ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শনির আখড়ায় সাংবাদিক এস. এম. কামাল পারভেজ ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি পিএসজির ৪৩ গোল, বায়ার্নের ৪২—চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস নরসিংদী বৃষ্টির মধ্যে হাঁটু পানির নিচে সড়ক ঢালাই, এলাকাবাসীর ক্ষোভ কালুখালী উপজেলার পেঁয়াজ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ধলতা’ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন নিজের দোকান ভাঙচুর করে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর অভিযোগ, হাট ইজারাদারের সংবাদ সম্মেলন মিরপুরে নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, রাজউকের অথরাইজ অফিসার মাসুক আহমেদ এবং ইমারত পরিদর্শক মোহনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ! পিএসএলের ফাইনালে খেলবেন নাহিদ, তামিমকে ধন্যবাদ জানাল পেশোয়ার শ্রীপুরে প্রধান শিক্ষকই কোচিং ব্যবসায়ী, সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার আড়ালে বাণিজ্য! পিআইও’র বিরুদ্ধে প্রকল্পের মাটি ভরাটের টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগ ন্যায়বিচারের জয়: চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেলেন মনির হাওলাদার, উচ্ছ্বাসে ভাসছে আমখোলা ইউনিয়ন

কোটালীপাড়ার পিআইও এইচ এম আনসারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম আনসার–এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ উত্তোলন কিংবা বিল ছাড় করতে নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পভেদে ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ “অফিস খরচ” বা অনানুষ্ঠানিক খাতে কেটে রাখা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, “প্রকল্প শেষ করার পর বিল নিতে গেলে পুরো টাকা পাওয়া যায় না। বিভিন্ন খাতে কেটে রাখা হয়।”

আরেক জনপ্রতিনিধির দাবি, “কাজ ঠিকমতো করলেও নির্দিষ্ট অংশ দিতে হয়, না দিলে বিল পেতে সমস্যা হয়।”

কোটালীপাড়া উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি টিআর ও কাবিখা প্রকল্প নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কিছু প্রকল্প বাস্তবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, প্রকল্প সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে যোগসাজশে অর্থ বণ্টন হয়েছে, শ্রমভিত্তিক প্রকল্প হলেও প্রকৃত শ্রমিকরা পূর্ণ সুবিধা পাননি এবং কাগজে-কলমে কাজ দেখানো হলেও মাঠে অনেক প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাগজে কাজ হয়, কিন্তু মাঠে আমরা অনেক সময় তার কোনো চিহ্ন দেখি না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, সংস্কার এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সময়ে যে সরকারি বরাদ্দ আসে, তার একটি বড় অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকল্প তালিকা জমা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান নিম্নমানের, আবার কোথাও কাজই হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এইচ এম আনসারের বিরুদ্ধে নিজের নামে ও আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢाका, বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে। বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও তার নামে বা সংশ্লিষ্টদের নামে সম্পদের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল ও সরকারি রেকর্ড বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

এতসব অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন বাসিন্দা বলেন, “অভিযোগ বহুদিনের, কিন্তু কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এইচ এম আনসারের সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং, নিয়মিত অডিট, প্রকল্প তথ্য প্রকাশ এবং সামাজিক নিরীক্ষা চালু করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শনির আখড়ায় সাংবাদিক এস. এম. কামাল পারভেজ ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি

কোটালীপাড়ার পিআইও এইচ এম আনসারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম আনসার–এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ উত্তোলন কিংবা বিল ছাড় করতে নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পভেদে ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ “অফিস খরচ” বা অনানুষ্ঠানিক খাতে কেটে রাখা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, “প্রকল্প শেষ করার পর বিল নিতে গেলে পুরো টাকা পাওয়া যায় না। বিভিন্ন খাতে কেটে রাখা হয়।”

আরেক জনপ্রতিনিধির দাবি, “কাজ ঠিকমতো করলেও নির্দিষ্ট অংশ দিতে হয়, না দিলে বিল পেতে সমস্যা হয়।”

কোটালীপাড়া উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি টিআর ও কাবিখা প্রকল্প নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কিছু প্রকল্প বাস্তবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, প্রকল্প সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে যোগসাজশে অর্থ বণ্টন হয়েছে, শ্রমভিত্তিক প্রকল্প হলেও প্রকৃত শ্রমিকরা পূর্ণ সুবিধা পাননি এবং কাগজে-কলমে কাজ দেখানো হলেও মাঠে অনেক প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাগজে কাজ হয়, কিন্তু মাঠে আমরা অনেক সময় তার কোনো চিহ্ন দেখি না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, সংস্কার এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সময়ে যে সরকারি বরাদ্দ আসে, তার একটি বড় অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকল্প তালিকা জমা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান নিম্নমানের, আবার কোথাও কাজই হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এইচ এম আনসারের বিরুদ্ধে নিজের নামে ও আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢाका, বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে। বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও তার নামে বা সংশ্লিষ্টদের নামে সম্পদের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল ও সরকারি রেকর্ড বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

এতসব অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন বাসিন্দা বলেন, “অভিযোগ বহুদিনের, কিন্তু কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এইচ এম আনসারের সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং, নিয়মিত অডিট, প্রকল্প তথ্য প্রকাশ এবং সামাজিক নিরীক্ষা চালু করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।