মা-বাবাকে সাথে নিয়ে জীবনযাপন করা ৪ টি অন্যতম কারণ
১।জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মা- বাবা
২। মা- বাবার দোয়া ভাগ্য বদলায়।
৩। মা- বাবা ছাড়া সফলা পাওয়া যায়না।
৪। মা- বাবার মনে কষ্ট দিয়ে সুখ পাওয়া যায়না।
বর্তমান ব্যস্ত নগরজীবন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেকেই ধীরে ধীরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী জীবন বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় যে মা-বাবা, তা অনেকেই বুঝতে পারেন সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা-বাবাকে সাথে নিয়ে জীবনযাপন শুধু পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে না, বরং মানসিক শান্তি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করে।
মা-বাবা একজন সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক। ছোটবেলা থেকে তারা সন্তানকে ভালো-মন্দের শিক্ষা দেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে সাহস জোগান এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন মা-বাবা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, তখন তাদের পাশে থাকা সন্তানদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ পারিবারিক দূরত্ব ও মূল্যবোধের অবক্ষয়। অথচ মা-বাবাকে সাথে নিয়ে বসবাস করলে পরিবারে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পায় এবং সন্তানরাও মানবিক শিক্ষা লাভ করে। একটি পরিবারে দাদা-দাদি বা নানা-নানির উপস্থিতি শিশুদের মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মা-বাবার সাথে বসবাস করলে মানসিক চাপ কমে এবং পারিবারিক নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। জীবনের দুঃসময়ে একজন মা-বাবার দোয়া ও মানসিক সমর্থন অনেক বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে। অর্থ কিংবা সম্পদ নয়, শেষ বয়সে মা-বাবার সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে সন্তানের ভালোবাসা ও একটু সময়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও মা-বাবার সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মে মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ও তাদের সম্মান করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সফলতা ও শান্তি নিহিত।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আধুনিকতার নামে পরিবার থেকে দূরে সরে না গিয়ে মা-বাবাকে সাথে নিয়ে সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। কারণ, পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় এখনো “মা-বাবার ছায়া”।
রিয়াজ ফরাজী (ভোলা) 

























