সংবাদ শিরোনাম ::
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠক দুই মাস পর আবারও শুরু চাল বিতরণ, সুবিধা পাচ্ছে ১৭ হাজার পরিবার বরগুনায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত পানি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার লুট, কাজের আগেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন একটি ঘরের অপেক্ষায় অসহায় রাসেল মন্ডল পরিবার-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেটার স্বাধীনতা ও আস্থা বাড়াতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কে জিতবে, নির্ধারণ করবেন গ্যাব্রিয়েল-হালান্ড! শাওনের ফেসবুক আইডি উধাও মিয়ানমার সীমা‌ন্তে নজরদা‌রি বা‌ড়ানো হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি ঘরের অপেক্ষায় অসহায় রাসেল মন্ডল পরিবার-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের শিকজান গ্রামের এক প্রান্তে নীরবে বয়ে চলেছে একটি পরিবারের অসীম কষ্টের গল্প। চারদিকে মানুষ ঘরে ফিরলেও রাসেল মন্ডল পরিবারের চোখে প্রতিদিনই ভাসে অনিশ্চয়তার ভয়। মাথার ওপর নিরাপদ একটি ছাদ নেই, নেই নিশ্চিত আয়ের কোনো পথ। প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে প্রতিটি দিন যেন তাদের কাছে একেকটি কঠিন সংগ্রামের নাম।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের থাকার মতো কোনো পাকা কিংবা আধাপাকা ঘর নেই। একটি ভাঙাচোরা কুঁড়ে ঘরেই কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। বৃষ্টি নামলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর ঝড়ো বাতাস উঠলেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় পুরো পরিবারকে।
কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল মন্ডলের স্ত্রী শিল্পী খাতুন । অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমরা খুবই গরিব মানুষ। অনেক বছর ধরে কষ্ট করে বেঁচে আছি। আমার মেয়েটা প্রতিবন্ধী। তাকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটে। মাথার ওপর একটা ভালো ঘরও নেই। আপনাদের মাধ্যমে যদি সরকার বা কোনো দয়ালু মানুষ আমাদের জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে বাকি জীবন দোয়া করে যাব।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে পরিবারটি। অভাবের কারণে প্রতিবন্ধী মেয়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিয়মিত করানো সম্ভব হচ্ছে না। একটি নিরাপদ ঘরের অভাবে প্রতিদিনই অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগে কাটছে তাদের জীবন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প বা কোনো মানবিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে রাসেল মন্ডল পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। একটি ছোট্ট নিরাপদ ঘরই বদলে দিতে পারে তাদের জীবন।
একটি পরিবারের এই অসহায় আর্তনাদ হয়তো আমাদের সবার জন্যই একটি মানবিক প্রশ্ন রেখে যায়—স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কেন অপেক্ষা করতে হবে একজন অসহায় বাবা, একজন মায়ের এবং একটি প্রতিবন্ধী সন্তানের?
এখন দেখার বিষয়, এই আকুতি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় কি না। একটি মানবিক উদ্যোগই পারে রাসেল মন্ডল পরিবারের মুখে ফিরিয়ে আনতে বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া হাসি।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠক

একটি ঘরের অপেক্ষায় অসহায় রাসেল মন্ডল পরিবার-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন

আপডেট সময় ০৭:৫২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের শিকজান গ্রামের এক প্রান্তে নীরবে বয়ে চলেছে একটি পরিবারের অসীম কষ্টের গল্প। চারদিকে মানুষ ঘরে ফিরলেও রাসেল মন্ডল পরিবারের চোখে প্রতিদিনই ভাসে অনিশ্চয়তার ভয়। মাথার ওপর নিরাপদ একটি ছাদ নেই, নেই নিশ্চিত আয়ের কোনো পথ। প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে প্রতিটি দিন যেন তাদের কাছে একেকটি কঠিন সংগ্রামের নাম।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের থাকার মতো কোনো পাকা কিংবা আধাপাকা ঘর নেই। একটি ভাঙাচোরা কুঁড়ে ঘরেই কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। বৃষ্টি নামলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর ঝড়ো বাতাস উঠলেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় পুরো পরিবারকে।
কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল মন্ডলের স্ত্রী শিল্পী খাতুন । অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমরা খুবই গরিব মানুষ। অনেক বছর ধরে কষ্ট করে বেঁচে আছি। আমার মেয়েটা প্রতিবন্ধী। তাকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটে। মাথার ওপর একটা ভালো ঘরও নেই। আপনাদের মাধ্যমে যদি সরকার বা কোনো দয়ালু মানুষ আমাদের জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে বাকি জীবন দোয়া করে যাব।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে পরিবারটি। অভাবের কারণে প্রতিবন্ধী মেয়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিয়মিত করানো সম্ভব হচ্ছে না। একটি নিরাপদ ঘরের অভাবে প্রতিদিনই অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগে কাটছে তাদের জীবন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প বা কোনো মানবিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে রাসেল মন্ডল পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। একটি ছোট্ট নিরাপদ ঘরই বদলে দিতে পারে তাদের জীবন।
একটি পরিবারের এই অসহায় আর্তনাদ হয়তো আমাদের সবার জন্যই একটি মানবিক প্রশ্ন রেখে যায়—স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কেন অপেক্ষা করতে হবে একজন অসহায় বাবা, একজন মায়ের এবং একটি প্রতিবন্ধী সন্তানের?
এখন দেখার বিষয়, এই আকুতি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় কি না। একটি মানবিক উদ্যোগই পারে রাসেল মন্ডল পরিবারের মুখে ফিরিয়ে আনতে বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া হাসি।