ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অডিও ফাঁসের পর সুর বদলে ‘পা ধরতে’ চান কর্মচারী “বন কর্মকর্তা সামছু উদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে দুদক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পি এসের কক্ষে বসাকে কেন্দ্র করে পিয়ন সুমনকে শোকজ ৩০ দিনের মধ্যেই অন্য বিভাগে পদায়ন নদীবন্দর শাখার সাবেক কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিনের এমপির স্বাক্ষর জাল করে ১০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা অভিযোগের কেন্দ্রে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আকতার জাহান কাঁকন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক ইউসুফের অঢেল সম্পদের পাহাড় ইউএইচএফ টেন্ডারে ‘মটোরোলা ফাঁদ’ বিপাকে ডিপিডিসি ময়মনসিংহের ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইলের বিরুদ্ধে ‘ঘর বাণিজ্যের’ অভিযোগ
নারী কেলেঙ্কারিতে বরখাস্ত

৩০ দিনের মধ্যেই অন্য বিভাগে পদায়ন নদীবন্দর শাখার সাবেক কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিনের

নদীবন্দর শাখার সাবেক পরিচালক আরিফ উদ্দিন নারি কেলেঙ্কারি, আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অর্থের যোগান, ভুয়া টেন্ডার বাণিজ্য, বিদেশে অর্থ পাচার, বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে দুদকে অভিযোগের পরেও কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে

আজ বাংলাদেশের এমন একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিব তার ক্ষমতা শাকের করাতের সাথে তুলনা করলেও ভুল হবে। ডাকনাম পল্টিবাজ আরিফ, ফেসবুকীয় নাম আরিফ হাসনাত। পিতা: করিম হাজী, গ্রাম : রায়পুর, থানা: সুজানগর, পাবনা। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর এলাকায় বাড়ি হওয়াতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিআইডব্লিউটিএ অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন। বিআইডব্লিউটিএ’র এমন কোন শাখা নেই যেখানে আরিফ উদ্দিনের অনিয়মের হস্তক্ষেপ হয় নাই। এই আরিফ উদ্দিনের নামে আওয়ামী শাসনামলে একাধিক পত্রিকাতে সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। এমনকি আরিফ উদ্দিনের বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পরেও যুগ্ম পরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছিলেন পরিচালক।

সাধারণ জনগনের মনে প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ এবং সংবাদ প্রকাশের পরেও কিভাবে সে পদোন্নতি পায়? বিচার হীনতার এই সুযোগে সরকারি দপ্তরগুলোতে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। যার প্রভাব পড়ছে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে। গত ১৫ বছর সাবেক স্বৈরশাসকের বিশেষ সুবিধা দেওয়া দোসররা এখন রাতারাতি ভোল পাল্টিয়ে একটি বিশেষ দলের সাচ্চা কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রমানের চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক ভোল পাল্টানো কর্মকর্তাদের মধ্যে এ, কে,এম আরিফ উদ্দিন ও তাদের মধ্যে অন্যতম। সে নিজেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপির সংগঠনর ছাত্রনেতা পরিচয় দিয়ে দৈনিক একটি জাতীয় পত্রিকায় টাকার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ করেন যা অনেকেই জানেন। তাছাড়াও এ, কে, এম, আরিফ উদ্দিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ১ লা সেপ্টেম্বর ২০২৪”দুর্নীতির রাজা বিআইডব্লিউটিএ’র আরিফ” শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তারই সুত্র ধরে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক নুর হাকিম এবং রিপোর্টার মোঃ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে উকিল নোটিস পাঠায়। কর্তৃপক্ষ আরিফের উকিল নোটিসের জবাব দিলেও কোন এক অদৃশ্য কারনে ফিরতি জবাব এখনও দিতে পারেননি তিনি। আর এতেই প্রমানিত হয় তিনি ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমেই অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন মিডিয়ায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর অভিযোগও জমা পড়েছে। তার পরও কোন এক অদৃশ্য কারনে নিরব ভূমিকা পালন করছে কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

২০২৪ অভ্যুল্থানের পরে অনুসন্ধানে তার অঢেল সম্পদের উৎস সম্পর্কে মন্তব্য জানতে মতিঝিলে অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ে মুখোমুখি হলে তিনি নিজেকে বিএনপির সাচ্চা কর্মী হিসেবে দাবি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চেষ্টা করেছিলেন। অথচ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে সে গত ১৭ মার্চ ২০২২ লিখেছেন জাতীয় শিশু দিবস ২০২২- এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মদিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা, সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অভিযোগ শতভাগ আওয়ামীলীগকে কেউ মনে প্রাণে ধারণ না করলে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা লিখা সম্ভবনা বা লিখেন না। এছাড়াও সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার একাধিক ছবিও তার প্রমাণ বহন করে।

আরিফ উদ্দিন ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হলেও আওয়ামীলীগ আমলে কট্টর আওয়ামীলীগার বনে যান। যার ফলে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পল্টিবাজ আরিফ নামেই ডাকেন।

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছিল তার দারুন সখ্যতা। আরিফ উদ্দিন যতবার শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছেন ততবারই নিজের ফেসবুকে সেই ছবি প্রচার করে নিজের দাপট দেখাতেন। আরিফ উদ্দিনের ফেসবুকে পোস্ট করা এমন অনেক ছবি এসেছে আমাদের প্রতিবেদকের হাতে। শেখ হাসিনার জন্মদিনে তুরাগ নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করে একদিকে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে নিজেকে বেশি পরিচিত করে তোলেন, অন্যদিকে নিজে পকেটস্থ করেন সরকারি তহবিলের কোটি কোটি টাকা। শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের নামে বিআইডব্লিউটিএ’র স্টেট হোল্ডার ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আরো অন্তত কোটি টাকা পকেটস্থ করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সুজানগরের রায়পুর হলেও স্ত্রী শামীমা দীবা, ছেলে সাদ ও মেয়ে আরিন সবাই দেশের বাইরে বসবাসরত। এর মধ্যে তার স্ত্রী প্রায়ই দেশে যাতায়াতের মধ্যে থাকেন জানা যায়। এ কে এম আরিফ উদ্দিন বড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের নামে অন্তত ৫০ কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন মর্মে অভিযোগ আছে। এছাড়াও এ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সকে না জানিয়ে নদীর সীমানা পিলার স্থাপন ও স্থানান্তর, নারায়ণগঞ্জের পাগলায় চায়না কোম্পানির দু’টি জাহাজ নিলামে দেয়া, গাবতলীতে ১৭টি ট্রাক নিলামে দেয়া, নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা,

মালিকানাধীন জমি সরকারি বলে অন্যত্র লিজ দেয়া, বন বিভাগের জমি বিক্রি করা, কয়েক ব্যক্তির কাছ থেকে চার কোটি টাকা ঘুষ নেয়া, পুরান ঢাকার ইসলামবাগে ১৮টি বৈধভবন মালিকের প্রতিপক্ষ লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সেসই ভবনগুলো ভাঙা, সদরঘাটে মসজিদ ভাঙা, লঞ্চের মাস্টারকে মারধর ও পিকনিকের লঞ্চে আর্মি অফিসার ও সচিবকে লাঞ্চিত করাসহ ব্যাপক অপকর্ম করেছেন।

আওয়ামীলীগ সরকার পতনের সাথে সাথে আরিফ উদ্দিনের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী পল্টি দিয়ে সাচ্চা বিএনপি নেতা বনে যাওয়ার চেষ্টা থেমে নেই তার। জানা যাচ্ছে এবার তিনি আরো বেপরোয়া কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। কাউকে তোয়াক্কা করছেন না। ধার ধারছেননা কোন নিয়ম কানুনের। আরিফ উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা নদী বন্দরে কর্মরত থাকাকালীন নিরীহদের উচ্ছেদ করলেও প্রভাবশালীদের ধারে কাছেও যাননি। কথায় কথায় মানুষের শরীরে হাত তুলেছেন। গত সৈরশাষক আমলে তার কথামতো কাজ না করলে মালিকানাধীন বৈধ ভবনও নিমিষের মধ্যে গুঁড়িয়ে দিতে দ্বিধা করেননি। আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভবন উচ্ছেদ না করাসহ নানা অপকর্মের কারণে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে কর্ম থাকাকালীন সময়ে ২২টি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে চার কোটি টাকা কন্ট্রাক্ট নিয়ে মদনগঞ্জ ট্রলার ঘাটের পাশে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে মাহফুজুল ইসলামের আলিনা ডকইয়ার্ড ও শাকিলদের মুন্সি ডকইয়ার্ড অবৈধভাবে উচ্ছেদ করে কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডকে জমি বুঝিয়ে দেন আরিফ উদ্দিন। এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে রিট করেন মাহফুজুল ইসলাম। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আরিফ উদ্দিন মীমাংসাও করেন ডকইয়ার্ড মালিকদের সাথে। এতে মধ্যস্থতা করেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার তৎকালীন ওসি আবুল কালাম।

আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ডেক ইঞ্জিন পার্সোনেল ট্রেনিং সেন্টারের (ডিইপিটিসি) বহু গাছ কেটে আরেক ডকইয়ার্ড মালিকের কাছে জমি বুঝিয়ে দিলে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এখানেই থেমে নেই আরিফের কুকর্ম, জানা গেছে কাঁচপুরে নদী তীরে বালু ভরাটের কাজে সহায়তার অভিযোগে মামলা হলে তাকে শোকজ করেন বিআইডব্লিউটিএর তখনকার চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক। বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মদনগঞ্জ, কাঁচপুর, ঢাকেশ্বরী, রূপগঞ্জ এলাকায় মানববন্ধন করে হাজারো মানুষ। ডকইয়ার্ড মালিক মাছুম, আবুল কালাম বসু, মাহফুজুল ইসলাম ও শাকিলসহ অনেক ভুক্তভোগী আরিফের অপকর্মের শিকার হয়ে পথে বসেছেন।

ঢাকা নদীবন্দর কর্মকর্তা থাকাকালীন রাজধানীর লালবাগের পূর্ব ইসলামবাগ এলাকায় প্রায় ১৮টি বৈধভবন উচ্ছেদ করেন আরিফ উদ্দিন। এসব ভবন ভাঙার আগে বিদ্যুৎ কিংবা গ্যাসলাইন সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করেননি। এমনকি ভবনে বসবাসকারীদের নামারও সুযোগ দেননি। এসব ভবন ভাঙার সময় প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকের বিল্ডিং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভেঙে ফেলা হয়েছে এ, কে, এম আরিফ উদ্দিন চাঁদা না দেওয়ার কারণে।

২০১৮ সালের ৫ আগস্ট সদরঘাটে বায়তুল নাজাত মসজিদ ও মাদরাসা ভাঙা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটান আরিফ। এ সময় পাঁচজন আহত হয়। মসজিদের দুইটি দোকান ও মাসে ৪০ হাজার টাকা দাবি করলে তা দিতে চাননি মসজিদ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। পরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি ও লালবাগ জোনের ডিসির নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরের দিন মন্ত্রীর নির্দেশে সংস্কার করে দেয়া হয় মসজিদটি। মূলত: সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন তার টাকায় কেনা মন্ত্রী। এই দুই মন্ত্রীর কেউই আরিফের বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেননি।।

সদরঘাট থেকে একটি সংগঠন দুইটি লঞ্চ নিয়ে চাঁদপুরের দিকে পিকনিকে যাওয়ার আগে পোর্ট অফিসার আরিফ হানা দেয় লঞ্চে। এ সময় আর্মি অফিসার, সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে লঞ্চ মাস্টারকে মারধরের পর লঞ্চের ঝাড়ু দিয়ে পোর্ট অফিসারকে পিটায় যাত্রীরা। কিন্তু আরিফ উদ্দিন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ায় মন্ত্রণালয় বা বিআইডব্লিউটিএ থেকে কোনরকম পদক্ষেপ নেয়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান:

গত ২৭ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করা হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য প্রমান এসেছে। এর আগে আরিফের বিরুদ্ধে উপ-পরিচালক মো: হাফিজুল ইসলাম (অনু ও তদন্ত-২) টিমের পক্ষ থেকে পরিচালক (প্রশাসন) বিআইডব্লিউটিএ বরাবরে এক পত্রে এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাত, যুগ্ম পরিচালক, বন্দর ও পরিবহন বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা কর্তৃক নানাবিধ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সুষ্ঠ অনুসন্ধানের জন্য মাঠে নামে।

দুদকের চাহিদা পত্রে যে সমস্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে তা হলো বিআইডব্লিউটিএ আওতাধীন নারায়নগঞ্জ পোর্ট হইতে ১/১/১৯-৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সদরঘাট পোর্ট হতে ১/১/২০২০-৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক খাতের হিসেবের বিবরনী এ ছাড়াও জনাব এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাত যুগ্ম পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ এর ব্যক্তিগত নথি, উত্তোলিত বেতন ভাতার বিবরন (শুরু হইতে জুন/২৩ সময় পর্যন্ত) দায় দায়িত্ব সম্পর্কীত অফিস আদেশ সমূহ তার নিজ স্ত্রী/সন্তান/ভাই গনের নামে ব্যবসা/শেয়ার পরিচালনায় আবেদন এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সমুদয় রেকর্ডপত্র।

এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন ঢাকার ৩০১ এলিফ্যান্ট রোডে তার স্ত্রী শামীমার নামে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ী, বারিধারা বসুন্ধরার সি ব্লকে প্রসাদতম ফ্ল্যাটে বসবাস করে, পাশে ১টি ফ্ল্যাট ক্রয় করে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এছাড়াও তার নামে ও তার পরিবারের নামে পাবনাতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি, সুজানগর পাবনাতে রয়েছে অঢেল সম্পদ। পূর্বাচলে প্লট, বসুন্ধরা অংশীদারিত্বে ১টি বিল্ডিং এর কাজ চলমান। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর শাজাহান খান নৌপরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে আর পেছন ফিরে তাকানো লাগেনি আরিফ উদ্দিনের। একটানা বন্দর ও পরিবহন বিভাগে চাকরী করে আসছেন।

। ছেলে আমেরিকা এবং মেয়েকে লন্ডনে পড়াশোনা করাচ্ছেন আরিফ উদ্দিন।

এ.কে.এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগসংবলিত ভিডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয় যা সংস্থাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন । যে কারণে

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০-এর বিধি ৩৫ (খ) ও (ঙ) লঙ্ঘনের কারণে বিধি ৪১(১) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে গত ২৩/০৭/২০২৬ ইং এ.কে.এম আরিফ উদ্দিনকে একই পদে ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকাতে বদলি পূর্বক পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর শাখার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিশ কোটি টাকার বিনিময়ে কে কে এম আরিফ উদ্দিন অন্য বিভাগে পদায়ন পেয়েছে। কত তারিখে কার মাধ্যমে এই বিশ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এ ব্যাপারে তারা কোন কথা বলতে রাজি না। তারা আরো বলেন আপনার সাংবাদিক তথ্য উদঘাটন করা কর্তৃপক্ষ ও আপনাদের দায়িত্ব।

সমাজের বিশিষ্টজনদের ধারণা একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশ অর্থ পাচার, সংস্থা থেকে ভুয়া বিল ভাউচারসহ বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ লোপাট, দুদকে অভিযোগ ও নারি কেলেঙ্কারি সাথে জড়িয়ে পড়ার পরেও এক মাসের মধ্যে কিভাবে তাকে পুনরায় পদায়ন করা হয়। সমাজের বিশিষ্টজনদের দাবি এত অনিয়মের পরেও একজন সরকারি কর্মকর্তা আইনের ধারা উপ-ধারার মাধ্যমে খালাস পেয়ে যাই তাহলে কোন সরকারি দপ্তর থেকেই দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

নারি কেলেঙ্কারির কারণে বরখাস্ত, অন্য বিভাগে পদায়ন, বিদেশ অর্থ পাচার ও দুদকে অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য ক্রয় ও বিক্রয় শাখার বর্তমান পরিচালক এ.কে.এম আরিফ উদ্দিনের মুঠোফোন একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি, কারণ তিনি ফোন ধরেন নাই।

বিআইডব্লিউটিএ নদী বন্দর শাখার সাবেক পরিচালক এ.কে.এম আরিফ উদ্দিনের নারী কেলেঙ্কারির কারণে বরখাস্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পদায়ন সম্পর্কে জানতে বিআইডব্লিউটিএ’র (পরিচালক প্রশাসন) মোঃ শাহেদ রেজার সাথে অফিসে দেখা করলে তিনি বলেন, আরিফ সাহেবের নারি কেলেঙ্কারির বিষয়টা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায় এবং তিরস্কার দন্ডে দণ্ডিত করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অডিও ফাঁসের পর সুর বদলে ‘পা ধরতে’ চান কর্মচারী

নারী কেলেঙ্কারিতে বরখাস্ত

৩০ দিনের মধ্যেই অন্য বিভাগে পদায়ন নদীবন্দর শাখার সাবেক কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিনের

আপডেট সময় ০২:০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

নদীবন্দর শাখার সাবেক পরিচালক আরিফ উদ্দিন নারি কেলেঙ্কারি, আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অর্থের যোগান, ভুয়া টেন্ডার বাণিজ্য, বিদেশে অর্থ পাচার, বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে দুদকে অভিযোগের পরেও কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে

আজ বাংলাদেশের এমন একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিব তার ক্ষমতা শাকের করাতের সাথে তুলনা করলেও ভুল হবে। ডাকনাম পল্টিবাজ আরিফ, ফেসবুকীয় নাম আরিফ হাসনাত। পিতা: করিম হাজী, গ্রাম : রায়পুর, থানা: সুজানগর, পাবনা। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর এলাকায় বাড়ি হওয়াতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিআইডব্লিউটিএ অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন। বিআইডব্লিউটিএ’র এমন কোন শাখা নেই যেখানে আরিফ উদ্দিনের অনিয়মের হস্তক্ষেপ হয় নাই। এই আরিফ উদ্দিনের নামে আওয়ামী শাসনামলে একাধিক পত্রিকাতে সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। এমনকি আরিফ উদ্দিনের বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পরেও যুগ্ম পরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছিলেন পরিচালক।

সাধারণ জনগনের মনে প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ এবং সংবাদ প্রকাশের পরেও কিভাবে সে পদোন্নতি পায়? বিচার হীনতার এই সুযোগে সরকারি দপ্তরগুলোতে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। যার প্রভাব পড়ছে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে। গত ১৫ বছর সাবেক স্বৈরশাসকের বিশেষ সুবিধা দেওয়া দোসররা এখন রাতারাতি ভোল পাল্টিয়ে একটি বিশেষ দলের সাচ্চা কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রমানের চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক ভোল পাল্টানো কর্মকর্তাদের মধ্যে এ, কে,এম আরিফ উদ্দিন ও তাদের মধ্যে অন্যতম। সে নিজেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপির সংগঠনর ছাত্রনেতা পরিচয় দিয়ে দৈনিক একটি জাতীয় পত্রিকায় টাকার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ করেন যা অনেকেই জানেন। তাছাড়াও এ, কে, এম, আরিফ উদ্দিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ১ লা সেপ্টেম্বর ২০২৪”দুর্নীতির রাজা বিআইডব্লিউটিএ’র আরিফ” শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তারই সুত্র ধরে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক নুর হাকিম এবং রিপোর্টার মোঃ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে উকিল নোটিস পাঠায়। কর্তৃপক্ষ আরিফের উকিল নোটিসের জবাব দিলেও কোন এক অদৃশ্য কারনে ফিরতি জবাব এখনও দিতে পারেননি তিনি। আর এতেই প্রমানিত হয় তিনি ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমেই অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন মিডিয়ায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর অভিযোগও জমা পড়েছে। তার পরও কোন এক অদৃশ্য কারনে নিরব ভূমিকা পালন করছে কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

২০২৪ অভ্যুল্থানের পরে অনুসন্ধানে তার অঢেল সম্পদের উৎস সম্পর্কে মন্তব্য জানতে মতিঝিলে অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ে মুখোমুখি হলে তিনি নিজেকে বিএনপির সাচ্চা কর্মী হিসেবে দাবি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চেষ্টা করেছিলেন। অথচ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে সে গত ১৭ মার্চ ২০২২ লিখেছেন জাতীয় শিশু দিবস ২০২২- এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মদিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা, সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অভিযোগ শতভাগ আওয়ামীলীগকে কেউ মনে প্রাণে ধারণ না করলে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা লিখা সম্ভবনা বা লিখেন না। এছাড়াও সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার একাধিক ছবিও তার প্রমাণ বহন করে।

আরিফ উদ্দিন ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হলেও আওয়ামীলীগ আমলে কট্টর আওয়ামীলীগার বনে যান। যার ফলে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পল্টিবাজ আরিফ নামেই ডাকেন।

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছিল তার দারুন সখ্যতা। আরিফ উদ্দিন যতবার শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছেন ততবারই নিজের ফেসবুকে সেই ছবি প্রচার করে নিজের দাপট দেখাতেন। আরিফ উদ্দিনের ফেসবুকে পোস্ট করা এমন অনেক ছবি এসেছে আমাদের প্রতিবেদকের হাতে। শেখ হাসিনার জন্মদিনে তুরাগ নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করে একদিকে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে নিজেকে বেশি পরিচিত করে তোলেন, অন্যদিকে নিজে পকেটস্থ করেন সরকারি তহবিলের কোটি কোটি টাকা। শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের নামে বিআইডব্লিউটিএ’র স্টেট হোল্ডার ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আরো অন্তত কোটি টাকা পকেটস্থ করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সুজানগরের রায়পুর হলেও স্ত্রী শামীমা দীবা, ছেলে সাদ ও মেয়ে আরিন সবাই দেশের বাইরে বসবাসরত। এর মধ্যে তার স্ত্রী প্রায়ই দেশে যাতায়াতের মধ্যে থাকেন জানা যায়। এ কে এম আরিফ উদ্দিন বড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের নামে অন্তত ৫০ কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন মর্মে অভিযোগ আছে। এছাড়াও এ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সকে না জানিয়ে নদীর সীমানা পিলার স্থাপন ও স্থানান্তর, নারায়ণগঞ্জের পাগলায় চায়না কোম্পানির দু’টি জাহাজ নিলামে দেয়া, গাবতলীতে ১৭টি ট্রাক নিলামে দেয়া, নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা,

মালিকানাধীন জমি সরকারি বলে অন্যত্র লিজ দেয়া, বন বিভাগের জমি বিক্রি করা, কয়েক ব্যক্তির কাছ থেকে চার কোটি টাকা ঘুষ নেয়া, পুরান ঢাকার ইসলামবাগে ১৮টি বৈধভবন মালিকের প্রতিপক্ষ লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সেসই ভবনগুলো ভাঙা, সদরঘাটে মসজিদ ভাঙা, লঞ্চের মাস্টারকে মারধর ও পিকনিকের লঞ্চে আর্মি অফিসার ও সচিবকে লাঞ্চিত করাসহ ব্যাপক অপকর্ম করেছেন।

আওয়ামীলীগ সরকার পতনের সাথে সাথে আরিফ উদ্দিনের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী পল্টি দিয়ে সাচ্চা বিএনপি নেতা বনে যাওয়ার চেষ্টা থেমে নেই তার। জানা যাচ্ছে এবার তিনি আরো বেপরোয়া কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। কাউকে তোয়াক্কা করছেন না। ধার ধারছেননা কোন নিয়ম কানুনের। আরিফ উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা নদী বন্দরে কর্মরত থাকাকালীন নিরীহদের উচ্ছেদ করলেও প্রভাবশালীদের ধারে কাছেও যাননি। কথায় কথায় মানুষের শরীরে হাত তুলেছেন। গত সৈরশাষক আমলে তার কথামতো কাজ না করলে মালিকানাধীন বৈধ ভবনও নিমিষের মধ্যে গুঁড়িয়ে দিতে দ্বিধা করেননি। আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভবন উচ্ছেদ না করাসহ নানা অপকর্মের কারণে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে কর্ম থাকাকালীন সময়ে ২২টি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে চার কোটি টাকা কন্ট্রাক্ট নিয়ে মদনগঞ্জ ট্রলার ঘাটের পাশে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে মাহফুজুল ইসলামের আলিনা ডকইয়ার্ড ও শাকিলদের মুন্সি ডকইয়ার্ড অবৈধভাবে উচ্ছেদ করে কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডকে জমি বুঝিয়ে দেন আরিফ উদ্দিন। এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে রিট করেন মাহফুজুল ইসলাম। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আরিফ উদ্দিন মীমাংসাও করেন ডকইয়ার্ড মালিকদের সাথে। এতে মধ্যস্থতা করেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার তৎকালীন ওসি আবুল কালাম।

আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ডেক ইঞ্জিন পার্সোনেল ট্রেনিং সেন্টারের (ডিইপিটিসি) বহু গাছ কেটে আরেক ডকইয়ার্ড মালিকের কাছে জমি বুঝিয়ে দিলে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এখানেই থেমে নেই আরিফের কুকর্ম, জানা গেছে কাঁচপুরে নদী তীরে বালু ভরাটের কাজে সহায়তার অভিযোগে মামলা হলে তাকে শোকজ করেন বিআইডব্লিউটিএর তখনকার চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক। বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মদনগঞ্জ, কাঁচপুর, ঢাকেশ্বরী, রূপগঞ্জ এলাকায় মানববন্ধন করে হাজারো মানুষ। ডকইয়ার্ড মালিক মাছুম, আবুল কালাম বসু, মাহফুজুল ইসলাম ও শাকিলসহ অনেক ভুক্তভোগী আরিফের অপকর্মের শিকার হয়ে পথে বসেছেন।

ঢাকা নদীবন্দর কর্মকর্তা থাকাকালীন রাজধানীর লালবাগের পূর্ব ইসলামবাগ এলাকায় প্রায় ১৮টি বৈধভবন উচ্ছেদ করেন আরিফ উদ্দিন। এসব ভবন ভাঙার আগে বিদ্যুৎ কিংবা গ্যাসলাইন সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করেননি। এমনকি ভবনে বসবাসকারীদের নামারও সুযোগ দেননি। এসব ভবন ভাঙার সময় প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকের বিল্ডিং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভেঙে ফেলা হয়েছে এ, কে, এম আরিফ উদ্দিন চাঁদা না দেওয়ার কারণে।

২০১৮ সালের ৫ আগস্ট সদরঘাটে বায়তুল নাজাত মসজিদ ও মাদরাসা ভাঙা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটান আরিফ। এ সময় পাঁচজন আহত হয়। মসজিদের দুইটি দোকান ও মাসে ৪০ হাজার টাকা দাবি করলে তা দিতে চাননি মসজিদ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। পরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি ও লালবাগ জোনের ডিসির নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরের দিন মন্ত্রীর নির্দেশে সংস্কার করে দেয়া হয় মসজিদটি। মূলত: সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন তার টাকায় কেনা মন্ত্রী। এই দুই মন্ত্রীর কেউই আরিফের বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেননি।।

সদরঘাট থেকে একটি সংগঠন দুইটি লঞ্চ নিয়ে চাঁদপুরের দিকে পিকনিকে যাওয়ার আগে পোর্ট অফিসার আরিফ হানা দেয় লঞ্চে। এ সময় আর্মি অফিসার, সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে লঞ্চ মাস্টারকে মারধরের পর লঞ্চের ঝাড়ু দিয়ে পোর্ট অফিসারকে পিটায় যাত্রীরা। কিন্তু আরিফ উদ্দিন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ায় মন্ত্রণালয় বা বিআইডব্লিউটিএ থেকে কোনরকম পদক্ষেপ নেয়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান:

গত ২৭ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করা হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য প্রমান এসেছে। এর আগে আরিফের বিরুদ্ধে উপ-পরিচালক মো: হাফিজুল ইসলাম (অনু ও তদন্ত-২) টিমের পক্ষ থেকে পরিচালক (প্রশাসন) বিআইডব্লিউটিএ বরাবরে এক পত্রে এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাত, যুগ্ম পরিচালক, বন্দর ও পরিবহন বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা কর্তৃক নানাবিধ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সুষ্ঠ অনুসন্ধানের জন্য মাঠে নামে।

দুদকের চাহিদা পত্রে যে সমস্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে তা হলো বিআইডব্লিউটিএ আওতাধীন নারায়নগঞ্জ পোর্ট হইতে ১/১/১৯-৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সদরঘাট পোর্ট হতে ১/১/২০২০-৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক খাতের হিসেবের বিবরনী এ ছাড়াও জনাব এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাত যুগ্ম পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ এর ব্যক্তিগত নথি, উত্তোলিত বেতন ভাতার বিবরন (শুরু হইতে জুন/২৩ সময় পর্যন্ত) দায় দায়িত্ব সম্পর্কীত অফিস আদেশ সমূহ তার নিজ স্ত্রী/সন্তান/ভাই গনের নামে ব্যবসা/শেয়ার পরিচালনায় আবেদন এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সমুদয় রেকর্ডপত্র।

এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন ঢাকার ৩০১ এলিফ্যান্ট রোডে তার স্ত্রী শামীমার নামে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ী, বারিধারা বসুন্ধরার সি ব্লকে প্রসাদতম ফ্ল্যাটে বসবাস করে, পাশে ১টি ফ্ল্যাট ক্রয় করে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এছাড়াও তার নামে ও তার পরিবারের নামে পাবনাতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি, সুজানগর পাবনাতে রয়েছে অঢেল সম্পদ। পূর্বাচলে প্লট, বসুন্ধরা অংশীদারিত্বে ১টি বিল্ডিং এর কাজ চলমান। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর শাজাহান খান নৌপরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে আর পেছন ফিরে তাকানো লাগেনি আরিফ উদ্দিনের। একটানা বন্দর ও পরিবহন বিভাগে চাকরী করে আসছেন।

। ছেলে আমেরিকা এবং মেয়েকে লন্ডনে পড়াশোনা করাচ্ছেন আরিফ উদ্দিন।

এ.কে.এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগসংবলিত ভিডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয় যা সংস্থাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন । যে কারণে

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০-এর বিধি ৩৫ (খ) ও (ঙ) লঙ্ঘনের কারণে বিধি ৪১(১) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে গত ২৩/০৭/২০২৬ ইং এ.কে.এম আরিফ উদ্দিনকে একই পদে ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকাতে বদলি পূর্বক পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর শাখার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিশ কোটি টাকার বিনিময়ে কে কে এম আরিফ উদ্দিন অন্য বিভাগে পদায়ন পেয়েছে। কত তারিখে কার মাধ্যমে এই বিশ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এ ব্যাপারে তারা কোন কথা বলতে রাজি না। তারা আরো বলেন আপনার সাংবাদিক তথ্য উদঘাটন করা কর্তৃপক্ষ ও আপনাদের দায়িত্ব।

সমাজের বিশিষ্টজনদের ধারণা একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশ অর্থ পাচার, সংস্থা থেকে ভুয়া বিল ভাউচারসহ বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ লোপাট, দুদকে অভিযোগ ও নারি কেলেঙ্কারি সাথে জড়িয়ে পড়ার পরেও এক মাসের মধ্যে কিভাবে তাকে পুনরায় পদায়ন করা হয়। সমাজের বিশিষ্টজনদের দাবি এত অনিয়মের পরেও একজন সরকারি কর্মকর্তা আইনের ধারা উপ-ধারার মাধ্যমে খালাস পেয়ে যাই তাহলে কোন সরকারি দপ্তর থেকেই দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

নারি কেলেঙ্কারির কারণে বরখাস্ত, অন্য বিভাগে পদায়ন, বিদেশ অর্থ পাচার ও দুদকে অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য ক্রয় ও বিক্রয় শাখার বর্তমান পরিচালক এ.কে.এম আরিফ উদ্দিনের মুঠোফোন একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি, কারণ তিনি ফোন ধরেন নাই।

বিআইডব্লিউটিএ নদী বন্দর শাখার সাবেক পরিচালক এ.কে.এম আরিফ উদ্দিনের নারী কেলেঙ্কারির কারণে বরখাস্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পদায়ন সম্পর্কে জানতে বিআইডব্লিউটিএ’র (পরিচালক প্রশাসন) মোঃ শাহেদ রেজার সাথে অফিসে দেখা করলে তিনি বলেন, আরিফ সাহেবের নারি কেলেঙ্কারির বিষয়টা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায় এবং তিরস্কার দন্ডে দণ্ডিত করা হয়।