ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ-বাণিজ্য বাড়াতে চায় সিঙ্গাপুর

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সিঙ্গাপুর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অফিস কক্ষে তার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, কৃষিপণ্য রপ্তানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, বন্দর অবকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পখাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সরকার এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে কাজ করছে।

সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে আরও বেশি ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে বে-টার্মিনাল প্রকল্পকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

ডেরেক লো আরও বলেন, বে-টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়বে, ডেমারেজ বা বিলম্বজনিত খরচ কমবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সাশ্রয় নিশ্চিত হবে। এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আমদানিতে আগ্রহী। সিঙ্গাপুর তাজা পণ্যের জন্য অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের জন্য কৃষিপণ্যের একটি সম্ভাবনাময় উৎস হতে পারে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ-বাণিজ্য বাড়াতে চায় সিঙ্গাপুর

আপডেট সময় ০৬:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সিঙ্গাপুর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অফিস কক্ষে তার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, কৃষিপণ্য রপ্তানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, বন্দর অবকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পখাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সরকার এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে কাজ করছে।

সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে আরও বেশি ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে বে-টার্মিনাল প্রকল্পকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

ডেরেক লো আরও বলেন, বে-টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়বে, ডেমারেজ বা বিলম্বজনিত খরচ কমবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সাশ্রয় নিশ্চিত হবে। এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আমদানিতে আগ্রহী। সিঙ্গাপুর তাজা পণ্যের জন্য অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের জন্য কৃষিপণ্যের একটি সম্ভাবনাময় উৎস হতে পারে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।