এস. এম. দেলোয়ার হোসেন, পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা—তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
স্থানীয় অভিযোগ ও পুরনো নথিপত্র অনুযায়ী, তিনি এর আগে গলাচিপা উপজেলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল ছাড়ের সময় ঠিকাদারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনায় ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগও করেন বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে ভোলা জেলায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে অনিয়ম, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা গ্রহণ এবং একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠে আসে। স্থানীয় সূত্র দাবি করে, ত্রাণ বরাদ্দ বণ্টন ও জিআর (Gratuitous Relief) ফাইল ব্যবস্থাপনায় কমিশন আদায়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, যদিও এসব অভিযোগের স্বপক্ষে সরকারি পর্যায়ের যাচাই প্রকাশিত হয়নি।
পটুয়াখালীতে বদলির পরও একই ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকার অভিযোগ তুলেছেন কিছু স্থানীয় মহল। তাদের দাবি অনুযায়ী, বদলি প্রক্রিয়াতেও প্রভাবশালী মহল ও আর্থিক লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে—তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের তুলনায় তার ও পরিবারের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যার মধ্যে জমি, যানবাহন ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বৈধ উৎস যাচাইয়ের কোনো সরকারি প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে অতীতের কিছু অভিযোগে রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত সুবিধা প্রদানের কথাও বলা হলেও সেগুলোও মূলত স্থানীয় অভিযোগ ও সূত্রনির্ভর তথ্য।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়ে প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















