আমাদের মাতৃভূমিব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ডিজিএফআই। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান তাঁরা। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডিজিএফআই প্রযোজিত’ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিতে নিজেদের লোক নিয়োগ করা শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকে আগে থেকে কর্মরত পছন্দের কর্মীদের বসানো হয় বড় পদে।
তখন দুটি বিষয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো, ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কয়েকটি ব্যাংককে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়া।
একপর্যায়ে সাইফুল আলম আরাস্তু খানের বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন (আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’ এরপরই পদত্যাগ করেন আরাস্তু খান।
আরাস্তু খানই এ বিষয়ে আমাদের মাতৃভূমির সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দখলের ভেতরের গল্প আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন ব্যাংকটির তৎকালীন দুজন পরিচালক, দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া এক ব্যক্তি। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গেও কথা বলেছে আমাদের মাতৃভূমি ।
এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছিল ‘“এই, আপনারা কারা”, এটি একআরাস্তুর বাসায় গিয়ে এস আলম বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন’
ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ডিজিএফআই। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান তাঁরা। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডিজিএফআই প্রযোজিত’ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিতে নিজেদের লোক নিয়োগ করা শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকে আগে থেকে কর্মরত পছন্দের কর্মীদের বসানো হয় বড় পদে।
তখন দুটি বিষয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো, ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কয়েকটি ব্যাংককে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়া।
একপর্যায়ে সাইফুল আলম আরাস্তু খানের বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন (আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’ এরপরই পদত্যাগ করেন আরাস্তু খান।
আরাস্তু খানই এ বিষয়ে আমাদের মাতৃভূমির সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দখলের ভেতরের গল্প আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন ব্যাংকটির তৎকালীন দুজন পরিচালক, দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া এক ব্যক্তি। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গেও কথা বলেছে আমাদের মাতৃভূমি ।
এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছিল ‘“এই, আপনারা কারা”, এটি একটি ব্যাংক দখলের গল্প’ শিরোনামে। তাতে তুলে ধরা হয় যে কীভাবে এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের বিষয়টি ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রধান খবর করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে “শান্তিপূর্ণ” বদল’। শান্তিপূর্ণ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কারণ, সেটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের বক্তব্য। এই ‘শান্তিপূর্ণ’ যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তা-ই বলা হয় উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের খবর পেয়ে সেদিন এই প্রতিবেদককে আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছিল র্যাডিসনে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা পথ আটকান। পরিচয় দেওয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভার খবর সংগ্রহে যাওয়ার কথা বলা হলে নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছিলেন, কোনো সাংবাদিকের সেখানে যাওয়ার অনুমোদন নেই।
এই বৈঠক যে ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলেন না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এ বিষয়ে তখন ‘ভয়ে’ কোনো তথ্য দেননি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই আমাদের মাতৃভূমি কথা বলেছিল। অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তারাও শুধু ইসলামী ব্যাংকে বদলের খবর প্রকাশ করেছিল।
ডিজিএফআই ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। তখন পত্রিকার প্রথম সংস্করণ ছাপার প্রস্তুতি চলছিল। তাঁরা ছাপাখানায় প্রবেশ করে পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায় অবস্থান করেন। ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে, যেখানে আমাদের মাতৃভূমির সম্পাদক মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও তিনি দেখা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ডিজিএফআই সদস্যরা ছাপাখানা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেক বিলম্বে সেদিন ছাপা শুরু হয়।
টাকা ফেরত চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অস্বীকৃতির পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আরাস্তু খানের বাসায় যান সাইফুল আলম। তিনি তাঁকে (আরাস্তু খান) ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপরই ২৬ এপ্রিল (২০১৮) আরাস্তু খান পদত্যাগ করেন।
পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পরের দিন আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে মালিকানা বদলের নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য বলা হয়। এই প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংকের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে এস আলমের ভূমিকা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরের দিন (৭ জানুয়ারি ২০১৭) আমাদের মাতৃভূমির প্রথম পাতায় ‘জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়।
আমাদের মাতৃভূমি এরপর নিয়মিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আমাদের মাতৃভূমির প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’। এই প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্য জানতে আমাদের মাতৃভূমির পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন, তখন এসব কাজে ডিজিএফআইয়ের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। যদি জড়িত থেকেও থাকেন, তাঁরা এখন কেউ দায়িত্বরত নেই।

২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি র্যাডিসন হোটেলে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এস আলম গ্রুপ সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে তিন বছরের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি দেড় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর আরাস্তু খানকে কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে সরকার। সে সময় ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম। চেয়ারম্যান পদে আরাস্তু খানকেই রাখা হয়। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বছরের শেষের দিকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব নেন।
এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শুরুর দিকে সরাসরি ঋণ নেয়নি। তবে ইসলামী ব্যাংক তাদের (এস আলম) মালিকানায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা জমা রাখে। এই ব্যাংকগুলো সংকটে ছিল। সেখানে টাকা রাখা কোনো ভালো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ছিল না।
সেই আমানতের মেয়াদ ছিল তিন মাস। তবে বছর পার হলেও টাকা ফেরত পায়নি ইসলামী ব্যাংক। এ নিয়ে আরাস্তু খানের সঙ্গে সাইফুল আলমের কথা-কাটাকাটি হয়।আরাস্তুর বাসায় গিয়ে এস আলম বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন’
ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ডিজিএফআই। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান তাঁরা। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডিজিএফআই প্রযোজিত’ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিতে নিজেদের লোক নিয়োগ করা শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকে আগে থেকে কর্মরত পছন্দের কর্মীদের বসানো হয় বড় পদে।
তখন দুটি বিষয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো, ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কয়েকটি ব্যাংককে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়া।
একপর্যায়ে সাইফুল আলম আরাস্তু খানের বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন (আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’ এরপরই পদত্যাগ করেন আরাস্তু খান।
আরাস্তু খানই এ বিষয়ে আমাদের মাতৃভূমির সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দখলের ভেতরের গল্প আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন ব্যাংকটির তৎকালীন দুজন পরিচালক, দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া এক ব্যক্তি। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গেও কথা বলেছে আমাদের মাতৃভূমি।
এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছিল ‘“এই, আপনারা কারা”, এটি একটি ব্যাংক দখলের গল্প’ শিরোনামে। তাতে তুলে ধরা হয় যে কীভাবে এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের বিষয়টি ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রধান খবর করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে “শান্তিপূর্ণ” বদল’। শান্তিপূর্ণ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কারণ, সেটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের বক্তব্য। এই ‘শান্তিপূর্ণ’ যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তা-ই বলা হয় উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের খবর পেয়ে সেদিন এই প্রতিবেদককে আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছিল র্যাডিসনে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা পথ আটকান। পরিচয় দেওয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভার খবর সংগ্রহে যাওয়ার কথা বলা হলে নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছিলেন, কোনো সাংবাদিকের সেখানে যাওয়ার অনুমোদন নেই।
এই বৈঠক যে ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলেন না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এ বিষয়ে তখন ‘ভয়ে’ কোনো তথ্য দেননি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই আমাদের মাতৃভূমি কথা বলেছিল। অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তারাও শুধু ইসলামী ব্যাংকে বদলের খবর প্রকাশ করেছিল।
ডিজিএফআই ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। তখন পত্রিকার প্রথম সংস্করণ ছাপার প্রস্তুতি চলছিল। তাঁরা ছাপাখানায় প্রবেশ করে পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায় অবস্থান করেন। ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে, যেখানে আমাদের মাতৃভূমির সম্পাদক মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও তিনি দেখা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ডিজিএফআই সদস্যরা ছাপাখানা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেক বিলম্বে সেদিন ছাপা শুরু হয়।
টাকা ফেরত চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অস্বীকৃতির পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আরাস্তু খানের বাসায় যান সাইফুল আলম। তিনি তাঁকে (আরাস্তু খান) ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপরই ২৬ এপ্রিল (২০১৮) আরাস্তু খান পদত্যাগ করেন।
পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পরের দিন আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে মালিকানা বদলের নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য বলা হয়। এই প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংকের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে এস আলমের ভূমিকা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরের দিন (৭ জানুয়ারি ২০১৭) আমাদের মাতৃভূমির প্রথম পাতায় ‘জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়।
আমাদের মাতৃভূমি এরপর নিয়মিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আমাদের মাতৃভূমির প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’। এই প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্য জানতে আমাদের মাতৃভূমির পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন, তখন এসব কাজে ডিজিএফআইয়ের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। যদি জড়িত থেকেও থাকেন, তাঁরা এখন কেউ দায়িত্বরত নেই।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি র্যাডিসন হোটেলে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এস আলম গ্রুপ সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে তিন বছরের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি দেড় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর আরাস্তু খানকে কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে সরকার। সে সময় ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম। চেয়ারম্যান পদে আরাস্তু খানকেই রাখা হয়। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বছরের শেষের দিকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব নেন।
এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শুরুর দিকে সরাসরি ঋণ নেয়নি। তবে ইসলামী ব্যাংক তাদের (এস আলম) মালিকানায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা জমা রাখে। এই ব্যাংকগুলো সংকটে ছিল। সেখানে টাকা রাখা কোনো ভালো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ছিল না।
সেই আমানতের মেয়াদ ছিল তিন মাস। তবে বছর পার হলেও টাকা ফেরত পায়নি ইসলামী ব্যাংক। এ নিয়ে আরাস্তু খানের সঙ্গে সাইফুল আলমের কথা-কাটাকাটি হয়।আরাস্তুর বাসায় গিয়ে এস আলম বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন’
ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ডিজিএফআই। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান তাঁরা। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডিজিএফআই প্রযোজিত’ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিতে নিজেদের লোক নিয়োগ করা শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকে আগে থেকে কর্মরত পছন্দের কর্মীদের বসানো হয় বড় পদে।
তখন দুটি বিষয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো, ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কয়েকটি ব্যাংককে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়া।
একপর্যায়ে সাইফুল আলম আরাস্তু খানের বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন (আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’ এরপরই পদত্যাগ করেন আরাস্তু খান।
আরাস্তু খানই এ বিষয়ে আমাদের মাতৃভূমির সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দখলের ভেতরের গল্প আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন ব্যাংকটির তৎকালীন দুজন পরিচালক, দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া এক ব্যক্তি। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গেও কথা বলেছে আমাদের মাতৃভূমি।
এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছিল ‘“এই, আপনারা কারা”, এটি একটি ব্যাংক দখলের গল্প’ শিরোনামে। তাতে তুলে ধরা হয় যে কীভাবে এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের বিষয়টি ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রধান খবর করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে “শান্তিপূর্ণ” বদল’। শান্তিপূর্ণ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কারণ, সেটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের বক্তব্য। এই ‘শান্তিপূর্ণ’ যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তা-ই বলা হয় উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের খবর পেয়ে সেদিন এই প্রতিবেদককে আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছিল র্যাডিসনে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা পথ আটকান। পরিচয় দেওয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভার খবর সংগ্রহে যাওয়ার কথা বলা হলে নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছিলেন, কোনো সাংবাদিকের সেখানে যাওয়ার অনুমোদন নেই।
এই বৈঠক যে ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলেন না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এ বিষয়ে তখন ‘ভয়ে’ কোনো তথ্য দেননি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই আমাদের মাতৃভূমি কথা বলেছিল। অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তারাও শুধু ইসলামী ব্যাংকে বদলের খবর প্রকাশ করেছিল।
ডিজিএফআই ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। তখন পত্রিকার প্রথম সংস্করণ ছাপার প্রস্তুতি চলছিল। তাঁরা ছাপাখানায় প্রবেশ করে পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায় অবস্থান করেন। ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে, যেখানে আমাদের মাতৃভূমির সম্পাদক মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও তিনি দেখা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ডিজিএফআই সদস্যরা ছাপাখানা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেক বিলম্বে সেদিন ছাপা শুরু হয়।
টাকা ফেরত চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অস্বীকৃতির পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আরাস্তু খানের বাসায় যান সাইফুল আলম। তিনি তাঁকে (আরাস্তু খান) ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপরই ২৬ এপ্রিল (২০১৮) আরাস্তু খান পদত্যাগ করেন।

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরাস্তু খান :ফাইল ছবি
পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পরের দিন আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে মালিকানা বদলের নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য বলা হয়। এই প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংকের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে এস আলমের ভূমিকা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরের দিন (৭ জানুয়ারি ২০১৭) আমাদের মাতৃভূমির প্রথম পাতায় ‘জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়।
আমাদের মাতৃভূমি এরপর নিয়মিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আমাদের মাতৃভূমির প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’। এই প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্য জানতে আমাদের মাতৃভূমির পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন, তখন এসব কাজে ডিজিএফআইয়ের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। যদি জড়িত থেকেও থাকেন, তাঁরা এখন কেউ দায়িত্বরত নেই।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি র্যাডিসন হোটেলে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এস আলম গ্রুপ সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে তিন বছরের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি দেড় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর আরাস্তু খানকে কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে সরকার। সে সময় ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম। চেয়ারম্যান পদে আরাস্তু খানকেই রাখা হয়। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বছরের শেষের দিকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব নেন।
এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শুরুর দিকে সরাসরি ঋণ নেয়নি। তবে ইসলামী ব্যাংক তাদের (এস আলম) মালিকানায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা জমা রাখে। এই ব্যাংকগুলো সংকটে ছিল। সেখানে টাকা রাখা কোনো ভালো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ছিল না।
সেই আমানতের মেয়াদ ছিল তিন মাস। তবে বছর পার হলেও টাকা ফেরত পায়নি ইসলামী ব্যাংক। এ নিয়ে আরাস্তু খানের সঙ্গে সাইফুল আলমের কথা-কাটাকাটি হয়।আরাস্তুর বাসায় গিয়ে এস আলম বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন’
ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ডিজিএফআই। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান তাঁরা। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডিজিএফআই প্রযোজিত’ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিতে নিজেদের লোক নিয়োগ করা শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকে আগে থেকে কর্মরত পছন্দের কর্মীদের বসানো হয় বড় পদে।
তখন দুটি বিষয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো, ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কয়েকটি ব্যাংককে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়া।
একপর্যায়ে সাইফুল আলম আরাস্তু খানের বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন (আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’ এরপরই পদত্যাগ করেন আরাস্তু খান।
আরাস্তু খানই এ বিষয়ে আমাদের মাতৃভূমি সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দখলের ভেতরের গল্প আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন ব্যাংকটির তৎকালীন দুজন পরিচালক, দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া এক ব্যক্তি। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গেও কথা বলেছে আমাদের মাতৃভূমি ।
এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছিল ‘“এই, আপনারা কারা”, এটি একটি ব্যাংক দখলের গল্প’ শিরোনামে। তাতে তুলে ধরা হয় যে কীভাবে এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের বিষয়টি ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রধান খবর করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে “শান্তিপূর্ণ” বদল’। শান্তিপূর্ণ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কারণ, সেটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের বক্তব্য। এই ‘শান্তিপূর্ণ’ যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তা-ই বলা হয় উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের খবর পেয়ে সেদিন এই প্রতিবেদককে আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছিল র্যাডিসনে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা পথ আটকান। পরিচয় দেওয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভার খবর সংগ্রহে যাওয়ার কথা বলা হলে নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছিলেন, কোনো সাংবাদিকের সেখানে যাওয়ার অনুমোদন নেই।
এই বৈঠক যে ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলেন না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এ বিষয়ে তখন ‘ভয়ে’ কোনো তথ্য দেননি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই আমাদের মাতৃভূমি কথা বলেছিল। অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তারাও শুধু ইসলামী ব্যাংকে বদলের খবর প্রকাশ করেছিল।
ডিজিএফআই ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। তখন পত্রিকার প্রথম সংস্করণ ছাপার প্রস্তুতি চলছিল। তাঁরা ছাপাখানায় প্রবেশ করে পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায় অবস্থান করেন। ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে, যেখানে আমাদের মাতৃভূমির সম্পাদক মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও তিনি দেখা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ডিজিএফআই সদস্যরা ছাপাখানা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেক বিলম্বে সেদিন ছাপা শুরু হয়।
টাকা ফেরত চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অস্বীকৃতির পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আরাস্তু খানের বাসায় যান সাইফুল আলম। তিনি তাঁকে (আরাস্তু খান) ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপরই ২৬ এপ্রিল (২০১৮) আরাস্তু খান পদত্যাগ করেন।
পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পরের দিন আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে মালিকানা বদলের নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য বলা হয়। এই প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংকের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে এস আলমের ভূমিকা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরের দিন (৭ জানুয়ারি ২০১৭) আমাদের মাতৃভূমির প্রথম পাতায় ‘জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়।
আমাদের মাতৃভূমি এরপর নিয়মিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আমাদের মাতৃভূমির প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’। এই প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্য জানতে আমাদের মাতৃভূমির পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন, তখন এসব কাজে ডিজিএফআইয়ের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। যদি জড়িত থেকেও থাকেন, তাঁরা এখন কেউ দায়িত্বরত নেই।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি র্যাডিসন হোটেলে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এস আলম গ্রুপ সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে তিন বছরের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি দেড় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর আরাস্তু খানকে কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে সরকার। সে সময় ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম। চেয়ারম্যান পদে আরাস্তু খানকেই রাখা হয়। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বছরের শেষের দিকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব নেন।
এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শুরুর দিকে সরাসরি ঋণ নেয়নি। তবে ইসলামী ব্যাংক তাদের (এস আলম) মালিকানায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা জমা রাখে। এই ব্যাংকগুলো সংকটে ছিল। সেখানে টাকা রাখা কোনো ভালো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ছিল না।
সেই আমানতের মেয়াদ ছিল তিন মাস। তবে বছর পার হলেও টাকা ফেরত পায়নি ইসলামী ব্যাংক। এ নিয়ে আরাস্তু খানের সঙ্গে সাইফুল আলমের কথা-কাটাকাটি হয়।আরাস্তুর বাসায় গিয়ে এস আলম বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন’
ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ডিজিএফআই। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান তাঁরা। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডিজিএফআই প্রযোজিত’ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিতে নিজেদের লোক নিয়োগ করা শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকে আগে থেকে কর্মরত পছন্দের কর্মীদের বসানো হয় বড় পদে।
তখন দুটি বিষয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো, ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কয়েকটি ব্যাংককে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়া।
একপর্যায়ে সাইফুল আলম আরাস্তু খানের বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন (আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’ এরপরই পদত্যাগ করেন আরাস্তু খান।
আরাস্তু খানই এ বিষয়ে আমাদের মাতৃভূমির সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দখলের ভেতরের গল্পআমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন ব্যাংকটির তৎকালীন দুজন পরিচালক, দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া এক ব্যক্তি। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গেও কথা বলেছে আমাদের মাতৃভূমি ।
এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছিল ‘“এই, আপনারা কারা”, এটি একটি ব্যাংক দখলের গল্প’ শিরোনামে। তাতে তুলে ধরা হয় যে কীভাবে এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের বিষয়টি ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রধান খবর করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে “শান্তিপূর্ণ” বদল’। শান্তিপূর্ণ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কারণ, সেটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের বক্তব্য। এই ‘শান্তিপূর্ণ’ যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তা-ই বলা হয় উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের খবর পেয়ে সেদিন এই প্রতিবেদককে আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছিল র্যাডিসনে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা পথ আটকান। পরিচয় দেওয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভার খবর সংগ্রহে যাওয়ার কথা বলা হলে নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছিলেন, কোনো সাংবাদিকের সেখানে যাওয়ার অনুমোদন নেই।
এই বৈঠক যে ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলেন না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এ বিষয়ে তখন ‘ভয়ে’ কোনো তথ্য দেননি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই আমাদের মাতৃভূমি কথা বলেছিল। অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তারাও শুধু ইসলামী ব্যাংকে বদলের খবর প্রকাশ করেছিল।
ডিজিএফআই ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। তখন পত্রিকার প্রথম সংস্করণ ছাপার প্রস্তুতি চলছিল। তাঁরা ছাপাখানায় প্রবেশ করে পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায় অবস্থান করেন। ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে, যেখানে আমাদের মাতৃভূমির সম্পাদক মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও তিনি দেখা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ডিজিএফআই সদস্যরা ছাপাখানা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেক বিলম্বে সেদিন ছাপা শুরু হয়।
টাকা ফেরত চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অস্বীকৃতির পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আরাস্তু খানের বাসায় যান সাইফুল আলম। তিনি তাঁকে (আরাস্তু খান) ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপরই ২৬ এপ্রিল (২০১৮) আরাস্তু খান পদত্যাগ করেন।
পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পরের দিন আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে মালিকানা বদলের নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য বলা হয়। এই প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংকের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে এস আলমের ভূমিকা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরের দিন (৭ জানুয়ারি ২০১৭) আমাদের মাতৃভূমির প্রথম পাতায় ‘জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়।
আমাদের মাতৃভূমি এরপর নিয়মিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আমাদের মাতৃভূমির প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’। এই প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্য জানতে আমাদের মাতৃভূমির পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন, তখন এসব কাজে ডিজিএফআইয়ের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। যদি জড়িত থেকেও থাকেন, তাঁরা এখন কেউ দায়িত্বরত নেই।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি র্যাডিসন হোটেলে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এস আলম গ্রুপ সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে তিন বছরের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি দেড় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর আরাস্তু খানকে কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে সরকার। সে সময় ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম। চেয়ারম্যান পদে আরাস্তু খানকেই রাখা হয়। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বছরের শেষের দিকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব নেন।
এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শুরুর দিকে সরাসরি ঋণ নেয়নি। তবে ইসলামী ব্যাংক তাদের (এস আলম) মালিকানায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা জমা রাখে। এই ব্যাংকগুলো সংকটে ছিল। সেখানে টাকা রাখা কোনো ভালো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ছিল না।
সেই আমানতের মেয়াদ ছিল তিন মাস। তবে বছর পার হলেও টাকা ফেরত পায়নি ইসলামী ব্যাংক। এ নিয়ে আরাস্তু খানের সঙ্গে সাইফুল আলমের কথা-কাটাকাটি হয়।আরাস্তুর বাসায় গিয়ে এস আলম বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন’
ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ডিজিএফআই। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমি র ছাপাখানায়। পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান তাঁরা। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডিজিএফআই প্রযোজিত’ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিতে নিজেদের লোক নিয়োগ করা শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকে আগে থেকে কর্মরত পছন্দের কর্মীদের বসানো হয় বড় পদে।
তখন দুটি বিষয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো, ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কয়েকটি ব্যাংককে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়া।
একপর্যায়ে সাইফুল আলম আরাস্তু খানের বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন (আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে)।’ এরপরই পদত্যাগ করেন আরাস্তু খান।
আরাস্তু খানই এ বিষয়ে আমাদের মাতৃভূমির সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দখলের ভেতরের গল্প আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন ব্যাংকটির তৎকালীন দুজন পরিচালক, দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া এক ব্যক্তি। তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গেও কথা বলেছে আমাদের মাতৃভূমি ।
এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছিল ‘“এই, আপনারা কারা”, এটি একটি ব্যাংক দখলের গল্প’ শিরোনামে। তাতে তুলে ধরা হয় যে কীভাবে এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের বিষয়টি ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারিআমাদের মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রধান খবর করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে “শান্তিপূর্ণ” বদল’। শান্তিপূর্ণ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কারণ, সেটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের বক্তব্য। এই ‘শান্তিপূর্ণ’ যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তা-ই বলা হয় উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের খবর পেয়ে সেদিন এই প্রতিবেদককে আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছিল র্যাডিসনে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা পথ আটকান। পরিচয় দেওয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভার খবর সংগ্রহে যাওয়ার কথা বলা হলে নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছিলেন, কোনো সাংবাদিকের সেখানে যাওয়ার অনুমোদন নেই।
এই বৈঠক যে ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলেন না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এ বিষয়ে তখন ‘ভয়ে’ কোনো তথ্য দেননি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই আমাদের মাতৃভূমি কথা বলেছিল। অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তারাও শুধু ইসলামী ব্যাংকে বদলের খবর প্রকাশ করেছিল।
ডিজিএফআই ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। তখন পত্রিকার প্রথম সংস্করণ ছাপার প্রস্তুতি চলছিল। তাঁরা ছাপাখানায় প্রবেশ করে পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায় অবস্থান করেন। ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে, যেখানে আমাদের মাতৃভূমির সম্পাদক মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও তিনি দেখা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ডিজিএফআই সদস্যরা ছাপাখানা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেক বিলম্বে সেদিন ছাপা শুরু হয়।
টাকা ফেরত চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অস্বীকৃতির পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আরাস্তু খানের বাসায় যান সাইফুল আলম। তিনি তাঁকে (আরাস্তু খান) ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপরই ২৬ এপ্রিল (২০১৮) আরাস্তু খান পদত্যাগ করেন।
পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পরের দিন আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে মালিকানা বদলের নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য বলা হয়। এই প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংকের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে এস আলমের ভূমিকা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরের দিন (৭ জানুয়ারি ২০১৭) আমাদের মাতৃভূমির প্রথম পাতায় ‘জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়।
আমাদের মাতৃভূমি এরপর নিয়মিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আমাদের মাতৃভূমির প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’। এই প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্য জানতে আমাদের মাতৃভূমির পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন, তখন এসব কাজে ডিজিএফআইয়ের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। যদি জড়িত থেকেও থাকেন, তাঁরা এখন কেউ দায়িত্বরত নেই।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি র্যাডিসন হোটেলে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এস আলম গ্রুপ সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে তিন বছরের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি দেড় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর আরাস্তু খানকে কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে সরকার। সে সময় ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম। চেয়ারম্যান পদে আরাস্তু খানকেই রাখা হয়। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বছরের শেষের দিকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব নেন।
এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শুরুর দিকে সরাসরি ঋণ নেয়নি। তবে ইসলামী ব্যাংক তাদের (এস আলম) মালিকানায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা জমা রাখে। এই ব্যাংকগুলো সংকটে ছিল। সেখানে টাকা রাখা কোনো ভালো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ছিল না।
সেই আমানতের মেয়াদ ছিল তিন মাস। তবে বছর পার হলেও টাকা ফেরত পায়নি ইসলামী ব্যাংক। এ নিয়ে আরাস্তু খানের সঙ্গে সাইফুল আলমের কথা-কাটাকাটি হয়।টি ব্যাংক দখলের গল্প’ শিরোনামে। তাতে তুলে ধরা হয় যে কীভাবে এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আকবর হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের বিষয়টি ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রধান খবর করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে “শান্তিপূর্ণ” বদল’। শান্তিপূর্ণ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কারণ, সেটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারের বক্তব্য। এই ‘শান্তিপূর্ণ’ যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তা-ই বলা হয় উদ্ধৃতিচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের খবর পেয়ে সেদিন এই প্রতিবেদককে আমাদের মাতৃভূমি কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছিল র্যাডিসনে। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা পথ আটকান। পরিচয় দেওয়া এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভার খবর সংগ্রহে যাওয়ার কথা বলা হলে নিরাপত্তাকর্মীরা বলেছিলেন, কোনো সাংবাদিকের সেখানে যাওয়ার অনুমোদন নেই।
এই বৈঠক যে ডিজিএফআই ‘প্রযোজিত’, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলেন না। এমনকি ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এ বিষয়ে তখন ‘ভয়ে’ কোনো তথ্য দেননি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই আমাদের মাতৃভূমি কথা বলেছিল। অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, তারাও শুধু ইসলামী ব্যাংকে বদলের খবর প্রকাশ করেছিল।
ডিজিএফআই ব্যাংক দখলের কাহিনি যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ৫ জানুয়ারি (২০১৭) রাতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা হাজির হয়েছিলেন আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায়। তখন পত্রিকার প্রথম সংস্করণ ছাপার প্রস্তুতি চলছিল। তাঁরা ছাপাখানায় প্রবেশ করে পরের দিনের পত্রিকা কী লেখা হচ্ছে, তা জানতে ও পড়তে চান। এই চাওয়া পূরণ না হলে সেই রাতে ছাপাখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের মাতৃভূমির ছাপাখানায় অবস্থান করেন। ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে, যেখানে আমাদের মাতৃভূমির সম্পাদক মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও তিনি দেখা করতে পারেননি। একপর্যায়ে ডিজিএফআই সদস্যরা ছাপাখানা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেক বিলম্বে সেদিন ছাপা শুরু হয়।
টাকা ফেরত চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অস্বীকৃতির পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আরাস্তু খানের বাসায় যান সাইফুল আলম। তিনি তাঁকে (আরাস্তু খান) ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপরই ২৬ এপ্রিল (২০১৮) আরাস্তু খান পদত্যাগ করেন।
পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পরের দিন আমাদের মাতৃভূমি লো কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে মালিকানা বদলের নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য বলা হয়। এই প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংকের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে এস আলমের ভূমিকা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরের দিন (৭ জানুয়ারি ২০১৭) আমাদের মাতৃভূমির প্রথম পাতায় ‘জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়।
আমাদের মাতৃভূমি এরপর নিয়মিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আমাদের মাতৃভূমির প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’। এই প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।
ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্য জানতে আমাদের মাতৃভূমির পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আমাদের মাতৃভূমিকে বলেছেন, তখন এসব কাজে ডিজিএফআইয়ের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। যদি জড়িত থেকেও থাকেন, তাঁরা এখন কেউ দায়িত্বরত নেই।
২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি র্যাডিসন হোটেলে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এস আলম গ্রুপ সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে তিন বছরের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি দেড় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর আরাস্তু খানকে কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে সরকার। সে সময় ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এস আলম। চেয়ারম্যান পদে আরাস্তু খানকেই রাখা হয়। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বছরের শেষের দিকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব নেন।
এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শুরুর দিকে সরাসরি ঋণ নেয়নি। তবে ইসলামী ব্যাংক তাদের (এস আলম) মালিকানায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা জমা রাখে। এই ব্যাংকগুলো সংকটে ছিল। সেখানে টাকা রাখা কোনো ভালো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ছিল না।
সেই আমানতের মেয়াদ ছিল তিন মাস। তবে বছর পার হলেও টাকা ফেরত পায়নি ইসলামী ব্যাংক। এ নিয়ে আরাস্তু খানের সঙ্গে সাইফুল আলমের কথা-কাটাকাটি হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























