অধিদপ্তরে পাঠান।তৎকালীন সরকার পতনের পর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার কালিকাপুর বাজার এলাকায় পৈতৃক ভিটা সামছুদ্দিনের। এলাকায় তাকে সবাই চেনে ‘বন সামছু’ নামেই। ১৯৯০ সাল থেকে কর্মরত আছেন নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার বন কর্মকর্তা হিসেবে। বর্তমানে তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার বন কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রয়েছেন সেনবাগের বন কর্মকর্তার দায়িত্বে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে কখনো সোনাইমুড়ী, কখনো সেনবাগ, কখনো বেগমগঞ্জ উপজেলার বন কর্মকর্তা হিসেবে সময় পার করেছেন। সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ জেলায় চাকরির সুযোগ না থাকলেও সামছুদ্দিনের বেলায় যেন ভিন্ন নিয়ম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একজন উপজেলা বন কর্মকর্তার মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা। অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে তা দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার। এই বেতনেই সামছুদ্দিন নিজ এলাকা কালিকাপুরে কিনেছেন ২২ ডিসিম জমি। বগাদিয়া-কালিকাপুর বাজার-সংলগ্ন সড়কের পাশে কিনেছেন প্রায় ৩০ ডিসিম জমি, যার বর্তমান মূল্য কয়েক কোটি টাকা। সেই জমির রাস্তা তৈরি করতে করেছেন সরকারি খাল দখল। কালিকাপুরের পৈতৃক জমিতে তুলছেন আলিশান দ্বিতল ভবন। বসবাস করছেন মাইজদী শহরের দীঘিরপাড় আবাসিক এলাকার বিলাসবহুল আপন নিবাস নামে একটি ফ্ল্যাটে। আর সেই ফ্ল্যাটের পাশেই কিনেছেন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্লট। তবে ওই জমিতে ব্যবহার করেছেন নিজের শ্বশুরের নামে ব্যানার।

জানা যায়, গত ২০২৩ সালের মে মাসে সোনাইমুড়ীর বজরা ইউনিয়নের ছনগাঁও এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে নূর নবী শিপন ও আব্দুল গফুরের ছেলে শাহ আলম সামাজিক বনায়নের প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলেন। অবৈধভাবে গাছ কাটার বিষয়টি বনপ্রহরী সাইফুল ইসলাম ও শরিফকে জানায় ওই এলাকার সামাজিক বনায়নের সভাপতি আবুল কাশেম। ঘটনাটি জানার পর সোনাইমুড়ীর ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অবৈধভাবে গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেন।

এ ঘটনার বিষয়ে বনপ্রহরী লিপন বলেন, যে দিন গাছ কাটে ওই দিন সন্ধ্যায় সামাজিক বনায়নের সভাপতি কাশেমের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ওখানে প্রায় ২০টি গাছ কাটা হয়। তবে ঘটনাস্থলে ছিল মাত্র দুই-তিনটি গাছের অংশ ও কিছু ডালপালা। পরের দিন সামছুদ্দিন স্যার আমাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে শিপনকে বকাবকি করেন, মামলার ভয় দেন। পরে বদলকোটের বাহারসহ (নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলমের শালা) অন্য নেতাদের ধরে সবকিছু ধামাচাপা দেওয়া হয়। স্যার প্রথমে মামলার ভয় দেয় পরে ম্যানেজ হয়ে যান।

জানা যায়, গত ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে সেনবাগের কাদরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়ার নির্দেশে হিজলী গ্রামের সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫০টি গাছ কেটে ফেলেন ইউপি মেম্বার পলাশ। বিষয়টি জানতে পেরে সেনবাগ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্তদের জিম্মায় গাছ দিয়ে এসেছেন।সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা, নিয়ম-বহির্ভূতভাবে সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ, মামলার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

নোয়াখালী বন বিভাগের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই বন কর্মকর্তা নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। ওই দলের নেতাকর্মীদের কেউ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। এর কারণে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে পুরস্কার। সে পুরস্কারকে পুঁজি করে নোয়াখালী বন বিভাগে দাপট দেখাতেন। কোন সংবাদকর্মী তার বিরুদ্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করলে শুরু করে দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন। আবার কোন কোন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে দিয়েছেন মামলাও। বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পর সে পুরোদমে জাতীয়তাবাদী আদর্শের লোক হয়ে বনে গেছেন। আবারো করবেন ন্যায় স্থানীয় এমপি ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছেন এ ধরনের অনিয়ম।

নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি এ জেলায় চাকরি করছেন। এটা সত্য। তবে তার অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ওই অভিযোগে অনিয়ম ও জ্ঞাত আয় সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন উক্ত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেননি মুঠোফোনে।