সংবাদ শিরোনাম ::
কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অডিটের নামে অর্থ আদায়ের প্রতারণা, করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর থানায় অভিযোগের পরও প্রতিকার না পেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার আবেদন কমার্স ব্যাংকে আতাউরের পারিবারিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ আওয়ামী দোসর নবীরুলকে ঘিরে সমবায় অধিদপ্তরে দুর্নীতি ঘুষ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ডিএনসিসির সিসিটিভি ও এআই নেটওয়ার্ক এখনও সাবেক প্রশাসক এজাজের নিয়ন্ত্রণে! রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিলল একাধিক গোপন পথ হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন বিদেশি মাকড়সা কিংবা সাপ কেন আনা হচ্ছে বাংলাদেশে? এবার আনিস আলমগীর, সোমা ও পিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিডি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিলল একাধিক গোপন পথ

কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত কাঁটাতারের বেড়া কেটে একের পর এক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে তাদের অবাধ যাতায়াত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাঁটাতারের কাটা অংশ এখন শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং ইয়াবা পাচার, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। কালবেলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরেজমিনে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে মানুষের চলাচলের উপযোগী পথ তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বেড়ার নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও পুরো অংশ সরিয়ে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি ও শিশু নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অপরাধ সংঘটনের পর অনেক দুর্বৃত্ত কাঁটাতারের কাটা অংশ ব্যবহার করে দ্রুত ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন জানান, আমরা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কাটা অংশ দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। এসব পথ বন্ধ না হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যেই থাকবে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, পুরো উখিয়া-টেকনাফের মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যারা অবৈধ পথ তৈরি করছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যৌথ টহল জোরদার করা জরুরি।
উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যাতায়াতের সুযোগ থাকলে ইয়াবা পাচার, অপহরণসহ নানা অপরাধ দমন কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু বেড়া নির্মাণ করলেই হবে না, কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেই বেড়া যদি কেটে অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি করা হয়, তাহলে পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। বিষয়টি শুধু স্থানীয় নিরাপত্তার নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অবিলম্বে কাটা অংশ মেরামত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের কোনো তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও টহল আরো জোরদার করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিলল একাধিক গোপন পথ

আপডেট সময় ০১:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত কাঁটাতারের বেড়া কেটে একের পর এক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে তাদের অবাধ যাতায়াত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাঁটাতারের কাটা অংশ এখন শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং ইয়াবা পাচার, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। কালবেলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরেজমিনে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে মানুষের চলাচলের উপযোগী পথ তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বেড়ার নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও পুরো অংশ সরিয়ে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি ও শিশু নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অপরাধ সংঘটনের পর অনেক দুর্বৃত্ত কাঁটাতারের কাটা অংশ ব্যবহার করে দ্রুত ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন জানান, আমরা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কাটা অংশ দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। এসব পথ বন্ধ না হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যেই থাকবে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, পুরো উখিয়া-টেকনাফের মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যারা অবৈধ পথ তৈরি করছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যৌথ টহল জোরদার করা জরুরি।
উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যাতায়াতের সুযোগ থাকলে ইয়াবা পাচার, অপহরণসহ নানা অপরাধ দমন কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু বেড়া নির্মাণ করলেই হবে না, কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেই বেড়া যদি কেটে অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি করা হয়, তাহলে পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। বিষয়টি শুধু স্থানীয় নিরাপত্তার নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অবিলম্বে কাটা অংশ মেরামত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের কোনো তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও টহল আরো জোরদার করা হয়েছে।