ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি ‘এই লুকটাও আমার জীবনের একটা গল্প’, ক্যানসার আক্রান্ত সামিয়া আফরিন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগে চীনের প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম ও স্টেনোগ্রাফার শহীদুলকে ঘিরে বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহিদ-আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে: জাহিদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ বড়লেখায় অবৈধভাবে টিলা কাটার সময় এক্সকাভেটর আটক ইরানি হামলায় ৪১৭ মার্কিন সেনা আহত, বহু যুদ্ধবিমান ধ্বংস শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ঋণখেলাপি হওয়ায় পদ হারালেন রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল

কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণে সড়ক বিভাগের কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার বালুতোপা, কনেশতলা, সুয়াগাজী, বিজয়পুর ও আদিনামূড়া এলাকায় চলমান জেড-১০২৪ নম্বর আঞ্চলিক সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজের শুরুতেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে নকশা অনুযায়ী রাস্তার প্রস্থ নিশ্চিত না করা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, সঠিকভাবে রোলার কম্পেকশন না করা এবং জনগণের চলাচলের বিষয়টি উপেক্ষা করে পুরো সড়ক একযোগে খনন করায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ও চরম জনদূর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প অনুযায়ী সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রাস্তার উভয় পাশ থেকে কম মাটি কেটে কার্যকর প্রস্থ কমিয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে গভীরভাবে মাটি কেটে রাখা হয়েছে। অনেক স্থানে চলাচলযোগ্য অংশ নির্ধারিত প্রস্থের তুলনায় কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ করা হলে ভবিষ্যতে রাস্তার স্থায়িত্ব, যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকার যদি ১৮ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রস্থ যথাযথভাবে নিশ্চিত করেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে এবং সরকারি অর্থেরও অপচয় ঘটবে।

এদিকে নির্মাণকাজে আরও বেশ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাব-বেজ প্রস্তুতের সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণ খোয়া ব্যবহার না করে অতিরিক্ত মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সড়কের মাটি ও বালু যথাযথভাবে রোলার কম্পেকশন করা হচ্ছে না। ফলে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা। অভিযোগ রয়েছে, কাজের সুবিধার্থে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো সড়ক একসঙ্গে গত ৬ মাস যাবৎ খনন করে রেখেছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এক পাশের কাজ শেষ করে অন্য পাশে কাজ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে রাস্তার উভয় পাশ একযোগে কেটে রাখায় বিকল্প চলাচলের সুযোগ নেই বললেই চলে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে খননকাজ চললেও কোথাও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নির্দেশনা বা নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়নি। ফলে দিন-রাত যানবাহন ও পথচারীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ ও প্রকৌশলীদের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্পের নকশা, অনুমোদিত প্রস্থ এবং মাঠপর্যায়ের কাজ যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি সঠিক পরিমাপের মাধ্যমে ১৮ ফুট প্রস্থ নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এলাকার স্থানীয়দের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
** রাস্তার প্রকৃত অনুমোদিত প্রস্থ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
** নির্মাণকাজ নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে।
** পুনরায় পরিমাপ করে ১৮ ফুট প্রস্থ নিশ্চিত করতে হবে।
** সাব-বেজ ও অন্যান্য নির্মাণ উপকরণের গুণগত মান পরীক্ষা করতে হবে।
** সড়ক নির্মাণকাজে সঠিক রোলার কম্পেকশন নিশ্চিত করতে হবে।
** জনদুর্ভোগ কমাতে এক পাশ খোলা রেখে পর্যায়ক্রমে কাজ পরিচালনা করতে হবে।
** প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
** কাজের অগ্রগতি ও মান সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে।

এই রাস্তার কাজে অনিয়মের বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফাকে মুঠো ফোনে জানালে তিনি বলেন অনিয়মের কোন আলামত পেলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন।

স্থানীয় জনগণ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে পরের সংখ্যা আরো নতুন কিছু অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করা হবে।

 

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি

কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণে সড়ক বিভাগের কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার বালুতোপা, কনেশতলা, সুয়াগাজী, বিজয়পুর ও আদিনামূড়া এলাকায় চলমান জেড-১০২৪ নম্বর আঞ্চলিক সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজের শুরুতেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে নকশা অনুযায়ী রাস্তার প্রস্থ নিশ্চিত না করা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, সঠিকভাবে রোলার কম্পেকশন না করা এবং জনগণের চলাচলের বিষয়টি উপেক্ষা করে পুরো সড়ক একযোগে খনন করায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ও চরম জনদূর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প অনুযায়ী সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রাস্তার উভয় পাশ থেকে কম মাটি কেটে কার্যকর প্রস্থ কমিয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে গভীরভাবে মাটি কেটে রাখা হয়েছে। অনেক স্থানে চলাচলযোগ্য অংশ নির্ধারিত প্রস্থের তুলনায় কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ করা হলে ভবিষ্যতে রাস্তার স্থায়িত্ব, যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকার যদি ১৮ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রস্থ যথাযথভাবে নিশ্চিত করেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে এবং সরকারি অর্থেরও অপচয় ঘটবে।

এদিকে নির্মাণকাজে আরও বেশ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাব-বেজ প্রস্তুতের সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণ খোয়া ব্যবহার না করে অতিরিক্ত মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সড়কের মাটি ও বালু যথাযথভাবে রোলার কম্পেকশন করা হচ্ছে না। ফলে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা। অভিযোগ রয়েছে, কাজের সুবিধার্থে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো সড়ক একসঙ্গে গত ৬ মাস যাবৎ খনন করে রেখেছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এক পাশের কাজ শেষ করে অন্য পাশে কাজ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে রাস্তার উভয় পাশ একযোগে কেটে রাখায় বিকল্প চলাচলের সুযোগ নেই বললেই চলে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে খননকাজ চললেও কোথাও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নির্দেশনা বা নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়নি। ফলে দিন-রাত যানবাহন ও পথচারীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ ও প্রকৌশলীদের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্পের নকশা, অনুমোদিত প্রস্থ এবং মাঠপর্যায়ের কাজ যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি সঠিক পরিমাপের মাধ্যমে ১৮ ফুট প্রস্থ নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এলাকার স্থানীয়দের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
** রাস্তার প্রকৃত অনুমোদিত প্রস্থ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
** নির্মাণকাজ নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে।
** পুনরায় পরিমাপ করে ১৮ ফুট প্রস্থ নিশ্চিত করতে হবে।
** সাব-বেজ ও অন্যান্য নির্মাণ উপকরণের গুণগত মান পরীক্ষা করতে হবে।
** সড়ক নির্মাণকাজে সঠিক রোলার কম্পেকশন নিশ্চিত করতে হবে।
** জনদুর্ভোগ কমাতে এক পাশ খোলা রেখে পর্যায়ক্রমে কাজ পরিচালনা করতে হবে।
** প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
** কাজের অগ্রগতি ও মান সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে।

এই রাস্তার কাজে অনিয়মের বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফাকে মুঠো ফোনে জানালে তিনি বলেন অনিয়মের কোন আলামত পেলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন।

স্থানীয় জনগণ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে পরের সংখ্যা আরো নতুন কিছু অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করা হবে।